সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৮৪%বাতাস ১১ কিমি/ঘ

হাজার ছাড়িয়েছে সাপে কাটা রোগী, আতঙ্কের নাম ‘রাসেলস ভাইপার’

রাজশাহী অঞ্চলে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা। চলতি বছর হাজারেরও বেশি সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। মারা গেছেন ৩৮ জন। শুধু তাই নয়, রাসেলস ভাইপারের আক্রমণ বেড়েছে চারগুণ। সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসায় বিশেষায়িত ওয়ার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

পরিবেশ

রাজশাহী অঞ্চলে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা। চলতি বছর হাজারেরও বেশি সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। মারা গেছেন ৩৮ জন। শুধু তাই নয়, রাসেলস ভাইপারের আক্রমণ বেড়েছে চারগুণ। সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসায় বিশেষায়িত ওয়ার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর মে থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত সাপে কাটা রোগী বেশি হাসপাতালে ভর্তি হন। চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ১৬৭ জন রোগী। এর মধ্যে বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত ছিলেন ২৪৭ জন। অবিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৯২০ জন। আর মারা গেছেন ৩৮ জন রোগী।

গতবছর হাসপাতালটিতে ভর্তি হন এক হাজার ৩৭০ জন সাপে কাটা রোগী। এরমধ্যে বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত ছিলেন ৩১৪ জন। অবিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন এক হাজার ৩৭০ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ৪০ জনের। বিশেষ করে রাসেলস ভাইপার, কেউটে ও গোখরা সাপের কামড়েই বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। শুধু রাসেলস ভাইপারের কামড়ে মারা গেছেন ১০ জন।

তথ্য বলছে, গত আট বছরে রাসেলস ভাইপারের আক্রান্তের হার বেড়েছে চারগুণ। ২০১৮ সালে রামেকে রাসেলস ভাইপারের আক্রমণের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ২১ জন। ২০১৯ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৮ জন। ২০২০ সালে রামেকে রাসেলস ভাইপারের কামড় খেয়ে ভর্তি হন ৩৫ জন। ২০২১ সালে ভর্তির সংখ্যা ৩৭ জন। আর ২০২২ সালে ৩১ জন ভর্তি হন। ২০২৩ সালে ভর্তি হন ৫০ জন। ২০২৪ সালে রাসেলস ভাইপারের আক্রমণের শিকার হয়ে ৮৬ জন ভর্তি হন। আর চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভর্তি হন ৫৩ জন। এই সাপের কামড়ে মৃত্যু হয়েছে গড়ে ২৩ শতাংশ।

সাপের আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় চলতি মাসেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীদের জন্য ১২ শয্যার একটি বিশেষায়িত ওয়ার্ড চালু হতে যাচ্ছে। সেখানে থাকবে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও নার্স এবং পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম সরবরাহ। হাসপাতালের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের সম্প্রসারিত অংশে সাপে কাটা রোগীদের জন্য ওয়ার্ড চালু করা হচ্ছে। এই ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকবেন হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবু শাহীন মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।

আরও পড়ুন: সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে 'অ্যান্টিভেনম' রাখার নির্দেশমরার পরও যেসব সাপ কামড়াতে পারেনামাজ পড়ছিলেন গৃহবধূ, প্রাণ গেলো সাপের কামড়েরাতে সাপ হয়ে কামড়াতে যান স্ত্রী, প্রশাসনের কাছে স্বামীর অভিযোগচাঁদপুরে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পরও সাপে কাটা রোগীর মৃত্যু

আবু শাহীন মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, এরইমধ্যে এই ওয়ার্ডের জন্য আট নার্স বাছাই করা হয়েছে। ওয়ার্ডের চিকিৎসক ও নার্সদের স্নেক বাইটের ন্যাশনাল গাইড অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশপাশি কীভাবে রোগীদের ম্যানেজ করা যায়, সেটি তারা শিখবেন। এতে করে সাপে কাটা রোগীরা আলাদা যত্ন পাবের। দ্রুত তারা সুস্থ হয়ে উঠবেন।

সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে জানিয়ে এই চিকিৎসক বলেন, 'বিশেষায়িত ওয়ার্ড চালু হলে সমন্বিত চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ হবে। এতে মৃত্যুহার অনেকটা কমে আসবে। আমরা এখন সাপের ধরন শনাক্ত করতে পারছি। কারণ মানুষ সাপ মেরে অথবা ছবি দেখে চিনতে পারছেন। ফলে দ্রুত চিকিৎসা করানো যাচ্ছে।'

সাপের আক্রমণ থেকে বাঁচতে রাতে অবশ্যই মশারি টাঙিয়ে ঘুমানো, মাঠে কাজের সময় গামবুট ব্যবহার, বাইরে চলাফেরায় টর্চলাইট ও লাঠি রাখা এবং আবর্জনা পরিষ্কার করার সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

চারঘাট উপজেলার কৃষক আমিরুল ইসলাম। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, 'ধানক্ষেতে কাজ করার সময় হঠাৎ রাসেলস ভাইপার সাপে কামড় দেয়। প্রথমে বুঝতে পারিনি। পরে শরীর ফুলতে শুরু করলে আমাকে হাসপাতালে আনা হয়। এখানে দ্রুত চিকিৎসা পেয়েছি, তাই বেঁচে গেছি।'

বাঘা উপজেলার গৃহবধূ রহিমা খাতুন বলেন, 'রাতে ঘুমানোর সময় বিছানায় উঠে কেউটে সাপে কামড় দেয়। ভয় পেয়ে পরিবারের লোকজন দ্রুত হাসপাতালে আনে। এখন অনেকটা সুস্থ আছি। তবে এর আগেও আমাদের গ্রামে দুজন এই সাপের কামড়ে মারা গেছেন।'

সাপের আক্রমণের শিকার কলেজছাত্র রাজিব হোসেন বলেন, 'বন্ধুদের সঙ্গে নদীর ধারে বসেছিলাম। হঠাৎ পায়ে সাপ কামড় দেয়। হাসপাতালে আনার পর স্যালাইন আর ওষুধ দেয়। পরে সুস্থ হই। তবে আমাদের এলাকায় প্রায়ই রাসেলস ভাইপারের উপদ্রব দেখা যায়। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের দেখা উচিত।'

সারাদেশে যে পরিমাণ সাপের আক্রমণের শিকার হন, তার অর্ধেক রোগী রাজশাহী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা নেন বলে জানান হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফএম শামীম আহমেদ।

তিনি বলেন, 'আমরা কোম্পানির কাছে অর্ডার দিয়েও ওষুধ পাচ্ছি না। ফলে অ্যান্টিভেনম সংকট আমাদের থেকে যাচ্ছে। এখন এর ওর কাছে ধার চেয়ে অ্যান্টিভেনম সংগ্রহ করতে হচ্ছে।'

পরিচালক বলেন, 'রোগী যেহেতু বেশি হচ্ছে তাই আমরা এখানে একটি বিষেশায়িত ওয়ার্ড চালু করবো। চলতি মাসেই এটি চালু করা হবে। এখানে সুস্থতার হার খুব বেশি। আমরা চাই, সবাই সুস্থ হয়ে ফিরুক।'

'তবে কিছু রোগী ওঝার কাছে যাওয়া ও হাসপাতালে আসতে দেরি হওয়ার কারণেই মৃত্যু হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি যাতে ভালো কিছু করা যায়', যোগ করেন এফএম শামীম আহমেদ।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

জৈব

ঘাসের বোর্ড বানানো Plantd কারখানার বর্জ্য থেকে বায়োচার বানিয়ে বিক্রি করছে চাষিদের কাছে

নর্থ ক্যারোলাইনার নির্মাণসামগ্রী প্রতিষ্ঠান Plantd, যাদের উদ্বৃত্ত ঘাসের জৈববস্তু সরাতে মাসে ১৩ হাজার ডলার খরচ হচ্ছিল, সেই বর্জ্য থেকে বায়োচার তৈরির একটি পণ্যলাইন চালু করেছে এবং মাটির উন্নয়ন উপকরণ হিসেবে চাষিদের কাছে বিক্রি করছে।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২৭ আগস্ট ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

বাতাস ও পানি থেকে এক অনুঘটকে অ্যামোনিয়া বানাতে চায় অস্ট্রেলিয়ার Facet Amtech

নাইট্রোজেন সারের মূল উপাদান অ্যামোনিয়া আলাদা হাইড্রোজেন প্ল্যান্ট ছাড়াই সরাসরি বাতাস ও পানি থেকে তৈরির অনুঘটক পাইলট করতে Facet Amtech ৩০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারের সিড বিনিয়োগ তুলেছে; তাদের লক্ষ্য কার্বন মূল্য ছাড়াই খরচে জীবাশ্মভিত্তিক অ্যামোনিয়াকে হারানো।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২৬ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
জৈব

সিলিকেট পাথরকে এক মৌসুমে গলা কার্বন-শোষক সারে বদলাতে ৫৪ লাখ ডলার তুলল Mafix

Stanford থেকে বেরিয়ে আসা Mafix ৫৪ লাখ ডলারের প্রি-সিড বিনিয়োগ তুলেছে সিমেন্ট চুল্লিতে চুনাপাথরের সঙ্গে সিলিকেট পাথর গরম করে এমন একটি খনিজ বানাতে, যা খেতে এক মৌসুমেই ক্ষয়ে যায়, কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ করে এবং উদ্ভিদের গ্রহণযোগ্য সিলিকন ও ক্ষারত্ব জোগায়।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২০ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()