সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৫°বৃষ্টির সম্ভাবনাআর্দ্রতা ৯৫%বাতাস কিমি/ঘবৃষ্টি ০.৭ মিমি

‘গুজব পাখি’ প্যাঁচা

বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে প্যাঁচা নিয়ে কিছু ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত রয়েছে। আছে কিছু গুজবও। তারা মনে করেন, লক্ষ্মীপ্যাঁচার ডাক অশুভ কিছুর বাহক। রাতে যে বাড়ির পাশে এ প্যাঁচা ডাকে, সে বাড়িতে হাজির হয় মৃত্যুদূত। কয়েক দিনের মধ্যেই ওই বাড়িতে মৃত্যু হয় কারও কিংবা ঘটে দুর্ঘটনা।

পরিবেশ

বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে প্যাঁচা নিয়ে কিছু ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত রয়েছে। আছে কিছু গুজবও। তারা মনে করেন, লক্ষ্মীপ্যাঁচার ডাক অশুভ কিছুর বাহক। রাতে যে বাড়ির পাশে এ প্যাঁচা ডাকে, সে বাড়িতে হাজির হয় মৃত্যুদূত। কয়েক দিনের মধ্যেই ওই বাড়িতে মৃত্যু হয় কারও কিংবা ঘটে দুর্ঘটনা।

আবার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের বিশ্বাস মতে, লক্ষ্মীর বাহক এই প্যাঁচার নাম দিয়েছে লক্ষ্মীপ্যাঁচা। তাদের কাছে এ পাখি পূজনীয়। কিন্তু বিজ্ঞানীদের মতে, প্যাঁচা শুভ কিংবা অশুভ কোনোটিই নয়। অন্যান্য প্রাণীর মতো তারাও প্রাণী জগতের সদস্য।

প্রাচীনকাল থেকে পাখিদের মধ্যে প্যাঁচা নিয়েই বেশি কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। তার একটি হলো- অন্ধকার রাতে প্যাঁচার মুখোমুখি হলে গায়ে থুথু ছিটাতে হয়। আবার কোনো এলাকায় অশুভ বাতাস ছাড়াতে লোহাজাতীয় কোনো বস্তু চুলোয় দিয়ে ছ্যাঁকা দেয়া হয় গায়ে। কোনো কোনো জায়গায় অশুভ মনে করে পুড়িয়ে মারা হয় প্যাঁচা। কিছু ধর্মে ভাগ্য উন্নয়নের আশায় 'প্যাঁচাবলি' দিয়ে প্যাঁচার দেহের বিভিন্ন অংশ তাবিজে করে গলায় পরানো হয় ব্যক্তির।

উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া ও এশিয়াটিক সোসাইটি জার্নালসহ কয়েকটি প্রবন্ধে প্যাঁচার জীবনচক্র ও এই প্রাণীর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।

বিশ্বজুড়ে শতাধিক প্রজাতির প্যাঁচার দেখা মিললেও বাংলাদেশে দেখা পাওয়া যায় ১০-১৫ প্রজাতির প্যাঁচা। এর মধ্যে হুতুম, লক্ষ্মী, নিমখোর, ভুতুম, রূপালি, পিশাচ, জমদূত, গুহা, হিমহিম, বানরমুখো ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উইকিপিডিয়া বলছে, প্যাঁচার ঠোঁটের রঙ মাংসল সাদা, পা ও আঙুল মাংসল। শরীরের তুলনায় মুখমণ্ডল অনেকাংশেই বড় হয়ে থাকে। প্যাঁচার মাথা বড়, মুখমণ্ডল চ্যাপ্টা এবং মাথার সম্মুখদিকে চোখ থাকে। অন্যান্য শিকারি পাখি ঈগল ও বাজের ন্যায় এর লম্বা, শক্তিশালী পায়ের থাবার সঙ্গে তীক্ষ্ণ নখ রয়েছে।

উইকিপিডিয়া আরও বলছে, নিশাচর ও শিকারি পাখি হিসেবে প্যাঁচা গোধূলীলগ্নে সক্রিয় হয়ে উঠে। মাঝে মাঝে দিনের বেলায়ও এদের দেখা মেলে। সাধারণত বনভূমিতে এদের দেখা যায়। শিকার নিয়ে কোনো কাঠ বা খুঁটির উপরিভাগে বসতে পছন্দ করে এরা। খুবই নিঃশব্দে এরা পথ চলতে পারে এবং এদের শ্রবণশক্তি খুবই তীক্ষ্ণ। শুধু শব্দ দ্বারা চালিত হয়ে এরা নিরেট অন্ধকারে শিকার ধরতে পারে। সামান্য মাথা ঘোরালে প্যাঁচা অনুচ্চ শব্দ যেমন- ইঁদুরের শস্যদানা চিবানোর আওয়াজও শুনতে পায়। এর কারণ হচ্ছে মাথার গড়ন রূপান্তরিত হওয়ার জন্য প্যাঁচার দুই কানে সামান্য আগে পরে শব্দ পৌঁছায়।

এক গবেষণায় প্যাঁচার ব্যতিক্রমধর্মী বৈশিষ্ট্যের মধ্যে দেখা গেছে, আকৃতিতে পুরুষ প্যাঁচার চেয়ে নারী প্যাঁচা একটু বড় হয়। গাছের কোটরে এদের বসবাস। আবার উঁচু মগডাল কিংবা পরিত্যক্ত বাড়িও প্যাঁচা পছন্দ করে থাকে। এরা দুই কানে দুই রকম শব্দতরঙ্গ শনাক্ত করতে পারে। দিনের উজ্জ্বল আলো সহ্য করতে পারে না বিধায় প্যাঁচা খুব ভোর ও ঘন সন্ধ্যায় শিকারে বের হয়।

আবার অর্থনীতিতে প্যাঁচা অনেক উপকারী ভূমিকা পালন করে। তারা ফসলের প্রধান শত্রু ইঁদুর খেয়ে ফসলকে রক্ষা করে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মঞ্জুরুল কিবরিয়া জাগো নিউজকে বলেন, 'প্যাঁচা পরিবেশবান্ধব একটি প্রাণী। প্যাঁচা ক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত শুভ-অশুভ কোনো বিশ্বাসই সঠিক নয়। প্রাণিজগতের সবকিছুই বাস্তুতাত্ত্বিক ভারসাম্য প্রয়োজনে সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের মুসলিম ধর্ম মতে, আল্লাহ সবকিছু মানুষের প্রয়োজনেই সৃষ্টি করেছেন। বাংলাদেশে প্যাঁচা বিপন্ন প্রাণী নয়; তবে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন দ্বারা সংরক্ষিত। তবে আমাদের অবহেলা হলে এটিও বিপন্ন প্রাণির তালিকায় পড়ে যাবে। শুধু প্যাঁচা নয় সব প্রাণীকে মানুষের প্রয়োজনেই বাঁচিয়ে রাখতে হবে।'

তিনি আরও বলেন, 'প্যাঁচার অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের ফসলি ক্ষেতে এক ধরনের ডাল পুতে দেয়া হয় যাতে বিভিন্ন পাখি বসে ফসলের জন্য ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফেলতে পারে। এই ডালে বসেই রাত্রে পেঁচা ফসলের জন্য ক্ষতিকর ইঁদুর খেয়ে ফেলে। এই কারণে অনেক টাকার ফসল রক্ষা পায়। আবার ফসল পরিপক্ব হলে ক্ষেতের মাঝখানে কাকতাড়ুয়া বসানো হয় যাতে পাখি বসে আবার ফসল খেতে না পারে।'

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

জৈব

ঘাসের বোর্ড বানানো Plantd কারখানার বর্জ্য থেকে বায়োচার বানিয়ে বিক্রি করছে চাষিদের কাছে

নর্থ ক্যারোলাইনার নির্মাণসামগ্রী প্রতিষ্ঠান Plantd, যাদের উদ্বৃত্ত ঘাসের জৈববস্তু সরাতে মাসে ১৩ হাজার ডলার খরচ হচ্ছিল, সেই বর্জ্য থেকে বায়োচার তৈরির একটি পণ্যলাইন চালু করেছে এবং মাটির উন্নয়ন উপকরণ হিসেবে চাষিদের কাছে বিক্রি করছে।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২৭ আগস্ট ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

বাতাস ও পানি থেকে এক অনুঘটকে অ্যামোনিয়া বানাতে চায় অস্ট্রেলিয়ার Facet Amtech

নাইট্রোজেন সারের মূল উপাদান অ্যামোনিয়া আলাদা হাইড্রোজেন প্ল্যান্ট ছাড়াই সরাসরি বাতাস ও পানি থেকে তৈরির অনুঘটক পাইলট করতে Facet Amtech ৩০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারের সিড বিনিয়োগ তুলেছে; তাদের লক্ষ্য কার্বন মূল্য ছাড়াই খরচে জীবাশ্মভিত্তিক অ্যামোনিয়াকে হারানো।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২৬ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
জৈব

সিলিকেট পাথরকে এক মৌসুমে গলা কার্বন-শোষক সারে বদলাতে ৫৪ লাখ ডলার তুলল Mafix

Stanford থেকে বেরিয়ে আসা Mafix ৫৪ লাখ ডলারের প্রি-সিড বিনিয়োগ তুলেছে সিমেন্ট চুল্লিতে চুনাপাথরের সঙ্গে সিলিকেট পাথর গরম করে এমন একটি খনিজ বানাতে, যা খেতে এক মৌসুমেই ক্ষয়ে যায়, কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ করে এবং উদ্ভিদের গ্রহণযোগ্য সিলিকন ও ক্ষারত্ব জোগায়।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২০ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()