সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৫°বৃষ্টির সম্ভাবনাআর্দ্রতা ৯৫%বাতাস কিমি/ঘবৃষ্টি ০.৭ মিমি

গবাদিপশুর শীতকালীন পরিচর্যা কেমন হবে?

মো. আনসারুজ্জামান সিয়াম

পরিবেশ

মো. আনসারুজ্জামান সিয়াম

বাংলাদেশে সাধারণত ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি মাস বেশি শীত থাকে। গবাদিপশু মানুষের মতো শীতের তীব্রতা প্রকাশ করতে পারে না। তবে পশুর শরীরের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যই তা প্রকাশ করে। আমরা শীতে মোটা কাপড়, জ্যাকেট এবং রাতে কম্বল পরিধান করি। কিন্তু অবলা প্রাণী হিসেবে তাদের প্রতি যত্ন নেওয়াটাও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।

শীতকালে সাধারণত শীতল হাওয়া বয় বেশি। এ ছাড়া এ সময় গবাদিপশুর তাপমাত্রা অনেক কমে যায়। এটি হাইপোথার্মিয়া নামে পরিচিত। শীতের সময়ে গবাদিপশু ও বাছুর নিউমোনিয়া এবং শ্বাসকষ্টে ভোগে বেশি। এ সময় অ্যালার্জির বিভিন্ন রকমের সংক্রমণ দেখা যায়। এ ছাড়া প্রাণী বিভিন্ন রকমের ব্যাকটেরিয়াল ও ভাইরাল রোগে ভুগে থাকে। যেমন- গলাফোলা রোগ, তড়কা রোগ, ল্যাম্পি স্ক্রিন ডিজিজ, ক্ষুরা রোগ ইত্যাদি।

গোয়ালঘর অর্থাৎ গরুর বাসস্থান সব সময় বাইরের বাতাস থেকে মুক্ত রাখতে হবে। খামারে ব্যাকটেরিয়াল ও ভাইরাল রোগ যেন বৃদ্ধি না পায় এ জন্য অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম সর্বদা চলমান রাখতে হবে। ঘরের ভেতরে যেন উষ্ণ গরম থাকে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে পাটের তৈরি বস্তা, কম্বল এবং গবাদিপশুর জন্য আধুনিক জ্যাকেট পাওয়া যায়; সেগুলো ব্যবহার করতে হবে। বেডিং উপাদান হিসেবে শুকনো খড় ব্যবহার করা যেতে পারে।

খামারের চারদিকে পলিথিন দিয়ে এমনভাবে ঢাকতে হবে, যেন কুয়াশা অথবা বাতাস সহজেই প্রবেশ করতে না পারে। এ সময় ফুটরুট ও লিভার ফ্লুক বেশি দেখতে পাওয়া যায়। তাই নিয়মিত ডিওয়ার্মিং ও ভ্যাক্সিনেশন করতে হবে। এ ছাড়া সার্বিক প্রয়োজনে রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ নেওয়া একান্ত জরুরি।

আরও পড়ুনখাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় কৃষিতে মনোযোগ বাড়াতে হবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও পরিবেশদূষণ

শীতকালে খাবার পানি গ্রহণ ক্ষমতা কমে যায় এবং প্রাণীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। খাবার পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে কুসুম গরম পানি দিতে হবে। এ সময় গবাদিপশুর এনার্জির পরিমাণ কমে যায়। তাই খৈল, ভুষি, গম ও চিটাগুড় ইত্যাদি খাওয়াতে হবে। এ ছাড়া ভিটামিন, জিংক, ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট সরবরাহ করতে হবে। উৎপাদন ক্ষমতা যেন কমে না যায়, তাই ভিটামিন ই, এ, ডি, বি কমপ্লেক্স দিতে হবে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ভিটামিন সি সরবরাহ করা যায়।

গর্ভবতী প্রাণীর ক্ষেত্রে সর্বদা খেয়াল রাখতে হবে। গর্ভধারণের শেষ ২-৩ মাস ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শে ক্যালসিয়াম, জিংক এবং ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট সরবরাহ করতে হবে। নয়তো পেটের বাচ্চা প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হবে এবং দুর্বল বাচ্চা জন্ম দেবে। এ ছাড়া ম্যাস্টাইটিস রোগের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে কি না সেটা লক্ষ্যণীয় বিষয়।

অন্যথায় চিকিৎসা খরচ বাড়ার পাশাপাশি দুধ উৎপাদন কমে যাবে। গর্ভবতী গাভিকে পর্যাপ্ত কাঁচা ঘাস দিতে হবে। অতিরিক্ত ইউরিয়া দিয়ে উৎপাদিত ঘাস পরিহার করতে হবে। নয়তো পাতলা পায়খানা হবে এবং শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত পানি খেতে দিতে হবে।

পরিশেষে শীতকালীন পরিচর্যাই পারে গবাদিপশুকে সুস্থ এবং স্বাভাবিক রাখতে। তাই শীতকালীন পরিচর্যার জন্য মালিককে সচেতন ও পরিচর্যামূলক মনোভাবাপন্ন হতে হবে। তাহলেই শীতের প্রকোপ থেকে বেঁচে যাবে নিরীহ প্রাণীগুলো।

লেখক: ৪র্থ বর্ষ, ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস অনুষদ, গণ বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

জৈব

ঘাসের বোর্ড বানানো Plantd কারখানার বর্জ্য থেকে বায়োচার বানিয়ে বিক্রি করছে চাষিদের কাছে

নর্থ ক্যারোলাইনার নির্মাণসামগ্রী প্রতিষ্ঠান Plantd, যাদের উদ্বৃত্ত ঘাসের জৈববস্তু সরাতে মাসে ১৩ হাজার ডলার খরচ হচ্ছিল, সেই বর্জ্য থেকে বায়োচার তৈরির একটি পণ্যলাইন চালু করেছে এবং মাটির উন্নয়ন উপকরণ হিসেবে চাষিদের কাছে বিক্রি করছে।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২৭ আগস্ট ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

বাতাস ও পানি থেকে এক অনুঘটকে অ্যামোনিয়া বানাতে চায় অস্ট্রেলিয়ার Facet Amtech

নাইট্রোজেন সারের মূল উপাদান অ্যামোনিয়া আলাদা হাইড্রোজেন প্ল্যান্ট ছাড়াই সরাসরি বাতাস ও পানি থেকে তৈরির অনুঘটক পাইলট করতে Facet Amtech ৩০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারের সিড বিনিয়োগ তুলেছে; তাদের লক্ষ্য কার্বন মূল্য ছাড়াই খরচে জীবাশ্মভিত্তিক অ্যামোনিয়াকে হারানো।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২৬ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
জৈব

সিলিকেট পাথরকে এক মৌসুমে গলা কার্বন-শোষক সারে বদলাতে ৫৪ লাখ ডলার তুলল Mafix

Stanford থেকে বেরিয়ে আসা Mafix ৫৪ লাখ ডলারের প্রি-সিড বিনিয়োগ তুলেছে সিমেন্ট চুল্লিতে চুনাপাথরের সঙ্গে সিলিকেট পাথর গরম করে এমন একটি খনিজ বানাতে, যা খেতে এক মৌসুমেই ক্ষয়ে যায়, কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ করে এবং উদ্ভিদের গ্রহণযোগ্য সিলিকন ও ক্ষারত্ব জোগায়।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২০ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()