শেরপুরের সীমান্তঘেঁষা গারো পাহাড়ের শাল-গজারি বনে একসময় বাঘ, ভালুক, হরিণ ও মেছোবাঘের বিচরণ ছিল, পাহাড়ি জনপদ মুখর থাকত বনমোরগ ও ময়ূরসহ নানা পাখির ডাকে। বনভূমি কমে যাওয়া, আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া আর মানুষের বসতি বাড়ায় সেসব প্রাণী এখন আর দেখা যায় না বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানিয়েছে মানবজমিন। রোববার (৪ অক্টোবর) বিশ্ব প্রাণী দিবস সামনে রেখে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।
নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার পাহাড়ি এলাকা নিয়ে এ চিত্র। নালিতাবাড়ীর পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আবদুল জলিল পত্রিকাটিকে বলেন, এ অঞ্চলের বনে একসময় বাঘ, ভালুক, হরিণ ও মেছোবাঘসহ নানা প্রাণী দেখা যেত, পাখিও ছিল প্রচুর। কিন্তু বন উজাড়, গাছ কাটা আর বসতির বিস্তারে এর অনেকগুলোই হারিয়ে গেছে।
তবে গারো পাহাড় একেবারে বন্যপ্রাণীশূন্য হয়নি। তিন উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ে এখন বুনো হাতির নিয়মিত বিচরণ আছে। খাবারের খোঁজে হাতির পাল পাহাড় থেকে লোকালয় ও কৃষিজমিতে নেমে আসে, এতে ফসলের ক্ষতি হয় এবং মানুষ ও হাতির মধ্যে সংঘাতও ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হাসেন মিয়া বলেন, পাহাড়ি এলাকায় প্রায়ই বুনো হাতি দেখা যায়, পাল লোকালয়ের কাছে চলে আসে; কৃষকের ফসল নষ্ট হচ্ছে, মানুষও আতঙ্কে থাকেন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, বনভূমি ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা করা না গেলে এখন যে প্রাণীগুলো টিকে আছে, সেগুলোও ভবিষ্যতে সংকটে পড়বে। তাঁদের দাবি, গারো পাহাড়ের অবশিষ্ট বন সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণীর নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র রক্ষা এবং মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত করতে দিবস পালনের আনুষ্ঠানিকতার বাইরে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।
ছবি: Ayman Nakib Badhan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: মানবজমিন





মন্তব্য
(০)