২০২৫ সালের মধ্যে ১ লাখ ৯২ হাজার হেক্টর ভূমিতে বনায়ন করা হবে জানিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেছেন, এর মধ্যে প্রায় ৫২ হাজার হেক্টর ম্যানগ্রোভ বাগান গড়ে তোলা হবে। এক লাখ ৪০ হাজার হেক্টর পাহাড়ি ও শাল বনাঞ্চল পুনঃবনায়ন করা হবে।
সোমবার (১৬ মে) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট আয়োজিত বিগত ছয় বছরে এসডিজি বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা বিষয়ক দ্বিতীয় জাতীয় সম্মেলনের সমান্তরাল অধিবেশন-২ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩১ হাজার হেক্টর ব্লক প্ল্যান্টেশন এবং প্রায় ২৪ হাজার হেক্টর ম্যানগ্রোভ প্ল্যান্টেশন করা হয়েছিল। ২০৩০ সালের মধ্যে বনাঞ্চলের লক্ষ্যমাত্রা ১৬ শতাংশ অর্জন করতে বনায়ন, পুনঃবনায়ন, পুনরুদ্ধার, এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সহযোগিতার মাধ্যমে দরিদ্র এবং বন-নির্ভর লোকদের সঙ্গে জড়িত বন ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সাম্প্রতিক কপ ২৬-এ, বাংলাদেশ অন্যান্য ১৪১টি দেশের মতো বন উজাড় বন্ধ করতে এবং বনায়ন বাড়াতে গ্লাসগো ঘোষণায় স্বাক্ষর করেছে।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় নিকট অতীতে বাস্তুতন্ত্র, জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ভূমিক্ষয় সংক্রান্ত বৈশ্বিক চাপের পরিবেশগত সমস্যা মোকাবিলার জন্য সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম এবং নীতিগত বিষয় বাস্তবায়ন করেছে। মন্ত্রণালয়ের আইনি ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক উন্নয়ন এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ১১, ১৩, ১৪ ও ১৫ অর্জনে সহায়তা করবে।
শাহাব উদ্দিন বলেন, আমরা দূষণ কমাতে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছি। তাছাড়া, ভেতরের বায়ু দূষণ কমাতে ৬৪টি জেলায় ৪ দশমিক ২ মিলিয়ন উন্নত রান্নার চুলা স্থাপন করা হয়েছে।
বনমন্ত্রী বলেন, এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য ২০২০ সালে তিনটি ডলফিন অভয়ারণ্য এবং একটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২১ সালে একটি জাতীয় উদ্যান এবং ১টি সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ভূমি সংরক্ষণের জন্য আমরা ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এবং আলোচক হিসেবে ছিলেন ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা কে মুজেরি।
পরিকল্পনা বিভাগের সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুল হাসান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মিজানুল হক চৌধুরী এবং যুগ্ম সচিব জাকিয়া আফরোজ প্রমুখ।
আরএমএম/আইএইচআর/এমএইচআর/এএসএম





মন্তব্য
(০)