২৫০ বছর পুরনো ভাসমান চাষ
বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও গোপালগঞ্জসহ দক্ষিণাঞ্চলে বহু জায়গা বছরে অর্ধেকেরও বেশি সময় থাকে জলমগ্ন। এসব জলাবদ্ধতায় বছরের পর বছর আটকে থাকা জমিতে মানুষ বেঁচে প্রশ্নে প্রায় দু’শো বছর আগে শুরু করে ভাসমান চাষ। যা একসময় কৃষকের কাছে প্রতিকূল হলেও এখন হয়ে উঠেছে সম্ভাবনাময় এক কৃষিক্ষেত্র।
উপর থেকে দেখলে মনে হয় লম্বা আকৃতির একেকটা সবুজের গালিচা। পানির উপরে ভেসে থাকা কচুরিপানা ও জলজউদ্ভিদের সমন্বয়ে গড়া ভাসমাস স্তর বা ধাপের উপরে ফসল উৎপাদনের এই কৌশলকে বলা হয় ভাসমান চাষ। স্থানীয় কৃষি বিভাগের হিসাবে, শুধুমাত্র পিরোজপুর জেলাতে প্রায় দুশো হেক্টর জমিতে এই পদ্ধতিতে উৎপাদন হচ্ছে ফসল। বৈচিত্রময় ফসল আর সবজির চারা উৎপাদন করে টিকে আছে এলাকার শত শত কৃষক।
শত বছরের প্রাকৃতিক পদ্ধতির এই কৃষি অনুশীলন এখন অধিক ফসল উৎপাদনের প্রশ্নে ধাবিত হচ্ছে সার-কীটনাশক ব্যবহারের দিকে। এই চাষ ব্যবস্থার উপরে প্রভাব পড়েছে বিশ্বব্যাপি চলা বিরূপ জলবায়ূরও।
তবে জাতিসংঘ দ্বারা বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী কৃষি অঞ্চল ঘোষণা এবং গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের ফলে সৃষ্টি হয়েছে বহুমুখী সম্ভাবনাও।
কিন্তু আদি এই কৃষি ঐতিহ্যকে ধরে, উৎপাদনে টিকে থাকার জন্য দরকার কৃষি ঋণ সহজীকরণ সহ সরকারের আরও সুপরিকল্পনা।





মন্তব্য
(০)