ফ্যাটি লিভার নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রচলিত অনেক ধারণাই ভুল। প্রথম আলোয় এমন আটটি ধারণার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকার মার্কস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি ও মেটাবলিজম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নাজমা আক্তার।
প্রথম ভুল ধারণা, অ্যালকোহল না খেলে ফ্যাটি লিভার হয় না। তাঁর ব্যাখ্যায়, এ রোগের আরেক নামই ছিল নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ; এর সম্পর্ক ওজনাধিক্য, রক্তে শর্করা ও চর্বির আধিক্য এবং পেটের মেদের সঙ্গে। দ্বিতীয়, এসজিপিটি বা লিভার ফাংশন টেস্ট স্বাভাবিক মানেই ফ্যাটি লিভার নেই, এটিও ভুল: আক্রান্তদের ৮০ শতাংশের এসজিপিটি স্বাভাবিক থাকতে পারে, কারণ লিভারে অনেকখানি প্রদাহ হলে তবেই তা বাড়ে।
তৃতীয়, সুপারফুড, সাপ্লিমেন্ট বা হারবাল চা ফ্যাটি লিভার কমায়; ডা. নাজমা আক্তারের মতে, ভিটামিন ই সাপ্লিমেন্ট বা গ্রিন টি-সহ এসবের কোনোটির উপকারিতা বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত নয়। চতুর্থ, মেদহীন মানুষের ফ্যাটি লিভার হয় না; অথচ ওজন স্বাভাবিক এমন অনেকেরও হয়, যা নির্ভর করে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, রক্তের চর্বি ও দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গের চর্বির (ভিসেরাল ফ্যাট) ওপর।
পঞ্চম, কেবল বয়স্কদেরই এ রোগ হয়; বাস্তবে শিশু-কিশোরদের মধ্যেও তা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে, যার পেছনে শৈশবে ওজন বৃদ্ধি, কায়িক শ্রমের অভাব ও খারাপ খাদ্যাভ্যাস। ষষ্ঠ, চর্বিজাতীয় খাবার পুরোপুরি বাদ দিতে হবে; তিনি বলছেন, বাদ নয়, বাছাই জরুরি: চিনি, সাদা ময়দা বা সাদা চালের মতো সহজ শর্করার বদলে লাল চাল, লাল আটা, ওটসের মতো জটিল শর্করা, আর ট্রান্সফ্যাট ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের বদলে অসম্পৃক্ত চর্বি।
সপ্তম, ফ্যাটি লিভারে দুধ-ডিম নিষেধ; ল্যাকটোজ সংবেদনশীলতা না থাকলে দুধ খাওয়া যায়, তবে সর, মাখন, ঘি এড়াতে হবে, আর ডিমও নিষেধ নয়। অষ্টম ধারণা কফি নিয়ে: তাঁর মতে ফ্যাটি লিভারে কফিতে সমস্যা নেই, বরং গবেষণা বলছে দিনে দুই থেকে তিন কাপ কফি লিভারের জন্য ভালো, তবে চিনি বা ক্রিম ছাড়া।
এসব পরামর্শ সাধারণ তথ্য; কারও ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে খাদ্য ও চিকিৎসার সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের পরামর্শে নেওয়াই নিরাপদ।
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)