বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৮৭ শতাংশ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সচেতনতা ও নিরাপদ খাদ্যের অভাবে তারা পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন। যা খাচ্ছি তা নিরাপদ কি না- সে চিন্তায় নগরবাসী জর্জরিত। খাদ্য উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে ব্যবহৃত কেমিক্যাল, খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের নিরাপদ চাষে প্রশিক্ষিত ও উৎসাহিত করছেন। উৎপাদিত এসব নিরাপদ পণ্য কৃষকের বাজারের মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছে সরাসরি পৌঁছে দেবে কৃষক নিজেই। অর্থাৎ ভোক্তারা পাবেন নিরাপদ খাদ্য এবং কৃষক পাবেন পণ্যের সঠিক মূল্য।
শুক্রবার (১৪ অক্টোবর) সকালে নেদারল্যান্ডস সরকারের সহায়তায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের সম্মিলিত উদ্যোগে কৃষকের বাজারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন।
মোহাম্মাদী হাউজিং সোসাইটিতে জামিয়া ইসলামিয়া মুহাম্মাদী আশরাফুল মাদারিস ও এতিমখানার সামনে আয়োজিত কৃষকের বাজারে প্রতি শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সাভারের ভাকুর্তা থেকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক যাচাইকৃত ১০ জন নিরাপদ চাষি তাদের উৎপাদিত সবজি ও ফলমূল বিক্রি করতে পারবেন।
উদ্বোধনী আয়োজনে ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের সিনিয়র প্রজেক্ট ম্যানেজার জিয়াউর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন নবীনগর, ঢাকা উদ্যান ও চন্দ্রিমা ইউনিট আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বজলুর রশীদ, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ঢাকা ফুড সিস্টেম প্রকল্পের সাসটেইনেবল এগ্রিকালচার স্পেশালিস্ট জাহাঙ্গীর আলম এবং স্থানীয় এলাকাবাসী।
ভাকুর্তা ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বজলুর রশীদ বলেন, কৃষকের বাজারের জন্য ভাকুর্তা থেকে বাছাইকৃত সব কৃষক নিরাপদভাবে সবজি চাষ করেন। আমরা তাদের প্রশিক্ষণ, সহায়ক উপকরণ প্রদান করি। সেই সঙ্গে নিয়মিত মাঠপর্যায়ে তদারকি করা হয়। আমরা নিশ্চিত করতে পারি এখানে যে সবজি-ফল ও অন্য খাদ্যপণ্য পাওয়া যাবে তা নিরাপদ। এলাকাবাসীর কাছে অনুরোধ আপনারা কৃষকদের সহায়তা করবেন, যাতে তারা কিছুটা হলেও আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে। কারণ দেশের অগ্রগতি নিশ্চিতে কৃষক ও কৃষি বাঁচিয়ে রাখার বিকল্প নেই।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ঢাকা ফুড সিস্টেম প্রকল্পের সাসটেইনেবল এগ্রিকালচার স্পেশালিস্ট জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বিশ্বব্যাপী ক্ষুধামুক্তি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে কাজ করেছে। ঢাকা ফুড সিস্টেম প্রকল্পটিও একই উদ্দেশ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় ১৬টি কৃষকের বাজার স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে ৯টি বাজারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী বলেন, বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণের দিকে আমরা অনেকটাই পিছিয়ে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যগ্রহণ না করায় দেশে স্থূলকায় মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। ফলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, টাইপ-টু ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন সম্ভব। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক নিরাপদ চাষ কার্যক্রমটি দেশজুড়ে সুবিস্তৃত করা প্রয়োজন।
আরএসএম/বিএ/জিকেএস





মন্তব্য
(০)