ক্যালিফোর্নিয়ার স্টার্টআপ সুইচ বায়োওয়ার্কস (Switch Bioworks) নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী অণুজীবকে জিন প্রকৌশলে এমনভাবে তৈরি করে, যাতে সেগুলো আগে গাছের শিকড়ে বসতি গড়ে এবং মৌসুমের কয়েক সপ্তাহ পর অ্যামোনিয়া তৈরি শুরু করে। এই প্রযুক্তি এগিয়ে নিতে কোম্পানিটি বায়ার ক্রপ সায়েন্সের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতায় গেছে বলে জানিয়েছে এজিফান্ডনিউজ।
সার তৈরি করতে পারে এমন অণুজীব আরও কয়েকটি কোম্পানি বানিয়েছে, কিন্তু সুইচের দাবি, সেগুলো প্রায়ই শিকড়ে টিকতে পারে না, আর যেগুলো টেকে সেগুলো কৃষকের কাজে লাগার মতো যথেষ্ট অ্যামোনিয়া বানায় না। সুইচের অণুজীব প্রথমে মাটির স্থানীয় অণুজীবের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে শিকড়ে জায়গা করে নেয়; তারপর একটি জিনগত সুইচ অ্যামোনিয়া তৈরি চালু করে। কোন সংকেতে সুইচ চালু হয় তা কোম্পানি প্রকাশ করেনি, তবে জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহ পর মাটির পরিবেশে পরিবর্তনে এটি সাড়া দেয়, কৃষককে কিছু করতে হয় না।
গ্রো-রুম পরীক্ষায় সুইচযুক্ত স্ট্রেন সব সময় চালু থাকা নিয়ন্ত্রণ স্ট্রেনের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি নাইট্রোজেন তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) ও পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার (ইপিএ) অনুমোদনে মিডওয়েস্টজুড়ে ভুট্টায় মাঠ পরীক্ষা চলছে, আর ব্রাজিলের জাতীয় জৈবনিরাপত্তা কমিশনের কাছ থেকে মাঠে ছাড়ার অনুমোদনও পেয়েছে সুইচ। প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী টিম শ্নাবেল (Tim Schnabel) বলেন, প্লট ঘুরে এবং পাতার নাইট্রোজেন নিয়ে ড্রোনের তথ্যে প্রাথমিক ভালো ইঙ্গিত মিলেছে, মাঠে সুইচ চালু হওয়াও দেখা গেছে। তবে প্রথম বছরের এই পরীক্ষাগুলো সার কতটা প্রতিস্থাপন হলো বা ফলন কত বাড়ল তা দেখানোর জন্য নয়।
শুরুতে সুইচের সেরা স্ট্রেনগুলো বায়ারের বিভিন্ন শীর্ষ হাইব্রিড জাতের সঙ্গে পরীক্ষা করা হবে। জিঙ্কো বায়োওয়ার্কসের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ জয়েন বায়োর (Joyn Bio) মাধ্যমে সার তৈরিকারী অণুজীব নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা থাকা বায়ার জানিয়েছে, তারা পণ্য উন্নয়ন, ফর্মুলেশন, মাঠ পরীক্ষা, বাজারজাতকরণ ও ফসলের জিনতত্ত্বে সহায়তা দেবে। শ্নাবেল বলেন, জৈবিক নাইট্রোজেন সংবন্ধন অনেকটা স্বপ্নের লক্ষ্য, আর এর সমাধানে একাধিক স্ট্রেন ও বৈশিষ্ট্য একসঙ্গে মিলিয়ে কাজ করতে হতে পারে।
দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে পণ্য বাজারে আনার লক্ষ্য সুইচের। ফলন ঠিক রেখে নাইট্রোজেন সারের ২৫% প্রতিস্থাপন করা গেলেই বড় সাফল্য হবে, বলেন শ্নাবেল; জীববিজ্ঞানের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সীমা প্রায় ৫০%। ব্যবসার যুক্তি হলো, বীজের সারিতে অল্প পরিমাণ অণুজীব দিয়ে কম খরচে নাইট্রোজেন জোগানো; ইরান যুদ্ধে সারের বাজারে চাপ বাড়ায় এ যুক্তি আরও জোরালো হয়েছে। তাঁর কথায়, কৃষকের লাভ খুব সামান্য, তাই একরে সারে ২০ থেকে ৩০ ডলার সাশ্রয়ও বড় ব্যাপার।
ছবি: Lynn Betts / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: এজিফান্ডনিউজ





মন্তব্য
(০)