শিল্পযুগের আগের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে, সীমা না ছাড়িয়ে বা সামান্য ছাড়িয়ে আটকে রাখার সুযোগ আর নেই। জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) নিঃসরণ ব্যবধান প্রতিবেদন ২০২৬-এ এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, জানিয়েছেন ডাউন টু আর্থের রিচার্ড মহাপাত্র। এটি প্রতিবেদনের ১৭তম সংস্করণ।
২০২৫ সালে বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ দাঁড়িয়েছে ৫৮.৪ গিগাটন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্যে, আগের বছরের চেয়ে মাত্র ০.১ গিগাটন কম। কিন্তু এই সামান্য কমা একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা আড়াল করছে: তেল, কয়লা ও গ্যাস পোড়ানো থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ বেড়েছে, নাইট্রাস অক্সাইড ও ফ্লোরিনযুক্ত গ্যাসও বেড়েছে, মিথেন প্রায় একই রয়েছে।
এই বৃদ্ধি পুষিয়ে দিয়েছে ভূমি ব্যবহার, ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন ও বনায়ন খাতের নিঃসরণ প্রায় ০.৫ গিগাটন কমা, যার একটি কারণ ২০২৪ সালের অস্বাভাবিক দাবানলের পর ২০২৫ সালে দাবানলজনিত কার্বন নিঃসরণ কমেছে। মোট নিঃসরণের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসে জীবাশ্ম উৎস থেকে।
ইউএনইপি সতর্ক করেছে, নিঃসরণ এখনো শীর্ষে পৌঁছে থামেনি। আফ্রিকান ইউনিয়ন বাদে জি-২০ সদস্যরা বৈশ্বিক নিঃসরণের ৭৬ শতাংশের জন্য দায়ী, ভূমি ব্যবহার খাত বাদে তাদের নিঃসরণ ২০২৫ সালে ০.৭ শতাংশ বেড়েছে। গত দশকে ৬৩টি দেশ নিঃসরণ কমিয়েছে, কিন্তু বাড়িয়েছে ১২৪টি দেশ।
প্রতিবেদন বলছে, এখন লক্ষ্য হলো সীমা ছাড়ানোর মাত্রা ও সময় যতটা সম্ভব কম রেখে শতাব্দীর শেষে আবার ১.৫ ডিগ্রিতে ফেরা। সবচেয়ে কম সীমা ছাড়ানোর পথে থাকতে হলে ২০২৫ সালের তুলনায় নিঃসরণ ২০৩০ সালের মধ্যে ১৮ শতাংশ, ২০৩৫ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৬৯ শতাংশ কমাতে হবে, সঙ্গে বায়ু থেকে বড় পরিসরে কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ লাগবে।
কোপারনিকাস জলবায়ু পরিবর্তন সেবার তথ্যে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর ছিল রেকর্ডে দ্বিতীয় উষ্ণতম মাস, শিল্পযুগের আগের চেয়ে ১.৬৩ ডিগ্রি বেশি। ক্লাইমেট অ্যানালিটিক্সের প্রধান নির্বাহী বিল হেয়ার বলেন, সরকারগুলোকে যত দ্রুত সম্ভব জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর নীতি কার্যকর করতে হবে।
ছবি: John L. Alexandrowicz / US National Archives / উইকিমিডিয়া কমন্স (public domain)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)