ফিউচার ফার্মিংয়ের সহযোগী পত্রিকাগুলোর চার দেশের একটি পরীক্ষক দল ব্যাটারিচালিত Fendt e107 Vario (ফেন্ট ই১০৭ ভারিও)-কে তার ডিজেল সংস্করণ Fendt 207 Vario (ফেন্ট ২০৭ ভারিও)-র পাশাপাশি দুই সপ্তাহ চালিয়েছে—নরওয়ের শীতে আর নেদারল্যান্ডসের গ্রীষ্মে। তাদের রায়: বৈদ্যুতিক ট্রাক্টরটি ইতিমধ্যে বিস্ময়করভাবে পরিণত—ডিজেলের চেয়ে শক্তিশালী, নীরব ও মসৃণ—কিন্তু ভারী কাজে ব্যাটারির ধারণক্ষমতাই এখনো সীমা।
ই১০৭-এ ডিজেল ইঞ্জিনের জায়গায় আছে ১০০ কিলোওয়াট-ঘণ্টার ব্যাটারি প্যাক (ব্যবহারযোগ্য প্রায় ৯৫, ওজন প্রায় ৬০০ কেজি), ৭৫০ ভোল্টের ব্যবস্থা এবং ৫০০ ভোল্টের এসি মোটর, যা ডিজেলের মতোই AGCO ML75 ভারিও ট্রান্সমিশন চালায়। ওজন মাত্র ২২০ কেজি বেশি, দাম প্রায় ৬০ হাজার ইউরো বেশি। তিনটি মোড: ইকো (৬৮ অশ্বশক্তি), ডায়নামিক (৭৫) এবং এক মিনিটের জন্য ৯০ অশ্বশক্তির ডায়নামিক প্লাস বুস্ট।
কতক্ষণ চলবে তা কাজের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে। ভারী পিটিও কাজে—৩ মিটারের Kuhn (কুন) রোটারি টিলার, যার জন্য কুন নিজেই ১০০ অশ্বশক্তির সুপারিশ করে—ব্যাটারি ফুরিয়েছে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টায়; ঝাড়ু দেওয়া, বালি ছিটানো বা লোডারের মতো হালকা কাজে চলেছে সাত ঘণ্টা বা তার বেশি। সড়কে পরিসর প্রায় ৭৫ কিলোমিটার—নরওয়ের পাহাড়ে হালকা বোঝায় হোক বা সমতলে ১০ টনের ট্রেলার টেনে হোক।
সবচেয়ে স্পষ্ট জয় সাশ্রয়ে। ৩০ মিনিটের চাষে ২০৭ পুড়িয়েছে ৫ লিটার ডিজেল ও ০.৩ লিটার অ্যাডব্লু, ই১০৭ নিয়েছে ২১.২ কিলোওয়াট-ঘণ্টা; ৩০ মিনিটে ২৭২টি প্যালেট সরাতে লেগেছে ১.৯৮ লিটার ডিজেল বনাম ৭.৫ কিলোওয়াট-ঘণ্টা। সব মিলিয়ে বৈদ্যুতিক ট্রাক্টরের লেগেছে ডিজেলের প্রায় ৪২ শতাংশ শক্তি—যা ডিজেল ইঞ্জিন জ্বালানির প্রায় ৪০ শতাংশকে কাজে রূপান্তর করে, এই অনুমানের সঙ্গে মেলে। দলের সূত্র: হালকা লোডারের কাজে ১ লিটার ডিজেল = ৩.৮ কিলোওয়াট-ঘণ্টা, ভারী মাঠের কাজে ৪.৩ পর্যন্ত।
ই১০৭ পরিমাপযোগ্যভাবে নীরব—সর্বোচ্চ গতিতে কেবিনে ৬৭.২ বনাম ৬৯.৬ ডেসিবেল, আর তিন মিটার দূর থেকে পূর্ণ গতিতে পাশ দিয়ে গেলে ৭৮ বনাম ৯২.৪ ডেসিবেল—এবং মেঝের নিচের হিটিংয়ের সুবাদে দশ মিনিটে কেবিন গরম হয়েছে তিন ডিগ্রি বেশি। অভিযোগগুলো ডিজেলের সঙ্গে অভিন্ন: বড্ড বড় স্টিয়ারিং হুইল আর অনেক জোর লাগা ব্রেক প্যাডেল। কম গতিতে মোটর দ্রুত সাড়া দেয় বলে ফ্রন্ট-লোডারের কাজ বৈদ্যুতিকটিতে সামান্য কম নিখুঁত মনে হয়েছে।
চার্জ হয় এসি-তে ২২ কিলোওয়াট পর্যন্ত বা ৮০০ ভোল্টের অবকাঠামোয় ডিসি ফাস্ট চার্জিংয়ে—২০ থেকে ৮০ শতাংশে প্রায় ৪৫ মিনিটে; ৪০০ ভোল্টের গাড়ির চার্জার চলে না, তবে ফেন্ট ৪০ কিলোওয়াটের একটি বহনযোগ্য ডিসি ইউনিট দেয়। নরওয়েতে দলটি খামারের ৭.৬ কিলোওয়াট চার্জারেই কাজ চালিয়েছে—রাতভর চার্জ, দুপুরে খানিক টপ-আপ। চার্জ ২০ শতাংশের নিচে নামলে ডিসপ্লে লাল হয় ও শক্তি সীমিত হয়; শূন্য শতাংশের প্রায় আড়াই মিনিট পর ট্রাক্টর থেমে যায়।
পত্রিকাটির চোখে এই পরীক্ষা স্বয়ংক্রিয় মাঠ-রোবটের দিকেও ইঙ্গিত করে, যেগুলোর চালক বা উষ্ণ কেবিন লাগে না এবং গোড়া থেকেই বৈদ্যুতিক ড্রাইভলাইন ঘিরে নকশা করা যায়। দাম ও ব্যাটারির ধারণক্ষমতা সাময়িকভাবে বাদ দিলেও পুরো পরীক্ষক দল বৈদ্যুতিক ট্রাক্টরটিকেই বেছে নিত; দুটি বিষয়ই সময়ের সঙ্গে উন্নত হতে পারে বলে তারা যোগ করেছে। লেখক: Tapio Vesterinen (তাপিও ভেস্তেরিনেন, কোনেভিয়েস্তি, ফিনল্যান্ড), Magnus Sørlie (মাগনুস সোরলি, বেদ্রে গার্ডসড্রিফ্ট, নরওয়ে), Jonas R. Gade (ইয়োনাস আর. গাডে, ট্রাক্টরটেক, ডেনমার্ক) ও Bob Karsten (বব কার্স্টেন, ট্রেকার, নেদারল্যান্ডস)।
সূত্র: Future Farming




মন্তব্য
(০)