শক্তিশালী হতে থাকা এল নিনো অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৬-এ বিশ্বজুড়ে তাপ বাড়াবে এবং বৃষ্টির ধরন উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে দেবে, ফলে খরা ও বন্যা দুটোরই ঝুঁকি বাড়বে বলে জানিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। ৮ অক্টোবর প্রকাশিত গ্লোবাল সিজনাল ক্লাইমেট আপডেটে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়।
সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো (Celeste Saulo) বলেন, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এল নিনো থাকার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ, আর এটি ১৯৫০ সালের পর থেকে রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী ঘটনাগুলোর একটি হতে পারে। মধ্য-পূর্ব বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার বিচ্যুতি মাপার নিনো ৩.৪ সূচক জুনে স্বাভাবিকের চেয়ে গড়ে ১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থেকে আগস্টে ২.৫ ডিগ্রিতে উঠেছে। অক্টোবর-ডিসেম্বরে তা প্রায় ৩.৭ ডিগ্রি বেশি হবে এবং ডিসেম্বরের দিকে চূড়ায় পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস, যা ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারির ২.৬ ডিগ্রির রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। ১৩টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু পূর্বাভাস কেন্দ্রের ঐকমত্যের ভিত্তিতে এ পূর্বাভাস।
ডব্লিউএমওর মতে, অক্টোবর-ডিসেম্বরে বিশ্বের বড় অংশে তাপমাত্রা গড়ের ওপরে থাকার জোরালো সম্ভাবনা আছে; তার মানে প্রতিদিন সব জায়গায় গরম বেশি হবে না, তবে তাপপ্রবাহের আশঙ্কা বাড়বে।
বৃষ্টির ধরনেও বড় পরিবর্তন আসছে। মধ্য ও পূর্ব বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগর, আফ্রিকার বৃহত্তর হর্ন অঞ্চল, মধ্য এশিয়ার কিছু অংশ, পূর্ব এশিয়ার উপকূল, আরব উপদ্বীপের উত্তরাংশ, উত্তর আমেরিকার ৪৫ ডিগ্রি উত্তরের দক্ষিণের কিছু অংশ এবং দক্ষিণ-পূর্ব দক্ষিণ আমেরিকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টির পূর্বাভাস। অন্যদিকে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর ও বিষুবীয় আটলান্টিক থেকে দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণাংশ পর্যন্ত শুষ্ক থাকবে, আর ভারতীয় উপমহাদেশ, মধ্য আমেরিকার দক্ষিণাংশ, ক্যারিবীয় অঞ্চলের কিছু অংশ ও উত্তর-পশ্চিম দক্ষিণ আমেরিকায় বৃষ্টি স্বাভাবিকের চেয়ে কম হতে পারে।
ভারত মহাসাগরে ইতিবাচক ডাইপোল অক্টোবরে চূড়ায় পৌঁছে কমতে শুরু করবে বলেও পূর্বাভাস রয়েছে। ডব্লিউএমও জানায়, সদস্য দেশগুলোর আবহাওয়া সংস্থা প্রস্তুতি জোরদার করছে এবং সরকার ও মানবিক সংস্থাগুলোকে নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য দিচ্ছে। শীতের ফসলের পরিকল্পনা করা কৃষকের জন্য বার্তাটি হলো, আগামী মাসগুলোতে এ অঞ্চলে বৃষ্টি কম, গরম বেশি হতে পারে।
প্রতিবেদনটি রুরাল ভয়েসের জন্য লিখেছেন রাজশ্রী সিং।
ছবি: NOAA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Rural Voice





মন্তব্য
(০)