গত ১০ আগস্ট কলম্বিয়ায় আঘাত হানা ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প চোকো, ভায়ে দেল কাউকা, রিসারালদা, কালদাস ও কিন্দিও বিভাগের শহর ও গ্রাম — দুই-ই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। মানবিক সহায়তার পর্ব শেষ হয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হচ্ছে দ্বিতীয়, ধীর পর্বটি: মানুষের জীবিকা ও খাদ্যব্যবস্থা আবার দাঁড় করানো।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছে চোকো বিভাগের সান হোসে দেল পালমারে চোনতাদুরো — অর্থাৎ পিচ পাম ফল — ফলান ইয়িম্মি সুলুয়াগা। তিনি বলছেন, "আমরা আবার গড়ছি, যাতে সামনে এগোতে পারি।" কথাটা তাঁর ভেঙে পড়া ঘরের দেয়াল নিয়ে যেমন, তেমনি ফসল ফলিয়ে বিক্রি করার কাজটি নিয়েও।
তাঁর ফসল টিকে গেছে। সমস্যাটা ঠিক সেখানেই। ভূমিকম্প এসেছে মূল ফসল তোলা শুরু হওয়ার ঠিক মুখে, আর ফল পড়ে আছে সেখানেই।
সরকারি কৃষি সম্প্রসারণ সেবা উমাতা বলছে, এই পৌরসভার ২০০-র বেশি পরিবার সরাসরি এই ফসলের ওপর নির্ভরশীল, আর এখন তাঁদের ফল পাঠানোর জায়গা নেই। চোনতাদুরোর প্রধান বাজার ভায়ে দেল কাউকা ও কলম্বিয়ার কফি অঞ্চল — দুটোই একই ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত। ভাঙা ঘরবাড়ি সামলাতে ব্যস্ত শহরে মধু-লবণ দিয়ে চোনতাদুরো খাওয়ার কথা তালিকার নিচে নেমে গেছে।
চাহিদা পড়েছে, সঙ্গে দামও। ফসলের মাত্র ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বিক্রি হবে বলে ধারণা, আর তাতেই বাকিটার দাম নেমে গেছে। ভূমিকম্পের আগে এক আরোবা — স্থানীয় একক, প্রায় ১১.৫ কেজি — বিক্রি হতো ৮০ হাজার কলম্বীয় পেসো বা প্রায় ২৫ ডলারে। চাষিরা এখন পাচ্ছেন ৪০ হাজার পেসো, প্রায় ১২.৫০ ডলার।
ক্রমটি লক্ষ করার মতো, কারণ দুর্যোগের হিসাব সাধারণত এভাবে কষা হয় না। গাছ, ফল বা খামারের কিছুই হয়নি। ভেঙেছে রাস্তার অন্য প্রান্তের বাজারটি — আর পচনশীল ফসলের জন্য সেটিই ফসল হারানোর সমান।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চোনতাদুরো সান হোসে দেল পালমারের গ্রামীণ পরিবারগুলোর বিকল্প আয়ের উৎস, অর্থাৎ যে ফসল তাঁদের ঝুঁকি কমানোর কথা ছিল। ঘটনাটি জানানো অ্যালায়েন্স অব বায়োভার্সিটি ইন্টারন্যাশনাল ও সিআইএটি বলছে, পুনরুদ্ধারের প্রশ্নটি হওয়া উচিত আগে যা ছিল তা ফিরিয়ে আনা নয়, বরং পরের চরম ঘটনার মধ্যেও চালু থাকতে পারে এমন খাদ্যব্যবস্থা গড়া।
সূত্র: সিজিআইএআর (CGIAR)





মন্তব্য
(০)