উত্তর আয়ারল্যান্ডে এ বছরের পশুখাদ্য ভুট্টা (forage maize) কাটার মৌসুম রেকর্ডের অন্যতম আগাম হতে চলেছে; সেপ্টেম্বরের শেষ কয়েক দিনেই বড় এলাকার ফসল সাইলেজে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ঝামেলার বসন্ত ও কঠিন জুনে অনেক ফসল পিছিয়ে ছিল, কিন্তু শুষ্ক ও উষ্ণ জুলাই-আগস্ট পরিস্থিতি পুরো বদলে দিয়েছে বলে জানান মেইজটেক (Maizetech)-এর রবার্ট ডানকান (Robert Duncan)। কাউন্টি অ্যান্ট্রিমে নিজের খামারের ফসল ঘুরে দেখিয়ে তিনি বুঝিয়েছেন, ফসল কাটার উপযুক্ত হয়েছে কি না তা কীভাবে যাচাই করতে হয়।
ডানকানের মতে, খেতের ধারের মোচা দেখে কিছু বোঝা যায় না, কারণ সেগুলো সারা সপ্তাহের রোদ পেয়েছে। খেতের ভেতরে ঢুকে গড়পড়তা একটি গাছ বেছে তার ওপরের মোচাটি দেখতে হবে: খোসা ছাড়িয়ে দানার গায়ে লেগে থাকা ভেতরের পাতাটি টিস্যু কাগজের মতো শুকনো লাগলে শুষ্ক পদার্থ ৩০ শতাংশ ছাড়িয়েছে ধরে নেওয়া যায় এবং তখন গাছ মোচায় চিনি পাঠানো বন্ধ করে দেয়। এরপর মোচা ভেঙে একটি দানা চাপ দিলে তা থেকে কোনো রস বেরোনো উচিত নয়।
তাঁর সবচেয়ে অগ্রসর খেত, পাইওনিয়ার ৭০৩৪ (Pioneer 7034) জাতের, দুই সপ্তাহের মধ্যে সাইলোতে তোলার উপযুক্ত হবে। মূল শর্ত দুটি: স্টার্চের পূর্ণ পরিপক্বতা এবং ৩০ শতাংশ বা তার বেশি শুষ্ক পদার্থ, তবে গাছ পুরো শুকিয়ে যাওয়ার আগেই, যাতে পুরো গাছের হজমযোগ্য আঁশ পাওয়া যায়। প্লাস্টিক ফিল্মের আগে ভুট্টা নভেম্বর পর্যন্ত মাঠে রাখতে হতো এবং তখন গাছ দেখে মনে হতো গ্লাইফোসেট ছিটানো হয়েছে; এখন সবুজ অংশসহ ফসল কাটা যায়, ফলে খাওয়ানোর সময় হজমযোগ্যতা অনেক বেশি থাকে।
জাত দুই ধরনের—ডেন্ট ও ফ্লিন্ট। ডেন্ট জাতের স্টার্চ প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই কাজে লাগে, তাই কাটার এক সপ্তাহের মধ্যে সাইলেজ খাওয়ানো যায়; ফ্লিন্ট জাতে তিন-চার সপ্তাহ লাগে। মৌসুমের শুরুতেই ভুট্টা খাওয়াতে চাইলে ডেন্ট জাতের সাইলেজ গর্তের সামনের দিকে রাখার পরামর্শ তাঁর। বহু বছর আয়ারল্যান্ডে ডেন্ট জাত পাওয়া যেত না; ৭০৩৪ জাতটি উত্তর আয়ারল্যান্ডে এবার তৃতীয় মৌসুমে।
ভুট্টা সাইলেজে অ্যাডিটিভ ব্যবহারের পক্ষে তিনি—গাঁজন বাড়াতে নয়, খাওয়ানোর সময় সাইলেজ স্থির রাখতে, বিশেষত যাঁরা উষ্ণ বসন্ত পর্যন্ত সাইলেজ রাখেন। তাজা ওজনের পেছনে না ছুটতেও সতর্ক করেছেন তিনি: অপরিপক্ব ফসলে একরে ১৮–২০ টন তাজা ফলন মিলতে পারে, কিন্তু ৩০ শতাংশের বেশি শুষ্ক পদার্থসহ পূর্ণ পরিপক্ব ফসলে প্রায় ১৭ টন মিললেও তার খাদ্যমান অনেক বেশি। বাতাসের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকা পর্যন্ত পাতা থেকে মোচায় চিনি যেতে থাকে; কাণ্ডের হজমযোগ্য আঁশ ধরে রাখতে ৮–১০ ইঞ্চি উচ্চতায় কাটার পরামর্শ তাঁর।
পুষ্টির প্রশ্নে তিনি জানান, পরীক্ষায় দেখা গেছে বপনের সময় ফসলের পুরো নাইট্রোজেন ও অণুপুষ্টি না দিয়ে একটি অংশ ধরে রেখে গাছ হাঁটু-উচ্চতায় পৌঁছালে, মূল বৃদ্ধির ঠিক আগে, পাতায় ছিটিয়ে (foliar feed) দেওয়া অনেক বেশি কার্যকর।
প্রতিবেদনটি অ্যাগ্রিল্যান্ডের জন্য লিখেছেন রিচার্ড হ্যালেরন (Richard Halleron)।
সূত্র: Agriland



মন্তব্য
(০)