কানাডার প্রেইরি অঞ্চলের ক্যানোলা চাষিদের এবারের ফসল কাটার মৌসুমে গাড়ির কেবিনে একটি কাঁচি (clippers) রাখতে বলা হচ্ছে। কয়েক মিনিটে মাঠ থেকে কয়েকটি গাছের কাণ্ড কেটে রোগ পরীক্ষায় পাঠালে পরের বছর কোন জাত বোনা হবে, সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তি তৈরি হয়ে যায়। গত ১ সেপ্টেম্বর সাসকাচোয়ান (Saskatchewan) প্রদেশের মেলফোর্ট গবেষণা খামারে (Melfort Research Farm) ক্যানোলা ও তিসির রোগবিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এই পরামর্শ দেওয়া হয়।
সাস্ক অয়েলসিডস (Sask OilSeeds)-এর সম্প্রসারণ কৃষিবিদ ইয়ান এপ (Ian Epp) বলেন, ফসল কাটার নিয়মিত কাজের ফাঁকেই মাঠ পর্যবেক্ষণ সেরে ফেলা যায়, সময় বিশেষ লাগে না। সোয়াদার বা কম্বাইন চালানোর সময়, কিংবা কাটার আগে গ্লাইফোসেট ছিটানোর সময়, মাঠের তিনটি জায়গায় থেমে দু-একটি গাছ কেটে ভালো করে দেখলেই নমুনা সংগ্রহের কাজ হয়ে যায়। তাঁর কথায়, এই ছোট বিরতিগুলো চালকের পা ছড়িয়ে একটু বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগও দেয়।
সাসকাটুনের ডিসকভারি সিড অ্যান্ড সয়েল ল্যাবস (Discovery Seed and Soil Labs)-এর মলিকুলার ল্যাব ব্যবস্থাপক স্যান্ডি জুনেক (Sandy Junek) প্রতি মাঠ থেকে প্রায় ১২টি কাণ্ড পাঠানোর পরামর্শ দেন। এই প্রতিষ্ঠানটি রোগ নজরদারিতে সাস্ক অয়েলসিডসের সঙ্গে কাজ করে। একই কাণ্ড দিয়ে ব্ল্যাকলেগ ও ভার্টিসিলিয়াম—দুই রোগেরই পরীক্ষা করা যায়।
দুই প্রদেশেই কিছু পরীক্ষা বিনামূল্যে হয়। ম্যানিটোবা ক্যানোলা গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (Manitoba Canola Growers Association)-এর তথ্য অনুযায়ী, সেখানে স্থানীয় সমিতির সদস্যরা প্রতি মাঠে এক ধরনের পরীক্ষা—ব্ল্যাকলেগ, ভার্টিসিলিয়াম স্ট্রাইপ বা ক্লাবরুট—বিনামূল্যে করাতে পারেন। সাসকাচোয়ানে সাস্ক অয়েলসিডস প্রতি খামারে একটি নমুনার খরচ বহন করে; পরীক্ষাগার সেটিতে ভার্টিসিলিয়াম ও ব্ল্যাকলেগ খোঁজে এবং ব্ল্যাকলেগ পাওয়া গেলে তার রেসও জানায়।
এই রেস জানাটাই আসল কাজ। মাঠে ব্ল্যাকলেগের কোন রেস আছে তা জানলে চাষি কেবল 'প্রতিরোধী' লেখা জাত নয়, নিজের মাঠের রোগের সঙ্গে মেলে এমন প্রতিরোধী জাত বেছে নিতে পারেন; কানাডার ক্যানোলা কাউন্সিলের (Canola Council) একটি টুল দিয়ে এই মিল যাচাই করা যায়। এপ বলেন, এটি টিস্যু পরীক্ষার মতো নয় যে ফল পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে কিছু ছিটাতে হবে—'এটা আসলে পরের ক্যানোলা জাতের ব্যাপার, পরের বছরের ব্যাপার।'
ব্ল্যাকলেগের ফল পেতে অন্তত দুই সপ্তাহ লাগে, কারণ মলিকুলার বিশ্লেষণের আগে নমুনা কালচার করতে হয়। ভার্টিসিলিয়াম পরীক্ষা কয়েক দিনেই হয়, তবে ব্যস্ত শরৎ মৌসুমে তিন থেকে চার সপ্তাহ হাতে রাখতে বলেছেন জুনেক। তাঁর পরীক্ষাগার গাছের পরিবহন কলা থেকে সরাসরি ডিএনএ আলাদা করে, ফলে কাণ্ড ছিঁড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই ভার্টিসিলিয়াম স্ট্রাইপ ধরা পড়ে। রোগটি সাসকাচোয়ানে তুলনামূলক নতুন হলেও ম্যানিটোবার চাষিরা এর সঙ্গে ভালোই পরিচিত।
ভালো ফলের জন্য চাই ভালো নমুনা। জুনেকের পরামর্শ: লক্ষণযুক্ত গাছ মাটি থেকে তুলে শিকড় কেটে ফেলতে হবে, তবে ব্ল্যাকলেগ পরীক্ষার জন্য কাণ্ডের কাঠের মতো গোড়ার অংশ রাখতে হবে, আর মাটি থেকে প্রায় ১০ সেন্টিমিটার ওপরে গাছ কাটতে হবে। নমুনা রাখতে হবে কাগজের ব্যাগে, প্লাস্টিকে নয়—প্লাস্টিকে আর্দ্রতা জমে অন্য ছত্রাক জন্মায় ও বিশ্লেষণ পিছিয়ে যায়; কয়েক দিন গাড়িতে পড়ে থাকলে নমুনা নষ্ট হয়ে যায়।
মেলফোর্ট গবেষণা খামারের কর্মশালা থেকে প্রতিবেদনটি লিখেছেন ম্যানিটোবা কো-অপারেটরের উইলিয়াম ডিকে (William DeKay)।
সূত্র: Manitoba Co-operator



মন্তব্য
(০)