৩৭ বছর বয়সী সাউলি বাহাতিকে দেখে প্রচলিত খামার ব্যবস্থাপক মনে হয় না। হাতে উল্কি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি গণিতে। কেনিয়ার বদলে যাওয়া গ্রামীণ অর্থনীতিতে চেনা ছকগুলো ভাঙছে বলেই তাঁর মত।
৩১ বছর বয়সী গোখাদ্য ব্যবস্থাপক পল সিরারিকে নিয়ে তিনি ঘুরে দেখেন ৩ হাজার একরজুড়ে ছড়ানো খরাসহিষ্ণু ‘মাসাই লাভ গ্রাস’—হৃৎপিণ্ড-আকৃতির বীজের জন্য যার এই নাম। পুষ্টিকর গোখাদ্য হিসেবে এটি চাষ হয়, আর আফ্রিকার চারণভূমিতে মাটির স্বাস্থ্যও ভালো রাখে।
বাণিজ্যিক হিসাবটা সরল। কেনিয়ায় গরুর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ; এদের খাওয়াতে হলে খড় উৎপাদন লাভজনক হতে পারে, বিশেষ করে খরার বছরগুলোতে—যা দেশটিতে নিয়ম করেই আসে।
নাইরোবি থেকে ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে মাকুয়েনি কাউন্টিতে ইস্টার্ন গ্রিন লিমিটেড পরিচালিত খামারটি ঋণ নিয়েছে ‘ড্রাইভ’ কর্মসূচির আওতায়—হর্ন অব আফ্রিকায় গবাদিপশু পালনের ঝুঁকি কমাতে বিশ্বব্যাংক-সমর্থিত উদ্যোগ। বছরে ৯ শতাংশ সুদে এই ঋণ এমন এক দেশে সাশ্রয়ী, যেখানে ঋণ সাধারণত ব্যয়বহুল। বাহাতি বলেন, “আমরা যা করছি তার এক ভগ্নাংশ করতেও যদি সাধারণ ঋণ নিতেন, তাহলে আপনার টাকা ব্যাংকের সঙ্গে ভাগ করে নিতে হতো।”
‘ড্রাইভ’ পশুপালন-সংশ্লিষ্ট ১০টি বেসরকারি সুযোগ চিহ্নিত করে সেগুলোর মধ্যে ৪ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে। এর মধ্যে কেবল ইস্টার্ন গ্রিনই গোখাদ্যকেন্দ্রিক, আর তারা বিনিয়োগ করেছে সংরক্ষণশীল কৃষিতে।
উৎপাদন যায় বহু দূরে। শ্রমিকেরা হাতে খড় ঝাড়াই করেন, তারপর ট্রাক্টরচালিত বেলার তা চেপে ১৭ কেজির বান্ডিল বানায়; সেগুলো শত শত কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে গরুর খাদ্য জোগায় ও পশুপালনভিত্তিক অর্থনীতি টিকিয়ে রাখে। প্রতিটি বেল বিক্রি হয় শূন্য দশমিক ৬০ থেকে শূন্য দশমিক ৯০ ডলারে।
মুনাফা অবশ্য নিশ্চিত নয়। খরচ তুলতে ইস্টার্ন গ্রিনের প্রতি প্রান্তিকে প্রায় ৩০ হাজার ডলারের খড় বিক্রি দরকার; ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে—ভালো বৃষ্টি, দুর্বল চাহিদা—বিক্রি তার সামান্য নিচে নামে। যে পণ্যটি খারাপ আবহাওয়ার বিরুদ্ধে বিমা, তার জন্য ভালো আবহাওয়া সবসময় ভালো ব্যবসা নয়।
ঝুঁকির পরিসরটিও বড়: হর্ন অব আফ্রিকায় ৫ কোটি পর্যন্ত মানুষ পশুপালক—বিশ্বে গবাদিপশু পালনকারীদের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র; এর প্রায় ৭০ লাখ কেনিয়ায়, যেখানে জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের বেশি অন্তত কিছু পশু পালন করে।
সূত্র: বিশ্বব্যাংক





মন্তব্য
(০)