ড্রোন, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), মাটির স্মার্ট সেন্সর, স্যাটেলাইটের তথ্য আর স্বয়ংক্রিয় সেচ, এসব প্রযুক্তি এখন কৃষিকে অনুমান থেকে তথ্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোসাম্মদ ফরিদা পারভীন বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎপাদনশীলতা ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বাড়ছে আর উৎপাদন খরচ কমছে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ।
সমস্যাটা পুরোনো। আবহাওয়া, মাটির অবস্থা, কখন সেচ বা সার দিতে হবে, এসব সিদ্ধান্ত কৃষক এত দিন নিতেন অনেকটা আন্দাজে। তাতে সার, কীটনাশক আর পানির অপচয় হতো, খরচও বাড়ত।
ড্রোন দিয়ে অল্প সময়ে বড় জমিতে সমান হারে সার ও কীটনাশক ছিটানো যায়। এতে শ্রম, সময় আর উপকরণের অপচয় কমে, কৃষককেও সরাসরি রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসতে হয় না। ড্রোনের মাল্টিস্পেক্ট্রাল ক্যামেরা দেখিয়ে দেয় জমির কোন অংশে রোগ, কোথায় পানির ঘাটতি, কোথায় ফসলের বাড়ন্ত থমকে আছে।
মাটির আর্দ্রতা, পিএইচ আর পুষ্টির অবস্থা মাপছে স্মার্ট সেন্সর। আইওটির মাধ্যমে সেই তথ্য সরাসরি কৃষকের স্মার্টফোনে পৌঁছায়, ফলে কখন পানি বা সার লাগবে তা সহজে ঠিক করা যায়। স্বয়ংক্রিয় সেচব্যবস্থা প্রয়োজন অনুযায়ী পানি দেয়, তাতে পানি ও বিদ্যুতের অপচয় এবং সেচের খরচ দুটোই কমে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলাতেও এসব প্রযুক্তি কাজে আসছে। খরা, লবণাক্ততা বা আকস্মিক বন্যায় ফসলের ক্ষতি দ্রুত নিরূপণে ড্রোন ও স্যাটেলাইটের তথ্য ব্যবহার হচ্ছে, ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে চিহ্নিত করে সহায়তা দেওয়া সহজ হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় বসানো স্বয়ংক্রিয় আবহাওয়া স্টেশন কৃষককে আগাম পূর্বাভাস দিচ্ছে।
ফরিদা পারভীনের মতে, জনসংখ্যা বাড়ছে আর প্রতিবছর কৃষিজমি কমছে, তাই সীমিত জমি থেকে বেশি ফলন পেতে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার বাড়ানো গেলে খরচ কমার পাশাপাশি কৃষকের আয়ও বাড়বে।
ছবি: Christopher Hedreyd, PIA 4A CALABARZON / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪





মন্তব্য
(০)