সুন্দরবনের শেষ সীমানায়, সাগরের মোহনায় ডিমের চর। বাঘ, হরিণ, মদনটাক পাখি, বনমুরগি আর লাল কাঁকড়ার এই চরে প্রাকৃতিকভাবে জন্মাচ্ছে ধানের মতো দেখতে একটি গাছ, যা অতিমাত্রার লবণ সহ্য করতে পারে। পাখিরা এর দানা খায়, পাকা দানা মাটিতে পড়ে আবার গাছ হয়; এভাবে এটি এখন প্রায় চার কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।
কচিখালী স্টেশনের বন কর্মকর্তা চন্দন জানান, স্থানীয়ভাবে একে 'ধানসী' বলা হয় এবং এটি পাখির খাদ্য। চরে তিনটি বাঘ আর অসংখ্য হরিণ আছে, চরটি পাখির রাজ্য হিসেবে পরিচিত। তাঁর মতে, এতে ধানের সব বৈশিষ্ট্যই আছে, তাই গবেষণা হলে ভালো হয়।
সমুদ্রগামী জেলেরা জানান, বহু বছর ধরে তাঁরা এই গাছ দেখছেন। কাঁচা অবস্থায় চাষের ধানের মতোই দানায় দুধ আসে, পাকা দানা টিপলে দেশি ধানের মতো চালও বের হয়। তবে তা মানুষের খাওয়ার উপযোগী কি না, তা তাঁরা জানেন না। শীষ তুলনামূলক লম্বা ও সরু, দানা লম্বাটে, কিছু দানার খোসা হালকা বাদামি-খয়েরি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাগেরহাটের উপপরিচালক মোতাহার হোসেন বলেন, এটি অতিমাত্রার লবণসহিষ্ণু, তবে উৎপাদন হার খুবই কম। ধান গবেষণা কেন্দ্রকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। মানুষের খাবার হিসেবে এটি কতটা উপযোগী, এর পুষ্টিগুণ কেমন এবং এ থেকে নতুন লবণসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবন করা যায় কি না, তা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক রিফাত জাহান উষা বলেন, উদ্ভিদটি তৃণজাতীয় পরিবারের সদস্য, আর এই পরিবারের কোনো উদ্ভিদ প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর নয়; তবে পুষ্টিগুণ ও স্বাদ যাচাই করে দেখা যেতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এটি উপকূলের লবণাক্ত কাদামাটিতে ঘন হয়ে জন্মানো স্মুথ কর্ডগ্রাস বা স্পার্টিনা অল্টার্নিফ্লোরা প্রজাতির বহুবর্ষজীবী বুনো ঘাসও হতে পারে, যা দেখতে ধানখেতের মতো হলেও খাদ্যশস্য নয়। গাছটি আসলে কী, তা গবেষণাতেই নিশ্চিত হবে।
ডিমের চর সুন্দরবনের অংশ, তাই সেখানকার গাছ কেটে আনা আইনভঙ্গ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাগরমোহনার এমন লবণাক্ত পরিবেশে টিকে থাকা উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা দরকার, আর উপকূলের লবণাক্ত এলাকায় এর চাষ-উপযোগিতাও যাচাই করা যেতে পারে।
প্রতিবেদনটি বাংলা ট্রিবিউনের খুলনা প্রতিনিধির।
ছবি: মঈনুল / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0); সুন্দরবনের কচিখালী রেঞ্জ
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন





মন্তব্য
(০)