ক্যামেরুনে জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ কৃষিতে যুক্ত, অথচ কৃষকদের বাজার, তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বহুদিন ধরেই সীমিত। বিশ্বব্যাংক-সমর্থিত একটি কর্মসূচি এখন ডিজিটাল অবকাঠামো ও একঝাঁক স্থানীয় স্টার্টআপ দিয়ে সেই ফাঁক পূরণের চেষ্টা করছে।
‘অ্যাক্সিলারেশন অব দ্য ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন অব ক্যামেরুন প্রজেক্ট’ বা পিএটিএনইউসি-র লক্ষ্য ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ডিজিটাল কৃষিসেবার ব্যবহার বাড়ানো। সংযোগ, ডিজিটাল সাক্ষরতা ও তথ্যব্যবস্থায় বিনিয়োগ করে প্রকল্পটি সেই কাঠামোগত বাধাগুলোতেই হাত দিচ্ছে, যেগুলো কৃষককে ক্রেতা ও পরামর্শ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখে।
সহায়তা পৌঁছাচ্ছে সরাসরি খামারে। ই-ভাউচার ব্যবস্থার মাধ্যমে ৩৫ হাজার ক্ষুদ্র কৃষক উন্নত বীজ ও সারের মতো উপকরণ পাচ্ছেন, আর ডিজিটাল সরঞ্জাম দিচ্ছে মাটির স্বাস্থ্য ও মাঠের অবস্থার তাৎক্ষণিক তথ্য। ফল—উৎপাদনশীলতা বাড়ছে, অনুমাননির্ভরতা কমছে।
কর্মসূচির কেন্দ্রে রয়েছে ‘অ্যাগ্রিটেক ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’—একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম, যা কৃষির জন্য ডিজিটাল সমাধান তৈরি করা স্টার্টআপ খুঁজে বের করে ও সহায়তা দেয়; বাজারে প্রবেশ ও উৎপাদনশীলতা থেকে শুরু করে জলবায়ু সহনশীলতা পর্যন্ত। নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলো পায় অ্যাক্সিলারেশন কর্মসূচি, মেন্টরিং এবং কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা।
নকশার যে দিকটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো জোড়া বাঁধা: প্রতিটি স্টার্টআপকে যুক্ত করা হয় কৃষক দলের সঙ্গে, যাতে পণ্য অফিসে বসে বানিয়ে চাপিয়ে দেওয়ার বদলে বাস্তব পরিস্থিতিতে পরীক্ষা হয় এবং স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খায়।
প্ল্যাটফর্মের অন্যতম প্রতিষ্ঠান ই-ফার্ম ডট সিএম-এর মহাব্যবস্থাপক ব্যাং পামেলা এনচো বলেন, “আমরা কৃষকদের বিপণনে সহায়তা করি—তাঁরা শুধু আমাদের ওয়েবসাইটে পণ্য নিবন্ধন করেন না; আমরা সেগুলোর প্রচারও করি, যাতে আরও বেশি ক্রেতার কাছে পৌঁছায়।”
কৃষক ও ক্রেতার মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে প্ল্যাটফর্মগুলো বাজারের সুযোগ বাড়াচ্ছে এবং ফসল-পরবর্তী ক্ষতি কমাচ্ছে—যে পণ্য আগে ক্রেতা খুঁজতে খুঁজতে নষ্ট হতো। এর প্রভাব ইতিমধ্যেই মূল্যশৃঙ্খলজুড়ে দৃশ্যমান, পোলট্রিসহ; যেখানে ডিজিটাল বিপণন বিক্রি ও উৎপাদনের পরিকল্পনা—দুটোই বদলে দিয়েছে।
সূত্র: বিশ্বব্যাংক





মন্তব্য
(০)