ভারতের ন্যাশনাল ব্যাংক ফর অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট (National Bank for Agriculture and Rural Development, নাবার্ড) ভদোদরার অ্যাগ্রি-ফিনটেক স্টার্টআপ টোয়েন্টিফোর-সেভেন মানিওয়ার্কস কনসালটিং (24X7 Moneyworks Consulting)-এর সঙ্গে মিলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে সমবায় ব্যাংক ও আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাংকের (RRB) মাধ্যমে তিন লাখের বেশি কিষান ক্রেডিট কার্ড (KCC) আবেদন অনলাইনে তুলেছে বলে রোববার ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস জানিয়েছে।
ই-কেসিসি পোর্টালটি তৈরি হয়েছে সমবায় ব্যাংক ও প্রাথমিক কৃষি ঋণ সমিতির (PACS) জন্য। এতে কৃষকের আধার যাচাই, জমির রেকর্ড মিলিয়ে দেখা এবং ফসল ও চাষের জমির পরিমাণ অনুযায়ী ঋণসীমা নির্ধারণ হয়—পত্রিকাটিকে এ কথা জানান কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী রঞ্জিত গৌতম (Ranjeet Gautam)। এক বছরেরও কম সময়ে উদ্যোগটি প্রায় ২৩৮টি সমবায় ব্যাংক ও প্রায় ৩২,০০০ প্যাকসে পৌঁছেছে; শুধু এই সমবায় নেটওয়ার্কেই প্রায় ১.৭ লাখ আবেদন ইলেকট্রনিকভাবে জমা পড়েছে।
গৌতম বলেন, পোর্টালে কৃষক নিজের জেলায় প্রতিটি ফসলের জন্য নির্ধারিত অর্থায়নের মাপ এবং নিজের ঋণযোগ্যতার সীমা দেখতে পারেন। ব্যাংক কর্মকর্তাদের ভাষায়, প্রচলিত কেসিসি প্রক্রিয়া 'অদক্ষতায় ভরা'—কৃষককে বারবার ব্যাংকে যেতে হয়, কাগজের ফর্ম, তিন-চার সপ্তাহের অপেক্ষা। নাবার্ডের এক কর্মকর্তার মতে, ডিজিটাল পথে কৃষিঋণ বিতরণে প্রবেশাধিকার, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়বে।
নাবার্ড অপ্রকাশিত মূল্যে কোম্পানিটির ১০ শতাংশ শেয়ার কিনেছে—কোনো বুটস্ট্র্যাপড স্টার্টআপে তাদের প্রথম বিনিয়োগ। কোম্পানিটি কৃষি অবকাঠামো তহবিলের (Agriculture Infrastructure Fund) সুদ-ভর্তুকি দাবি ব্যবস্থাপনার একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও তৈরি করেছে, যাতে দাবি যাচাই ও অর্থছাড় হয় রিয়েল টাইমে।
কেসিসিতে কৃষক বীজ, সার ও বালাইনাশক কেনার জন্য সাশ্রয়ী ঋণ পান। জমির মালিক এমন সচল কেসিসিধারী ৭.৭২ কোটি; এর মধ্যে ২.৪ লাখ কার্ড মৎস্য ও ৪৪ লাখ কার্ড পশুপালনের জন্য। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাণিজ্যিক ব্যাংক, সমবায় ও আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাংক থেকে কৃষি খাতে ঋণ ৩২.৫ লাখ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে, যার প্রায় ৬০ শতাংশ স্বল্পমেয়াদি ফসল ঋণ, বাকিটা কৃষি ও সহযোগী খাতে বিনিয়োগ ঋণ।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত সুদ-ভর্তুকি প্রকল্পে (MISS) কেসিসিধারী কৃষক চলতি মূলধনের জন্য ৩ লাখ রুপি পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি ঋণ পান বার্ষিক ৭ শতাংশ সুদে; সময়মতো পরিশোধে আরও ৩ শতাংশ ভর্তুকি মেলে, ফলে কার্যকর সুদহার দাঁড়ায় ৪ শতাংশে।
প্রতিবেদনটি ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের জন্য লিখেছেন সন্দীপ দাস (Sandip Das)।
সূত্র: Financial Express Agriculture




মন্তব্য
(০)