রাজধানীর বাজারগুলোতে হঠাৎ করে ইলিশের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম নিম্নমুখী হয়েছে, কিন্তু ক্রেতা কমেছে আশঙ্কাজনকভাবে। কর্মদিবসের পাশাপাশি এর পেছনে কাজ করছে বাজারে ‘ভারতের গুজরাটি ইলিশ’ ঢুকে পড়ার গুজব ও আতঙ্ক—কোনটা আসল আর কোনটা নকল, তা নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মিরপুর-২, ১০, ১৩ ও ১৪ নম্বর বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও ফার্মগেটের কলমিলতা বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। আকারভেদে ইলিশের দাম কেজিতে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা কমেছে।
১ কেজির বেশি ওজনের ইলিশ আগে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এখন ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। ৬০০-৯০০ গ্রামের ইলিশ ২ হাজার থেকে নেমে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা; ৫০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ৫০০ থেকে কমে ১ হাজার ২০০ টাকা; আর ২০০ গ্রামের ছোট ইলিশ ৮০০-১ হাজার টাকা থেকে নেমে ৬০০-৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, আগে প্রতিটি বাজারে দুই-তিনজন বিক্রেতার কাছে বড়জোর ২ থেকে ৫ কেজি ইলিশ থাকত; এখন চার-পাঁচজন বিক্রেতার কাছে ৫ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত মাছ আছে। সামনেই প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধের সরকারি নিষেধাজ্ঞা আসছে বলে জেলেরা নদী ও সাগরে বেশি মাছ ধরছেন—সরবরাহ বাড়ার এটিই অন্যতম কারণ।
দাম কমলেও ক্রেতার দেখা নেই বললেই চলে। মিরপুর-২ নম্বর বাজারে সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত আটটি ইলিশের দোকানে মাত্র ছয়জন ক্রেতা দেখা যায়, কিনেছেন দুজন; মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে উপস্থিতি কিছুটা বেশি ছিল। মিরপুর-১৩ নম্বর বাজারে ইলিশ কিনতে আসা আজিজুল ইসলাম বলেন, গুজরাটি ইলিশ নাকি দেখতে হুবহু দেশি ইলিশের মতো—কোনটা আসল, বোঝার উপায় নেই। একই বাজারের বিক্রেতা রফিকুল মিয়ার দাবি, মিরপুরে কোনো গুজরাটি ইলিশ আসেনি।
মাছ বিষয়ে অভিজ্ঞরা গুজরাটি বা সার্ডিন-জাতীয় (চোঁখরা) মাছ থেকে পদ্মা-মেঘনার ইলিশ চেনার কয়েকটি উপায় বলছেন: দেশি ইলিশ সুগঠিত, চ্যাপ্টা ও পেটের দিকে পটলের মতো হালকা বাঁকানো, গুজরাটিটি তুলনামূলক সরু ও লম্বা; দেশি ইলিশের গা উজ্জ্বল রুপালি, গুজরাটিটির পিঠ কালচে-সবুজ ও আঁশ খসখসে; দেশি ইলিশের চোখ ও মুখ ছোট, সার্ডিনের চোখ ও মাথা শরীরের তুলনায় বড়; আর তাজা দেশি ইলিশে নির্দিষ্ট সুবাস থাকে, দীর্ঘদিন বরফজাত আমদানি মাছে থাকে হিমায়িত মাছের প্রখর গন্ধ।
ভরা মৌসুমের শেষে এবং প্রজনন মৌসুমের নিষেধাজ্ঞার আগে এই সরবরাহ ও দামের পতন জেলে ও আড়তদারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ; আমদানি করা মাছ স্পষ্টভাবে চিহ্নিত না হলে ক্রেতার অনাস্থা দেশি ইলিশের বাজারকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
সূত্র: বাংলানিউজ২৪





মন্তব্য
(০)