সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার জীবন্ত গবাদিপশু রপ্তানি প্রায় ৩৫ শতাংশ কমেছে। তবে ডারউইনে রপ্তানির ষাঁড়ের দাম স্থির রয়েছে, কারণ রপ্তানিকারকেরা আশা করছেন রমজান সামনে রেখে ইন্দোনেশিয়ার ফিডলটগুলো আবার কেনা শুরু করবে। খবরটি দিয়েছে বিফ সেন্ট্রাল।
সেপ্টেম্বরে মোট রপ্তানি হয়েছে ৪৬,৭৬৫টি গরু, আগস্টে যা ছিল ৭১,৭১১টি, ২০২৬ সালের সর্বোচ্চ মাসিক সংখ্যা; তখন ইন্দোনেশিয়ার ফিডলটগুলো ঘাটতি পূরণে কিনছিল। সেপ্টেম্বরের চালানের ৩৪,০৮৫টি গেছে ইন্দোনেশিয়ায়, ৭,৫৬৭টি দুগ্ধ গাভি চীনে, আর ৫,২১৩টি মোটাতাজা ও জবাইয়ের গরু ভিয়েতনামে, যা এ বছর ভিয়েতনামে সর্বোচ্চ মাসিক চালান। নভেম্বর থেকে কেনাকাটা আবার বাড়বে বলে আশা, কারণ ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে রমজান ও লেবারানের চাহিদা মেটাতে ফিডলটগুলো খোঁয়াড় ভরবে।
বাণিজ্য সূত্রগুলো জানিয়েছে, ডারউইনে রপ্তানির ষাঁড় জীবন্ত ওজনে কেজিপ্রতি প্রায় ৪৫০ সেন্টে বিকোচ্ছে, কোথাও ৪৬০ সেন্টেও। ইন্দোনেশিয়ার আমদানিকারকেরা চাপে আছেন বাড়তি জাহাজভাড়া, দুর্বল রুপিয়া, মন্দা অর্থনীতি আর মোটাতাজা গরুর বিক্রয়মূল্যে সরকারি সীমার কারণে। অ্যাডকক পার্টনার্সের উত্তরাঞ্চলীয় পশু এজেন্ট মাইকেল স্পেন্সার (Michael Spencer) বলেন, গরু চালান হচ্ছে, রপ্তানির অপেক্ষায় কোনো জট নেই। তাঁর মতে, কেজিপ্রতি সাড়ে চার ডলারে অস্ট্রেলীয় খামারিদের সন্তুষ্ট থাকা উচিত, আর ক্রেতারা এই দামেই চুক্তি করছেন। সামনের প্লাবনভূমির গরু বিক্রির মৌসুমে ৪০,০০০ থেকে ৫০,০০০ গরু আসবে, যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আগেই নির্ধারিত, বলেন তিনি।
গ্লোবাল অ্যাগ্রি-ট্রেন্ডসের বাজার বিশ্লেষক সাইমন কুইলটি (Simon Quilty) ক্লোনকারিতে খামারিদের বলেন, এ বছর অস্ট্রেলিয়ার জীবন্ত গরু রপ্তানি প্রায় ৬,১৪,০০০টিতে নামবে বলে তাঁর ধারণা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতীয় মহিষের মাংস অস্ট্রেলীয় গরুর চাহিদা কমাচ্ছে; ভিয়েতনামে এ বছর মাত্র ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ গরু যাবে বলে তিনি মনে করেন। অন্যদিকে ব্রাজিলের গরু প্রায় ২১ শতাংশ সস্তা; দেশটি এ বছর প্রায় ১২ লাখ গরু রপ্তানি করবে, যার বড় অংশ যাবে তেলসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে।
রমজানে গরু কেনে এমন মুসলিমপ্রধান দেশসহ আমদানিকারকদের জন্য এই হিসাব দেখায়, জাহাজভাড়া, মুদ্রার মান আর ব্রাজিল ও ভারতীয় মহিষের মাংসের প্রতিযোগিতা এখন জীবন্ত গরুর দাম ঠিক করছে। প্রতিবেদনটি করেছেন জেমস নেসন (James Nason)।
ছবি: kenhodge13 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: বিফ সেন্ট্রাল





মন্তব্য
(০)