ফসলের জাত উদ্ভাবন ধীর বা সেকেলে বিজ্ঞান নয়, আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রজননবিদের জায়গা নেবে না। নতুন জাত কীভাবে তৈরি হয়ে কৃষকের মাঠে পৌঁছায়, তা নিয়ে আটটি প্রচলিত ভুল ধারণার ব্যাখ্যায় এ কথা বলেছে সিজিআইএআরের বিজ্ঞান কর্মসূচি ব্রিডিং ফর টুমরো।
প্রযুক্তির প্রশ্নে কর্মসূচিটি বলছে, জিনোমিক সিলেকশন, স্পিড ব্রিডিং এবং মাঠে গাছ মূল্যায়নে ড্রোন ও ডিজিটাল ছবির মতো প্রযুক্তি প্রজননবিদদের আরও বেশি উপাদান যাচাই করতে, আগে সিদ্ধান্ত নিতে এবং নতুন জাত তৈরির সময় কমাতে সাহায্য করছে। বিশাল জিনোমিক তথ্য ও ড্রোনের ছবি বিশ্লেষণ করে সবচেয়ে সহনশীল গাছ বাছাইয়ে এআই কাজে লাগছে, তবে কার্যকর প্রজনন কর্মসূচির ভেতরে, প্রজননবিদ ও কৃষককে কেন্দ্রে রেখেই।
ফসল প্রাকৃতিকভাবেও বিবর্তিত হয়, কিন্তু বদলে যাওয়া জলবায়ু ও বাড়তি জনসংখ্যার তুলনায় তা অনেক ধীর। প্রজননবিদেরা বেশি ফলন, ভালো স্বাদ বা মানের মতো গুণ আছে এমন গাছ খুঁজে সংকরায়ণ করেন এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম যাচাই করে সেরা গুণের সমন্বয় নতুন জাতে স্থির করেন।
জাত উদ্ভাবন দলগত কাজ। রোগতত্ত্ববিদ, জিনতত্ত্ববিদ ও আচরণবিজ্ঞানীর পাশাপাশি কৃষক, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকে। সিজিআইএআরের প্রজনন দলগুলো অংশীদার দেশের জাতীয় কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণ ব্যবস্থার (নারস) সঙ্গে কাজ করে, যারা স্থানীয় পরিবেশ এবং কৃষক, প্রক্রিয়াজাতকারী ও ভোক্তার চাহিদা জানে।
শুধু ফলনই লক্ষ্য নয়। কৃষকের দরকার হতে পারে আগাম পাকা বা খরা, তাপ, পোকা ও রোগ সহ্য করার ক্ষমতা; ভোক্তা চান স্বাদ, রান্নার মান ও পুষ্টি; চালকল মালিকদেরও আলাদা চাহিদা আছে। এক জাত সবার জন্য নয় বলে অংশীদারদের সঙ্গে মিলে বাজারভিত্তিক ভাগ ও লক্ষ্য পণ্যের বৈশিষ্ট্য ঠিক করা হয়। আর গবেষণাগারে থাকা জাত কাউকে খাওয়ায় না: মাঠ পরীক্ষা, সরকারি অনুমোদন, মানসম্মত বীজ উৎপাদন ও কৃষকের গ্রহণ পর্যন্ত যেতে হয়।
জলবায়ু পরিবর্তন কেবল ফলন কমায় না; তাপ, খরা, বন্যা ও বদলে যাওয়া পোকামাকড় বপনের সময়, বৃদ্ধি, পুষ্টিমান ও পাকার সময়ও বদলে দেয়। তাই সিজিআইএআরের প্রজননবিদেরা তাপসহিষ্ণুতা, খরাসহিষ্ণুতা, রোগ প্রতিরোধ, পুষ্টি ও স্বল্প জীবনকালের মতো গুণ একসঙ্গে মেলাচ্ছেন।
ছবি: Unknown author, U.S. National Archives / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: CGIAR





মন্তব্য
(০)