কৃষি বনায়নে যাওয়ার খরচ মেটানোর উপায় হিসেবে কার্বন ক্রেডিটকেই সাধারণত সামনে আনা হয় — গাছ কার্বন ধরে রাখবে, চাষি তা থেকে আয় করবেন, হিসাব মিলে যাবে। কলম্বিয়ার কোকো খাত নিয়ে করা গবেষণা বলছে, হিসাব মেলার ধারেকাছেও নেই।
ইবুকুন তাইও, মার্থা ভানেগাস ও কার্লোস আন্দ্রেস বোর্দা পরীক্ষা করে দেখেছেন, কাকেতা ও সেসার বিভাগে কোকো খামারকে কৃষি বনায়নে বদলানোর খরচ কার্বন আয় দিয়ে মেটানো যায় কি না। পর্যালোচনাধীন গবেষণাপত্রে তাঁরা প্রাথমিক, মধ্যবর্তী ও উন্নত — তিন ধরনের ব্যবস্থার তুলনা করেছেন। দুই বিভাগেই তিনটিই ২৫ বছরে ইতিবাচক নিট বর্তমান মূল্য দিয়েছে। অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদে কোকো কৃষি বনায়ন লাভজনক।
সমস্যা স্বল্পমেয়াদে। প্রথম দুই বছর কোকোতে ফলন আসে না, আয় কম থাকে প্রায় সাত বছর, আর সবচেয়ে বড় আয় — বিশেষত কাঠ থেকে — আসতে পারে ২০ বছর বা তারও পরে। চাষিকে বাগান বসানো ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ দিতে হয় প্রতিদান পাওয়ার অনেক আগে। দুই বিভাগের ২৮টি পৌরসভায় জরিপ করা ৯২৭ জন কোকো চাষির প্রায় ৭০ শতাংশের কোনো ঋণসুবিধা ছিল না, যদিও তাঁরা নতুন গাছ লাগাতে ও উপকরণ কিনতে অর্থায়নের আবেদন করেছিলেন।
এই ফাঁকের তুলনায় কার্বন থেকে আয় সামান্য। দুটির মধ্যে অনুকূল কাকেতায় উন্নত কৃষি বনায়ন ব্যবস্থার নিট বর্তমান মূল্য ২৫ বছরে বেড়েছে হেক্টরপ্রতি প্রায় ১৮০ ডলার। হিসাবটি করা হয়েছে কলম্বিয়ার কার্বন কর অব্যাহতি ব্যবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে ২০২২ সালের প্রতি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্যের দাম ৪.৫৯ ডলার এবং ২৫ বছরের ক্রেডিটিং মেয়াদ ধরে; সঙ্গে জাতীয় মানদণ্ড থেকে নেওয়া যাচাই, নিরীক্ষা ও সনদায়নের খরচ যুক্ত হয়েছে।
সেসারে ফল হয়েছে উল্টো। সেখানকার ব্যবস্থায় থাকা গাছের প্রজাতিগুলো কার্বন ধরে কম। নিবন্ধন ও লেনদেনের খরচ ধরার পর কার্বন ক্রেডিট হেক্টরপ্রতি লাভ কমিয়েছে প্রায় ১৭ ডলার। একই দেশের দুই অঞ্চলে একটিতে সামান্য লাভ আর অন্যটিতে সামান্য ক্ষতি — এর চেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ আর হয় না যে কার্বন অর্থায়নের প্রক্ষেপণ করতে হবে স্থানীয় প্রজাতি, কার্বন শোষণের হার, দাম, প্রকল্পের আকার ও লেনদেন খরচ ধরে, জাতীয় গড় দিয়ে নয়।
কাকেতা ও সেসার — দুটিই সংঘাত-পরবর্তী এলাকা, সেখানে আরেকটি বাধা আছে। কার্বন বাজারে বা কলম্বিয়ার ওব্রাস পোর ইম্পুয়েস্তোস ব্যবস্থায় অংশ নিতে হলে জমির ওপর আইনস্বীকৃত দাবি দেখাতে হয়। ২০১৭ সালের ডিক্রি ল ৮৭০ অনুযায়ী যোগ্য হতে হলে হতে হবে মালিক, আইনস্বীকৃত দখলদার, কিংবা ক্রয়চুক্তি দেখাতে পারা সরল বিশ্বাসের দখলদার। এর কোনোটিই দেখাতে না পারা চাষি বাদ পড়ে যান, গাছ লাগাতে যতই আগ্রহী হোন।
লেখকেরা বলছেন না যে কার্বন বাজার অপ্রয়োজনীয় — বলছেন, এটি সহায়ক উৎস, ভিত্তি নয়। চাষির দরকার শুরুর দিকের টাকা: বাগান বসানোর অনুদান, লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি এবং সাশ্রয়ী দীর্ঘমেয়াদি ঋণ। ওব্রাস পোর ইম্পুয়েস্তোস — যাতে কোম্পানি তার আয়করের অংশ সংঘাতপীড়িত পৌরসভার অনুমোদিত প্রকল্পে দিতে পারে — নার্সারি, চারা রোপণ, কারিগরি সহায়তা ও ক্ষুদ্র চাষিদের নগদ সহায়তার খরচ বহন করতে পারে সেই বছরগুলোতে, যখন কোনো আয় নেই। গাছ পরিণত হলে ও যাচাইয়ের শর্ত পূরণ হলে কার্বন আয় আসতে পারে এর পরে।
সূত্র: সিজিআইএআর (CGIAR)





মন্তব্য
(০)