চীনের কৃষি ও গ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় নতুন জাতীয় প্রাণিসম্পদ ও পশুচিকিৎসা শিল্প উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এতে ১৫টি সংখ্যাভিত্তিক লক্ষ্য থাকলেও মোট মাংস উৎপাদন বাড়ানোর কোনো লক্ষ্য রাখা হয়নি। কর্মকর্তারা বলছেন, শূকরের মাংসের চাহিদা মোটামুটি চূড়ায় পৌঁছেছে, অথচ উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত বেড়েছে। খবরটি দিয়েছে এজিনেভিগেটর।
মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, চাহিদা ও জোগানের নতুন বাস্তবতার কারণেই মাংস উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য রাখা হয়নি। উদ্দেশ্য হলো শূকর শিল্পকে পরিমাণনির্ভর প্রবৃদ্ধি থেকে মানসম্পন্ন উন্নয়নের পথে নেওয়া। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রধান প্রাণিজ পণ্যের জোগান আরও স্থিতিশীল ও নিরাপদ করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে।
পরিকল্পনার কেন্দ্রে আছে প্রযুক্তি। পাঁচটি মূল কাজের একটি হলো পুরো খাতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো, যার মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ দ্রুত করা ও স্মার্ট প্রাণিসম্পদ খামার গড়ে তোলা। রোগ শনাক্তকরণ, পশুর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, প্রজনন ও স্বয়ংক্রিয় খামার পরিচালনায় বিশ্বজুড়ে এআই ব্যবহার বাড়ছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় শূকর উৎপাদক চীনের মুইউয়ান গ্রুপ তাদের বিশাল খামারে প্রাণিকল্যাণ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনায় এআইয়ের ওপর নির্ভর করে।
এই পরিবর্তন আসছে রেকর্ড উৎপাদনের সময়ে। ২০২৫ সালে চীনে মাংস, ডিম ও দুধের মোট উৎপাদন ১৭ কোটি ৫০ লাখ টন ছাড়িয়েছে, টানা তৃতীয় বছর ১৭ কোটি টনের ওপরে। শুধু মাংসের উৎপাদন প্রথমবারের মতো ১০ কোটি টন পেরিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, উৎপাদনের ৭৬.৯ শতাংশ এখন বাণিজ্যিক বড় খামার থেকে আসে, খাতের প্রবৃদ্ধির ৭০ শতাংশ এসেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি থেকে, আর পশুর বর্জ্যের ৮০ শতাংশের বেশি কাজে লাগানো হচ্ছে।
আগামী পাঁচ বছরে নীতির নজর থাকবে উৎপাদনশীলতা ও মূল্য সংযোজনে: জোগান স্থিতিশীল রাখা, উন্নত জাতের প্রসার, পশুখাদ্যের ঘাস চাষ বাড়ানো, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনের মান উন্নয়ন এবং ব্র্যান্ড তৈরি। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো যেন ছোট খামারিদের সঙ্গে নিয়ে চলে এবং লাভের ভাগ ন্যায্য হয়, সে কথাও পরিকল্পনায় আছে।
রোগ প্রতিরোধেও জোর দেওয়া হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তার মান বাড়ানো, প্রতি একক উৎপাদনে পশুর অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশবান্ধব খামার পদ্ধতি ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যও ঠিক করা হয়েছে।
ছবি: Dingar / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: AgNavigator





মন্তব্য
(০)