ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীর বালুচরে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো কাশ এখন কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের চরাঞ্চলের কৃষকদের বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। চাষের অনুপযোগী এসব জমিতে বীজ বোনা, সার, কীটনাশক বা সেচ লাগে না; খরচ কেবল কাটার সময়ের শ্রমিকের মজুরি। এগ্রিকেয়ার২৪-এর প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার চর মনতলায় ব্রহ্মপুত্রের বালুচরে বিস্তীর্ণ কাশবন গড়ে উঠেছে। সেখানকার কৃষক বেলাল হোসেন জানান, তাঁর চার একর জমির দুই একরই বালুচর, যেখানে আপনা-আপনি কাশ জন্মায়। গত বছর এক একর থেকে প্রায় ৩০ হাজার আঁটি কাশ তুলে প্রতি আঁটি ৮ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি করে তিনি মোট ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। কাটা ও সংগ্রহে একরপ্রতি খরচ হয় প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার চর ফলিমারীর কৃষক মেছের আলী গত বছর দুই বিঘার কাশ বেচে পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, খরচ হয়েছিল ৪০ হাজার টাকা। এবার তাঁর চার বিঘায় কাশ জন্মেছে, এর মধ্যেই এক ব্যবসায়ী তাঁকে ৪০ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়েছেন।
কৃষকেরা জানান, কাশের মূল চাহিদা পানের বরজে: বরজের কাঠামো ও ছাউনি তৈরিতে কাশ লাগে, তাই দেশের পানচাষ এলাকাগুলোতে এর কদর আছে। মৌসুমে পাইকারেরা নৌকা ও ট্রাকে করে চর থেকে কাশ কিনে নিয়ে যান। চিলমারীর কাশ ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান জানান, প্রতিবছর নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার ও ধরলার তীরে অস্থায়ী কাশের হাট বসে; তাঁর দাবি, মৌসুমে এসব হাটে প্রায় ১০০ কোটি টাকার কেনাবেচা হয়।
কুড়িগ্রাম চর উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবুর মতে, গত ১০ থেকে ১২ বছরে পানচাষে কাশের ব্যবহার বাড়ায় এর চাহিদা ও দাম দুটোই বেড়েছে। কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু ফাত্তাহ মো. রওশান কবির জানান, সাধারণত জুন-জুলাইয়ে কাশ বাড়তে শুরু করে এবং নভেম্বরের মধ্যে পরিপক্ব হয়।
নদীভাঙন ও বন্যার ঝুঁকিতে থাকা চরের মানুষের কাছে তাই কাশ কেবল শরতের দৃশ্য নয়; কাটার মৌসুমে কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও পরিবহনকর্মীদের কাজ বাড়ে, অনাবাদি জমি থেকেও আসে নগদ আয়।
ছবি: Auyon / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪





মন্তব্য
(০)