দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান শহরের একটি সরু খালে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আটকে আছে ৩ দশমিক ৫ মিটার লম্বা একটি হাঙর। সমুদ্রে ফেরার পথ খুঁজে না পেয়ে খালেই ঘুরছে প্রাণীটি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এটি একটি ব্রোঞ্জ হোয়েলার হাঙর।
বুসানের নর্থ পোর্টের নাম অনুসারে হাঙরটির নাম রাখা হয়েছে 'বুকাং-ই'। গত ১৮ সেপ্টেম্বর প্রথম সেটিকে খালে দেখা যায়। বুসান সিটি কর্তৃপক্ষের হিসাবে ১৯ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নর্থ পোর্ট ওয়াটারফ্রন্ট পার্কে গেছেন ৬ লাখ ৭ হাজার মানুষ। সাধারণ ছুটির দিনে সেখানে হাজার দুয়েক মানুষ যেতেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিকারের পিছু নিতে নিতে হাঙরটি সমুদ্র থেকে খালে ঢুকে পড়ে, পরে আর বের হওয়ার পথ পায়নি। প্রথম দিনই উপকূলরক্ষীরা সেটিকে বের করার চেষ্টা করেন, তবে ছয় ঘণ্টা পর অভিযান থামানো হয়। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছিলেন, জোর করে বের করতে গেলে হাঙরটি আহত বা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে।
মঙ্গলবার সকালে উপকূলরক্ষীদের নৌকা থেকে হাঙরটির পেছনে জোরে পানি ছুড়ে সেটিকে সমুদ্রের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়। কর্মকর্তারা জানান, ২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে অগভীর পানিতে আটকে পড়া একটি গ্রেট হোয়াইট হাঙর উদ্ধারে একই পদ্ধতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বুসানে হাঙরটি নৌকাগুলো পাশ কাটিয়ে আবার খালের ভেতরে ফিরে যায়, বিকেলে অভিযান আবার স্থগিত হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফিশারিজ সায়েন্স জানিয়েছে, হাঙরটি আপাতত স্থিতিশীল। তবে খালে তার চলাফেরা ও খাবার সংগ্রহের সুযোগ সীমিত, বেশি দিন আটকে থাকলে সেটি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা কর্মকর্তাদের।
দেশটির মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্যে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে পূর্ব উপকূলে ৪৬টি বড় হাঙর দেখা গেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের প্রায় চার গুণ। গবেষকদের মতে, সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং হাঙরের শিকার মাছের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে। খবরটি দ্য গার্ডিয়ানের বরাতে জাগো নিউজ ২৪ প্রকাশ করেছে।
ছবি: Robert Nyman / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪




মন্তব্য
(০)