সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৫°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৯৫%বাতাস কিমি/ঘ

বন্যার পূর্বাভাস দেবে বাকৃবি গবেষকদের উদ্ভাবিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

বাংলাদেশের মতো বন্যাপ্রবণ দেশে নদীর পানির উচ্চতার আগাম ও নির্ভুলভাবে জানানো দীর্ঘদিনের এক বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে পর্যাপ্ত তথ্য বা উপাত্তের অভাব রয়েছে, সেখানে এই সমস্যা আরও জটিল হয়ে ওঠে। এমন বাস্তবতায় একটি অত্যন্ত কার্যকর পূর্বাভাস মডেল তৈরি করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি)

পরিবেশ

বাংলাদেশের মতো বন্যাপ্রবণ দেশে নদীর পানির উচ্চতার আগাম ও নির্ভুলভাবে জানানো দীর্ঘদিনের এক বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে পর্যাপ্ত তথ্য বা উপাত্তের অভাব রয়েছে, সেখানে এই সমস্যা আরও জটিল হয়ে ওঠে। এমন বাস্তবতায় একটি অত্যন্ত কার্যকর পূর্বাভাস মডেল তৈরি করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক আধুনিক মেশিন লার্নিং ও ডিপ লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা এটি তৈরি করেছেন। মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট বন্যা মোকাবিলা এবং তথ্য সংকটপূর্ণ এলাকায় কার্যকরভাবে বন্যার সতর্কবার্তা দিতেই এই গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়েছে।

এই গবেষণার মূল নেতৃত্বে ছিলেন বাকৃবির সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তৌহিদুল ইসলাম। গবেষক দলে আরও ছিলেন একই বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আদহামসহ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা।

গুরুত্বপূর্ণ এই গবেষণা প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (এমওএসটি) এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম (বাউরেস) প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান করেছে।

গবেষণাটির কাজ ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয় এবং দীর্ঘ ২৬ বছরের অর্থাৎ ১৯৯৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আবহাওয়ার তথ্য ও নদ-নদীর উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই শক্তিশালী মডেলটি তৈরি করা হয়েছে। গবেষণাটি ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক জার্নালের কিউ১-কিউ২ ক্যাটাগরিতে প্রকাশিত হয়।

গবেষণার মূল উদ্ভাবন হলো- এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নদীর পানির উচ্চতা সম্পর্কে আগাম ধারণা দেওয়া। গবেষকরা পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন ইসলামপুর, সরিষাবাড়ী, দেওয়ানগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বেশ কয়েকটি ভিন্ন এআই মডেলের মাধ্যমে পরীক্ষা চালিয়েছেন।

এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, নদীর পানির উচ্চতা এবং পানি প্রবাহের হারের মতো আবহাওয়া সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য ব্যবহার করে নদীর পানি কত বাড়বে বা কমবে তা আগাম জানানো। প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় এই নতুন প্রযুক্তি অনেক কম তথ্য ব্যবহার করেও অত্যন্ত নির্ভুল পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হয়েছে।

গবেষণার ফলাফল নিয়ে অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আদহাম জানান, যখন অতীতের পানির উচ্চতার তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে, তখন র‌্যানডম ফরেস্ট (আরএফএম) মডেলটি ৯৯.১৬ শতাংশ পর্যন্ত নির্ভুল ফলাফল দিয়েছে। অন্যদিকে যেসব এলাকায় তথ্যের ঘাটতি রয়েছে, সেখানে কেবল বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার তথ্য বিশ্লেষণ করে ডিপ লার্নিং মডেল (এলএসটিএম) ৮১.৪৫ শতাংশ পর্যন্ত সঠিক পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও এ গবেষণায় এসভিএম মডেলটিও ব্যবহৃত হয়েছে। তথ্যের স্বল্পতা থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের নির্ভুল ডেটা সংকটপূর্ণ এলাকায় বড় সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই গবেষক বলেন, এই প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগ করা হলে দেশের কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন। বন্যার সঠিক আগাম পূর্বাভাস পেলে কৃষকরা আগেভাগেই তাদের পাকা ধান বা অন্যান্য ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। এছাড়া গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরানো এবং সেচ পরিকল্পনায় পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে কৃষকের সম্ভাব্য বড় আর্থিক ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। গবেষকদের লক্ষ্য হলো এই মডেলটিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রয়োগ করা এবং একটি কার্যকর আগাম সতর্ক ব্যবস্থা তৈরি করা। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি নির্দিষ্ট এলাকায় তৈরি এই মডেল অন্য এলাকাতেও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।

এই উদ্ভাবনটি বর্তমানে একটি কার্যকর অপারেশনাল ফ্রেমওয়ার্ক হিসেবে প্রস্তুত আছে, যা দেশের জাতীয় নদী নেটওয়ার্কের পূর্বাভাস কেন্দ্রের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা সম্ভব। এটি কোনো নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক পণ্য নয়, বরং একটি ডিজিটাল বা সফটওয়্যার ভিত্তিক প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন। ফলে এটি ব্যবহারের জন্য কৃষকদের বাড়তি কোনো টাকা খরচ করতে হবে না। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও কারিগরি সহায়তা পেলে এই এআইভিত্তিক প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করে একটি পূর্ণাঙ্গ অপারেশনাল সিস্টেমে রূপান্তর করা সম্ভব হবে এবং তা সহজেই মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা যাবে। এছাড়াও সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে এটি অ্যাপ বা মোবাইল বার্তার আকারে কৃষকদের কাছে সুলভে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব বলে ওই গবেষক আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

জৈব

ঘাসের বোর্ড বানানো Plantd কারখানার বর্জ্য থেকে বায়োচার বানিয়ে বিক্রি করছে চাষিদের কাছে

নর্থ ক্যারোলাইনার নির্মাণসামগ্রী প্রতিষ্ঠান Plantd, যাদের উদ্বৃত্ত ঘাসের জৈববস্তু সরাতে মাসে ১৩ হাজার ডলার খরচ হচ্ছিল, সেই বর্জ্য থেকে বায়োচার তৈরির একটি পণ্যলাইন চালু করেছে এবং মাটির উন্নয়ন উপকরণ হিসেবে চাষিদের কাছে বিক্রি করছে।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২৭ আগস্ট ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

বাতাস ও পানি থেকে এক অনুঘটকে অ্যামোনিয়া বানাতে চায় অস্ট্রেলিয়ার Facet Amtech

নাইট্রোজেন সারের মূল উপাদান অ্যামোনিয়া আলাদা হাইড্রোজেন প্ল্যান্ট ছাড়াই সরাসরি বাতাস ও পানি থেকে তৈরির অনুঘটক পাইলট করতে Facet Amtech ৩০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারের সিড বিনিয়োগ তুলেছে; তাদের লক্ষ্য কার্বন মূল্য ছাড়াই খরচে জীবাশ্মভিত্তিক অ্যামোনিয়াকে হারানো।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২৬ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
জৈব

সিলিকেট পাথরকে এক মৌসুমে গলা কার্বন-শোষক সারে বদলাতে ৫৪ লাখ ডলার তুলল Mafix

Stanford থেকে বেরিয়ে আসা Mafix ৫৪ লাখ ডলারের প্রি-সিড বিনিয়োগ তুলেছে সিমেন্ট চুল্লিতে চুনাপাথরের সঙ্গে সিলিকেট পাথর গরম করে এমন একটি খনিজ বানাতে, যা খেতে এক মৌসুমেই ক্ষয়ে যায়, কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ করে এবং উদ্ভিদের গ্রহণযোগ্য সিলিকন ও ক্ষারত্ব জোগায়।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২০ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()