সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ৯ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৭°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৫%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

গাড়ল পালন: স্বল্প পুঁজিতে লাভের সম্ভাবনা, জাতের পরিচয় ও যত্নের নিয়ম

মেহেরপুরের খামারিদের হাত ধরে ছড়িয়ে পড়া গাড়ল ভারতীয় বড় জাতের ভেড়া ও দেশি ভেড়ার সঙ্কর, যা ঘাস-লতাপাতা খেয়েই বড় হয়। জাতের পরিচয়, ঘর তৈরি, সুস্থতার লক্ষণ ও পিপিআর টিকার কথা জানুন।

গাড়ল পালন: স্বল্প পুঁজিতে লাভের সম্ভাবনা, জাতের পরিচয় ও যত্নের নিয়ম
লাইভস্টক

২০০২ সালের মাঝামাঝি মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার তারানগর গ্রামের এক খামারি ভারত থেকে বড় জাতের দুটি পুরুষ ভেড়া নিয়ে আসেন। দেশি মাদি ভেড়ার সঙ্গে সেগুলোর মিলনে যে বাচ্চা জন্মায়, তা আকারে বড়, লেজ লম্বা, মাংসও বেশি। স্থানীয় খামারিরা এই সঙ্কর ভেড়ার নাম দেন ‘গাড়ল’। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (টিবিএস) এই গল্প তুলে ধরে জানায়, সেই দুটি ভেড়া থেকে শুরু হওয়া উদ্যোগ তখন মেহেরপুর জেলায় পাঁচ শতাধিক খামারে ছড়িয়ে পড়েছে।

দ্য এগ্রো নিউজের ২০২১ সালের ২৩ অক্টোবরের মূল প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গাড়ল পালনে খরচ কম, দেশে এর বড় সম্ভাবনা আছে, আর এর মাংসের চাহিদাও ব্যাপক। এই লেখায় জানা যাবে গাড়ল আসলে কোন ভেড়া, ভারতের সুন্দরবনের গ্যারোল জাতের সঙ্গে এর পার্থক্য কী, বাংলাদেশের দেশি ভেড়া নিয়ে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) গবেষণা কী বলে, মেহেরপুর ও বেনাপোলের খামারগুলো কীভাবে বেড়েছে, ঘর কেমন হওয়া উচিত, সুস্থ গাড়ল কীভাবে চেনা যায় এবং রোগ ঠেকাতে কোথায় সাহায্য পাওয়া যায়। এখানে দেওয়া সব তথ্য ২০২১ সালের অক্টোবর বা তার আগে প্রকাশিত সূত্র থেকে নেওয়া।

গাড়ল আসলে কোন ভেড়া: নাম নিয়ে বিভ্রান্তি


বাংলা ভাষায় ‘গাড়ল’ শব্দটি বহুদিন ধরে গোঁয়ার বা বোকা অর্থে চলে আসছে। ঢাকাটাইমস২৪ ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে লিখেছিল, বেনাপোল অঞ্চলের পশুপালকদের কাছে সেই শব্দটিই তখন অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। খামারের ভাষায় গাড়ল মানে ভেড়ার একটি বড় আকারের ধরন।

টিবিএসের ২০২১ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাড়ল দেখতে ভেড়ার মতোই, জীবনচক্রও একই, তবে ভেড়ার চেয়ে আকারে বেশ বড় এবং মাংসের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ। মেহেরপুরের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা পত্রিকাটিকে জানান, ভারতীয় বড় জাতের পুরুষ ভেড়ার সঙ্গে দেশি মাদি ভেড়ার সঙ্করায়ণ করে এই বাচ্চা উৎপাদন করা হয়। মূল প্রতিবেদনেও গাড়লকে ‘ভারতীয় জাতের ভেড়া’ বলা হয়েছিল।

এখানেই নাম নিয়ে একটি বিভ্রান্তি আছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনে ‘গ্যারোল’ (Garole) নামে একটি স্বীকৃত ভেড়ার জাত আছে, যা বাংলায়ও অনেক সময় গাড়ল লেখা হয়। কিন্তু সেই জাতটি খুব ছোট আকারের, বিজ্ঞানীরা একে ‘মাইক্রোশিপ’ বা ক্ষুদ্র ভেড়া বলেন। বাংলাপিডিয়ার ‘ভেড়া’ নিবন্ধে প্রাণিবিজ্ঞানী আবুল হাশেম লিখেছেন, বাংলাদেশে মুজাফফারবাদি বা নাগপুরী নামের একটি ভারতীয় জাতও পাওয়া যায়, যাকে ভুলভাবে গাড়ল বলা হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশের খামারে যে বড় আকারের গাড়ল দেখা যায়, তা সুন্দরবনের ছোট গ্যারোল জাত নয়, বরং বড় ভারতীয় জাতের রক্ত মেশানো সঙ্কর ভেড়া।

ঢাকাটাইমস২৪-এর প্রতিবেদনেও এর ইঙ্গিত মেলে। বেনাপোলের এক খামারির গাড়ল পালনের ভাবনা এসেছিল ভারতের রাজস্থান ঘুরতে গিয়ে, আর তিনি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ভারত থেকে দুটি বাচ্চা এনে খামার শুরু করেন। খামারি ও পাঠক দুজনের জন্যই তাই পরিষ্কার থাকা দরকার: বাজারে ‘গাড়ল’ বলে যা বিক্রি হয়, তার বেশিরভাগই সঙ্কর, আর সঙ্করের বৈশিষ্ট্য নির্ভর করে কোন জাতের পুরুষ ভেড়া ব্যবহার করা হয়েছে তার ওপর।

সুন্দরবনের গ্যারোল জাত: বিজ্ঞানীরা যা জেনেছেন


নামের মিল থাকায় আসল গ্যারোল জাত সম্পর্কে জানাও জরুরি, কারণ এই জাত নিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণা অনেক। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ‘অ্যানিমেল জেনেটিক রিসোর্সেস ইনফরমেশন’ সাময়িকীর ১৯৯৯ সালের ২৬তম সংখ্যায় ভারতের কেন্দ্রীয় ভেড়া ও উল গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (সিএসডব্লিউআরআই) বিজ্ঞানী আর. সি. শর্মা ও সহকর্মীরা এই জাতের বিস্তারিত বিবরণ দেন।

তাঁদের তথ্যমতে, গ্যারোল পাওয়া যায় পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১৩টি এবং উত্তর ২৪ পরগনার ৬টি ব্লক নিয়ে গঠিত সুন্দরবন এলাকায়। এলাকাটি উপকূলীয়, লবণাক্ত ও নিচু, বছরে গড়ে ১,৭৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। বিজ্ঞানীরা লিখেছেন, এই অঞ্চলের একটি অংশ বাংলাদেশে পড়েছে, তাই এ ধরনের ভেড়া সেখানেও পাওয়া যেতে পারে বলে তাঁদের ধারণা।

গ্যারোলের গায়ের রং সাধারণত হালকা বাদামি, পশম মোটা ও খসখসে। পুরুষের শিং থাকে, মাদির থাকে না। কৃষকেরা সাধারণত পশম কাটেন না, শুধু মাংসের জন্য পালন করেন। হালদার সম্প্রদায়ের মানুষেরা ৫ থেকে ৭টি ভেড়ার ছোট পাল রাখেন এবং জমির আল, পতিত জমি ও রাস্তার ধারে চরিয়ে খাওয়ান। সিএসডব্লিউআরআই খামারে মাপা গড় ওজন ছিল এরকম:

  • জন্মের সময়: ০.৮২ কেজি
  • ৩ মাস বয়সে: ৫.২৯ কেজি
  • ৬ মাস বয়সে: ৭.৪৭ কেজি
  • ১২ মাস বয়সে: ১১.৫৪ কেজি
  • প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ: ১৪.৪৩ কেজি; প্রাপ্তবয়স্ক মাদি: ১৪.১৪ কেজি

এই জাতের আসল পরিচয় এর অধিক বাচ্চা দেওয়ার ক্ষমতা। ১৯৯৭ সালের মে থেকে ১৯৯৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত সিএসডব্লিউআরআইয়ে ৬০টি প্রসবের হিসাবে ৪০ শতাংশ মা একটি, ৫৩.৩৩ শতাংশ দুটি, ৫ শতাংশ তিনটি এবং ১.৬৭ শতাংশ চারটি বাচ্চা দেয়। প্রতি প্রসবে গড়ে ১.৬৮টি বাচ্চা হয়েছে। এর আগে ১৯৯৩ সালে একই সাময়িকীতে পি. এম. ঘালসাসি ও বি. ভি. নিম্বকার গ্যারোলের প্রজনন হার ২২৭ শতাংশ বলে উল্লেখ করেন এবং প্রাপ্তবয়স্ক ওজন ১০ থেকে ১৪ কেজি লেখেন।

শর্মা ও সহকর্মীরা আগের গবেষণা উদ্ধৃত করে জানান, গ্যারোল সারা বছর প্রজনন করে, তবে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি এবং আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরে বেশি বাচ্চা হয়। প্রথম পাল দেওয়ার বয়স ৭ থেকে ৯ মাস, প্রথম বাচ্চা প্রসবের বয়স ১২ থেকে ১৪ মাস, গর্ভকাল ১৫০ দিন এবং দুই প্রসবের ব্যবধান ৮ মাস। মা ভেড়া জন্মের পর অন্তত প্রথম ৯ থেকে ১০ দিন বাচ্চার কাছাকাছি থাকে। জাতটি হাঁটুপানিতে নেমে ঘাস খেতে পারে, গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া সহ্য করে এবং ক্ষুরপচা (ফুট রট) রোগ প্রতিরোধী বলে পরিচিত।

২০০২ সালে ‘বায়োলজি অব রিপ্রোডাকশন’ সাময়িকীতে জি. এইচ. ডেভিস ও সহকর্মীরা আটটি দেশের অধিক বাচ্চা দেওয়া ভেড়ার ডিএনএ পরীক্ষা করে গ্যারোল ও জাভার ভেড়ায় ‘বুরুলা’ বা ফেকবি (FecB) নামের একটি জিন পরিবর্তন খুঁজে পান। গবেষকদের ভাষায়, এই জিনবাহী ভেড়ার উচ্চ প্রজনন ক্ষমতার কারণ বিএমপিআর-১বি নামের একটি রিসেপ্টর জিনে পরিবর্তন। তাঁদের মতে, অস্ট্রেলিয়ার বুরুলা মেরিনো ভেড়ায় এই জিন আঠারো শতকের শেষ দিকে বাংলা থেকে নেওয়া ভেড়ার মাধ্যমে গিয়েছিল, তাদের পরীক্ষা সেই ঐতিহাসিক ধারণাকে জোরালোভাবে সমর্থন করে।

বাংলাদেশের দেশি ভেড়া ও বিএলআরআইয়ের গবেষণা


গাড়লের মা সাধারণত দেশি ভেড়া, তাই দেশি ভেড়ার গুণাগুণও জানা দরকার। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) ‘লাইভস্টক ইকোনমি অ্যাট আ গ্লান্স’ (২০২০ সালের আগস্টে প্রকাশিত) অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে ভেড়ার সংখ্যা ছিল ৩৬.০৭ লাখ, যা ২০১০-১১ অর্থবছরে ছিল ৩০.০২ লাখ। একই হিসাবে ছাগল ছিল ২৬৪.৩৫ লাখ। অর্থাৎ ছাগলের তুলনায় ভেড়া অনেক কম হলেও এর সংখ্যা প্রতিবছর ধীরে ধীরে বাড়ছিল।

সাভারে ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বিএলআরআই দেশি ভেড়ার একটি নিউক্লিয়াস পাল বা নির্বাচিত প্রজনন পাল রাখে। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ জার্নাল অব অ্যানিমেল সায়েন্সে এস. পারভেজ, এম. এরশাদুজ্জামান ও সহকর্মীরা নওগাঁ, নোয়াখালী ও টাঙ্গাইলের মাঠপর্যায়ের ভেড়ার সঙ্গে বিএলআরআইয়ের এই পালের তুলনা করেন। নিউক্লিয়াস পালের গড় হিসাব ছিল এরকম:

  • প্রতি প্রসবে বাচ্চা: ১.৮০টি
  • জন্ম ওজন: ১.১৯ কেজি; দুধ ছাড়ার সময় ওজন: ৬.৭৪ কেজি; দৈহিক ওজন বৃদ্ধি: ৬০.৭০ গ্রাম
  • প্রতি গর্ভধারণে পাল দেওয়ার সংখ্যা: ১.৩০ বার
  • প্রসবের পর আবার গরম হতে সময়: ৩৪.১৩ দিন
  • প্রথম গরম হওয়ার বয়স: ২৬৬.৫০ দিন; প্রথম প্রসবের বয়স: ৪৩২.৭২ দিন
  • দুই প্রসবের ব্যবধান: ১৯২.১৭ দিন

গবেষকেরা লিখেছেন, মাঠের ভেড়ার চেয়ে নিউক্লিয়াস পালের ফল ভালো হওয়ার সম্ভাব্য কারণ বাছাই করা প্রজনন, উন্নত খাদ্য, ভালো বাসস্থান ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা। খামারির জন্য এর অর্থ পরিষ্কার: জাত যা-ই হোক, যত্ন ভালো হলে ফলও ভালো হয়।

২০১১ সালে ‘বাংলাদেশ ভেটেরিনারিয়ান’ সাময়িকীতে এম. আর. হাসান ও এম. এ. আই. তালুকদার ২০০৪ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বরেন্দ্র, যমুনা অববাহিকা ও উপকূলীয় অঞ্চলের ভেড়ার তথ্য বিশ্লেষণ করেন। তাঁরা দেখেন, বরেন্দ্র ও যমুনা অঞ্চলের ভেড়ার ৪৫ শতাংশ সাদা, ২৬ শতাংশ বাদামি, ২৪ শতাংশ সাদা-বাদামি এবং ৩ শতাংশ কালো-বাদামি; উপকূলীয় ভেড়ার ৭০ শতাংশ সাদা ও ৩০ শতাংশ সাদা-বাদামি। উপকূলীয় ভেড়ার বাচ্চার জন্ম ওজন বেশি, আর বরেন্দ্রের ভেড়ার প্রজনন দক্ষতা তুলনামূলক ভালো। তিন অঞ্চলেই সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে ডায়রিয়া, বাচ্চার নিউমোনিয়া ও চর্মরোগ।

বাংলাদেশের একটি গ্রামে চরে বেড়ানো ভেড়ার পাল; আলোকচিত্রীর বিবরণে স্থানটি ফরিদপুরের নাওডোবা। ছবি: Baized hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাংলাদেশের একটি গ্রামে চরে বেড়ানো ভেড়ার পাল; আলোকচিত্রীর বিবরণে স্থানটি ফরিদপুরের নাওডোবা। ছবি: Baized hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

মেহেরপুর থেকে বেনাপোল: গাড়ল খামারের বিস্তার


টিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেহেরপুরে বাণিজ্যিকভাবে ভেড়া পালন শুরু হয় ২০০২ সালের গোড়ার দিকে, তখন দেশি ভেড়াই পালন হতো। মুজিবনগরের খামারির সঙ্কর ভেড়া সফল হওয়ার পর প্রায় ঘরে ঘরে গাড়ল পালন শুরু হয়। অন্য জেলার মানুষও মুজিবনগর থেকে বাচ্চা কিনে নিয়ে নতুন খামার গড়তে থাকেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের হিসাব উদ্ধৃত করে টিবিএস ২০২১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জানায়, মেহেরপুরে গাড়ল ও ভেড়ার খামার পাঁচ শতাধিক, এসব খামারে বছরে প্রায় ৮০ হাজার বাচ্চা উৎপাদন হয় এবং বাচ্চা ও প্রাপ্তবয়স্ক গাড়ল বিক্রি করে জেলার খামারিরা বছরে ৫০ কোটি টাকার বেশি আয় করেন। খামারিরা জানান, বেশিরভাগ খামারের মূল লক্ষ্য বাচ্চা উৎপাদন, কারণ মাংসের জন্য বড় গাড়ল বিক্রির চেয়ে বাচ্চা বিক্রি বেশি লাভজনক।

একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা দাম অনুযায়ী, আকার ও স্বাস্থ্যভেদে একটি বাচ্চা গাড়ল ৪ থেকে ৬ হাজার টাকায় এবং প্রাপ্তবয়স্ক গাড়ল ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। খামারিরা জানান, মা গাড়ল বছরে দুবার এবং প্রতিবার দুই থেকে তিনটি বাচ্চা দেয়। তাঁদের হিসাবে একটি প্রাপ্তবয়স্ক গাড়ল থেকে ৩৫ থেকে ৫০ কেজি মাংস পাওয়া যায়, যেখানে একটি দেশি ভেড়া থেকে মেলে ২০ থেকে ২৫ কেজি। টিবিএস আরও জানায়, স্থানীয় বাজারে তখনো গাড়লের মাংসের চেয়ে ছাগলের মাংসের চাহিদা বেশি ছিল, আর আলাদা করে গাড়লের মাংস বিক্রি হতো খুব কম।

মেহেরপুরের জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা টিবিএসকে বলেন, দেশে ভেড়ার উন্নত জাত তৈরির কোনো গবেষণা বা প্রকল্প নেই, তাই খামারিদের এই পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে সারা দেশে গাড়ল ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আগ্রহী খামারি ও কৃষকদের জাত উন্নয়ন ও পালন বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছিল বলে তিনি জানান।

যশোরের শার্শা উপজেলাতেও একই ধারা দেখা যায়। ঢাকাটাইমস২৪ ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি জানায়, বেনাপোল বাজার থেকে দুই কিলোমিটার দক্ষিণে শিকড়ী গ্রামে এক কম্পিউটার প্রকৌশলী চাকরি ছেড়ে গাড়ল ও ভেড়ার খামার গড়েছেন। ভারত থেকে আনা দুটি বাচ্চা এবং পরে মেহেরপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা বাচ্চা দিয়ে শুরু করা খামারে তখন ৬৫টি প্রাপ্তবয়স্ক গাড়ল ছিল, যার প্রতিটির দাম তিনি ১৫ হাজার টাকা বলে জানান। তিন থেকে চার মাস বয়সী একটি গাড়লের দাম ছিল ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। খামারে সার্বক্ষণিক দুজন শ্রমিক কাজ করতেন।

এসব দাম ও আয় নির্দিষ্ট সময় ও এলাকার খামারি এবং প্রাণিসম্পদ দপ্তরের হিসাব। নতুন খামারির আয় নির্ভর করবে বাচ্চার দাম, খাদ্যের খরচ, রোগে মৃত্যুর হার ও স্থানীয় বাজারের ওপর, তাই শুরুর আগে নিজের এলাকার উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে খোঁজ নেওয়া ভালো।

রোদের মধ্যে বাজারের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে একটি ভেড়া ও একটি ছাগল। ছবি: Mamun2a / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5)
রোদের মধ্যে বাজারের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে একটি ভেড়া ও একটি ছাগল। ছবি: Mamun2a / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5)

কম খরচের রহস্য: খাদ্য ও চরানো


গাড়ল পালনে খরচ কম হওয়ার মূল কারণ এর খাদ্য। টিবিএসকে খামারিরা জানান, গাড়লের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এরা পানি জমে থাকা জমির ঘাস খেতে অভ্যস্ত, অথচ ছাগল ঘাস খেতে পানিতে নামে না। তাই গাড়লের খাদ্যের চাহিদা মেটানো সহজ। তাঁদের ভাষায়, গাড়লের খাবার, বাসস্থান ও পালন পদ্ধতি দেশি ভেড়ার মতোই, আর ছাগল পালনের মতো সহজ পদ্ধতিতে পালন করা যায় বলে অনেকে এদিকে ঝুঁকছেন।

ঢাকাটাইমস২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গাড়লের প্রধান খাবার ঘাস ও লতাপাতা, এর সঙ্গে খড় ও ভুসিও খায়। শার্শা উপজেলার প্রাণিসম্পদ বিভাগের এক কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে বলেন, ‘গাড়ল লালন-পালন করা অত্যন্ত সহজ এবং লাভজনক। ঘাস, লতাপাতা, খড়-ভুসি খেয়ে গাড়ল দীর্ঘদিন বাঁচতে পারে।’ মেহেরপুরের এক খামারি টিবিএসকে জানান, তিনি একজন রাখালকে সঙ্গে নিয়ে সারাদিন রাস্তার পাশে ও মাঠের ফাঁকা জায়গায় গাড়ল চরান।

দেশি ভেড়ার এই গুণ গবেষণাতেও স্বীকৃত। বাংলাপিডিয়ার ভেড়া নিবন্ধে বলা হয়েছে, দেশি ভেড়া নিম্নমানের আঁশযুক্ত খাদ্য খেয়ে উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় টিকে থাকতে পারে এবং বছরে দুবার একাধিক বাচ্চা দেয়। সুন্দরবনের গ্যারোলও, এফএওর সাময়িকীর বিবরণ অনুযায়ী, প্রধানত জমির আল, পতিত জমি ও রাস্তার ধারে চরে খেয়েই বেঁচে থাকে।

বিএলআরআইয়ের নিউক্লিয়াস পালের ভালো ফলের পেছনে উন্নত খাদ্যকে অন্যতম কারণ বলেছেন গবেষকেরা। কোন বয়সে কতটা দানাদার খাদ্য দরকার, তা নিজের পালের অবস্থা দেখে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছ থেকে জেনে নেওয়াই নিরাপদ।

গাড়লের ঘর: উঁচু, খোলামেলা ও শুকনো


মূল প্রতিবেদনে ঘর তৈরির দুটি নিয়মের কথা বলা হয়েছিল: গাড়লের ঘর উঁচু ও খোলামেলা জায়গায় হতে হবে, এবং পানি নিষ্কাশনের উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকতে হবে। এফএওর ১৯৮৬ সালের নির্দেশিকা ‘ফার্ম স্ট্রাকচারস ইন ট্রপিক্যাল ক্লাইমেটস’ এই দুটি পরামর্শকেই সমর্থন করে এবং আরও কিছু মাপ দেয়।

  • ভেড়া ও ছাগল কাদা সহ্য করতে পারে না, তাই খোঁয়াড় ও ঘর শুধু ভালোভাবে পানি নেমে যায় এমন জমিতে বানাতে হবে।
  • আর্দ্র আবহাওয়ায় ছন বা খড়ের সাধারণ চালাও ছায়া দেয় এবং অতিরিক্ত বৃষ্টি থেকে রক্ষা করে।
  • মাটি থেকে ১ থেকে ১.৫ মিটার উঁচু খুঁটির ওপর ফাঁকা মেঝের (মাচা) ঘর বানালে পরিষ্কার করা এবং গোবর ও প্রস্রাব সংগ্রহ সহজ হয়।
  • মাচার প্রতিটি কাঠ বা বাঁশের পাটা ৭০ থেকে ১০০ মিলিমিটার চওড়া ও ২৫ থেকে ৩০ মিলিমিটার পুরু হবে, আর দুই পাটার মাঝে ২৫ মিলিমিটার ফাঁক থাকবে।
  • এফএওর সারণি অনুযায়ী ৩৫ কেজির একটি মাদির জন্য পাকা মেঝেতে ০.৮ বর্গমিটার এবং ফাঁকা মেঝেতে ০.৭ বর্গমিটার জায়গা লাগে; ৫০ কেজির মাদির জন্য পাকা মেঝেতে ১.১ বর্গমিটার এবং ফাঁকা মেঝেতে ০.৯ বর্গমিটার।
  • ৫০ কেজির একটি মাদির জন্য খাবারের পাত্রে ০.৪০ মিটার জায়গা রাখার কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশের বর্ষা ও বন্যাপ্রবণ এলাকায় উঁচু মাচার ঘরে মেঝে শুকনো রাখা সহজ, আর এফএওর নির্দেশিকাও কাদা এড়ানোর ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে। মূল প্রতিবেদনের দুটি নিয়ম, উঁচু জায়গা ও পানি নিষ্কাশন, তাই একই লক্ষ্যের কথা বলে: ঘর যেন সারা বছর শুকনো থাকে।

সুস্থ গাড়ল চেনার উপায়


মূল প্রতিবেদনে সুস্থ গাড়লের কয়েকটি লক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মেইন কো-অপারেটিভ এক্সটেনশনের ভেড়া ও ছাগলের রোগ শনাক্তকরণ বিষয়ক বুলেটিন ১০৩২ (২০১৫) মিলিয়ে দেখলে লক্ষণগুলো এরকম দাঁড়ায়:

  • চোখ উজ্জ্বল ও পরিষ্কার থাকবে; নাক ও মুখও পরিষ্কার থাকবে।
  • লোম ও চামড়া মসৃণ ও পরিষ্কার থাকবে।
  • চলাফেরা স্বাভাবিক ও স্বচ্ছন্দ হবে; পাল থেকে পিছিয়ে থাকবে না।
  • কান ও লেজ নাড়াচাড়া করবে।
  • খাবারের প্রতি আগ্রহ থাকবে; খাবারের সময় নিজে এগিয়ে এসে পেট ভরে খাবে।
  • খাওয়ার পর জাবর কাটবে।
  • শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে; মেইন এক্সটেনশনের হিসাবে প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে মিনিটে ১২ থেকে ১৫ বার, কোনো ঘড়ঘড় শব্দ ছাড়া।

একই বুলেটিনে অসুস্থতার কিছু লক্ষণও দেওয়া আছে: এক চোখ কুঁচকে রাখা বা চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ কোটরে বসে যাওয়া (পানিশূন্যতার লক্ষণ), খুঁড়িয়ে হাঁটা বা পালের পেছনে পড়ে থাকা, নরম বা পাতলা মল, মলে রক্ত বা শ্লেষ্মা, পেছনের অংশে মল লেগে থাকা, কাশি বা ঘড়ঘড় শব্দে শ্বাস নেওয়া, এবং একটি প্রাণী ঝিমিয়ে থাকা বা অস্বাভাবিক অস্থির হয়ে ওঠা। বুলেটিনটি স্বাভাবিক শরীরের তাপমাত্রা ১০১.৫ থেকে ১০৩.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বলে উল্লেখ করেছে।

এসব লক্ষণের যেকোনোটি দেখা দিলে অসুস্থ প্রাণীটিকে পাল থেকে আলাদা করে দ্রুত নিবন্ধিত ভেটেরিনারি চিকিৎসক বা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিজে থেকে ওষুধ দেওয়া ঠিক নয়।

বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ভেড়া। ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ভেড়া। ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

রোগ প্রতিরোধ: পিপিআর টিকা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর


গাড়ল ও ভেড়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি পেস্টে দেস পেটিটস রুমিন্যান্টস (পিপিআর), যা ছাগল ও ভেড়ার একটি ভাইরাসজনিত রোগ। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স’ সাময়িকীতে এ. কে. এম. আনিসুর রহমান ও সহকর্মীরা জানান, ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে দেশের ৬৪টি জেলাতেই মোট ৫,২৪,৮০৫টি পিপিআর আক্রান্তের তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে, যদিও প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হবে বলে তাঁদের ধারণা।

একই গবেষণায় বলা হয়, দেশে প্রায় ২ কোটি ৯৫ লাখ ছোট রোমন্থক প্রাণী (প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ ছাগল ও ৩৫ লাখ ভেড়া) আছে, আর পিপিআরে বছরে প্রায় আড়াই কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয় বলে অনুমান করা হয়েছে। দেশে বছরে প্রায় ৫০ লাখ ডোজ পিপিআর টিকা পাওয়া যায়, এবং বৈশ্বিক নির্মূল কৌশলের আওতায় একটি জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনার খসড়া তখন অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল। বিশ্বব্যাপী ২০৩০ সালের মধ্যে পিপিআর নির্মূলের লক্ষ্য রয়েছে। গবেষকেরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় শীত ও বর্ষার আগে ঝুঁকিতে থাকা প্রাণীদের টিকা দেওয়ার সুপারিশ করেন।

ঢাকাটাইমস২৪-এর প্রতিবেদনে বেনাপোলের এক পশুচিকিৎসক জানিয়েছিলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে বিনা মূল্যে টিকা দেওয়া হয়। মেহেরপুরের খামারিরাও টিবিএসকে জানান, প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে তাঁরা পরামর্শ পান। কোন টিকা কখন দিতে হবে এবং কৃমিনাশক কত দিন পরপর খাওয়াতে হবে, তা নিজের এলাকার রোগের অবস্থা দেখে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাই ঠিক করে দিতে পারেন।

সুন্দরবনের গ্যারোল জাত ক্ষুরপচা রোগ প্রতিরোধী বলে পরিচিত হলেও বাংলাদেশের বড় আকারের সঙ্কর গাড়লেরও সেই গুণ আছে, এমন কোনো গবেষণার তথ্য পাওয়া যায় না; তাই এখানে টিকা ও নিয়মিত পরিচর্যাই প্রধান সুরক্ষা। গবাদিপশুর যেকোনো রোগে নিবন্ধিত ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ প্রয়োগ করা উচিত নয়।

ছবি: Sutanu-1987 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: দ্য এগ্রো নিউজ (নিজস্ব প্রতিবেদক, ২৩ অক্টোবর ২০২১), দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, বাংলা ও ইংরেজি), ঢাকাটাইমস২৪ (২২ জানুয়ারি ২০১৯), প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (লাইভস্টক ইকোনমি অ্যাট আ গ্লান্স ২০১৯-২০), এফএও অ্যানিমেল জেনেটিক রিসোর্সেস ইনফরমেশন (শর্মা ও অন্যান্য, ১৯৯৯; ঘালসাসি ও নিম্বকার, ১৯৯৩), বায়োলজি অব রিপ্রোডাকশন (ডেভিস ও অন্যান্য, ২০০২), বাংলাদেশ জার্নাল অব অ্যানিমেল সায়েন্স (পারভেজ ও অন্যান্য, ২০০৯), বাংলাদেশ ভেটেরিনারিয়ান (হাসান ও তালুকদার, ২০১১), এফএও ফার্ম স্ট্রাকচারস ইন ট্রপিক্যাল ক্লাইমেটস (১৯৮৬), ইউনিভার্সিটি অব মেইন কো-অপারেটিভ এক্সটেনশন (বুলেটিন ১০৩২), ফ্রন্টিয়ার্স ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স (রহমান ও অন্যান্য, ২০২১), বাংলাপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

লাইভস্টক

সম্পর্কিত খবর

মতামত

ডিম উৎপাদন ১৫ বছরে চার গুণ, তবু শিশুর পাতে পৌঁছায়নি: হুমায়ুন কবিরের কলাম

বিশ্ব ডিম দিবসে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এ কে এম হুমায়ুন কবির লিখেছেন, দেশে ডিম উৎপাদন ২০১০-১১ সালের ৬০৮ কোটি থেকে ২০২৪-২৫ সালে ২,৪৪১ কোটিতে উঠেছে, কিন্তু শিশুদের পুষ্টিতে সেই সাফল্য কাজে লাগাতে হবে।

প্রথম আলো১০ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

গবাদিপশুর যক্ষ্মায় বন্য হরিণের ভূমিকা খুঁজতে নজরদারি চান যুক্তরাজ্যের পশুচিকিৎসকেরা

ব্রিটিশ ক্যাটল ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশন তাদের হালনাগাদ নীতিতে ২০২৭ সালের মধ্যে হরিণের ওপর সমন্বিত নজরদারির পাইলট চেয়েছে, যদিও ঝুঁকি স্থানীয় বলেই মনে করা হয়।

Farmers Weekly১০ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

পাঁচ বছর পর স্কটল্যান্ডে গরুর সংখ্যা বাড়ল, জানাল কৃষিশুমারি

২০২৬ সালের জুনের কৃষিশুমারিতে গরু ০.৭ শতাংশ বেড়ে ১৬ লাখ ৭০ হাজার হয়েছে, শূকরও বেড়েছে। তবে ভেড়া ও পোলট্রি কমেছে, নরম ফলের আবাদ দশ বছরে সর্বনিম্ন এবং বসন্তকালীন বার্লি কমেছে।

Farmers Weekly১০ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)