জীবনে অনেক কিছু শুনেছি, দেখেছি এমনকি জেনেছি। কিন্তু কখনোই শুনিনি যে বাসররাতে একটি কোবরাসাপ ছর ভ্যেছ, সঙ্গিনীকে ফেলে পালিয়ে গেছে, যা সদ্য ঘটেছে স্টকহোমের স্কানসেনে। সুইডেনের স্কানসেন জাদুঘর হলো বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো ওপেন হাউস মিউজিয়াম। স্কানসেন জাদুঘরে সুইডেনের ঐতিহাসিক ভবন পাশাপাশি কুচুটে ক্যাপচার প্রদর্শন ও দেখার সুযোগ রয়েছে।
স্কানসেন জাদুঘরে বেশিরভাগ ভবন এবং খামারবাড়িগুলো মূলত ১৮ শতকের শেষের এবং ১৯ শতকের প্রথম দিকের। ঐতিহাসিক ভবন সংগ্রহ ছাড়াও নানা ধরনের দোকান আছে, আছে ক্যাফে, আছে একটি চমৎকার গির্জা, একটি চিড়িয়াখানা এবং একটি অ্যাকোয়ারিয়াম যা শিশুসহ সবার মন জয় করে, বিনোদন দেয়।
কিছুদিন আগে ২.৫ মিটারের একটি কোবরা সাপ নাম 'ছর ভ্যেছ', তার টেরারিয়াম থেকে পালিয়ে যায়। একটি নজরদারি ক্যামেরার মাধ্যমে দেখা যায় কিং কোবরা সিলিং-এর ল্যাম্প ফিক্সচারে ফাটল দিয়ে বেরিয়ে আসে। প্রায় এক সপ্তাহ টেরারিয়াম থেকে পালিয়ে আসা কিং কোবরাটির সন্ধান পুরোদমে চলছে।
ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার। বিষাক্ত কিং কোবরা তার টেরারিয়াম ছেড়ে চলে যায়, তারপর থেকে একটি নিবিড় অনুসন্ধান অভিযান শুরু হয়। কর্তৃপক্ষ বলছে, আমরা সম্প্রতি স্বল্প-শক্তির বাতিতে পরিবর্তিত হয়েছি। আমরা আগে যে লাইট বাল্বগুলো ব্যবহার করতাম সেগুলো খুব গরম ছিল এবং সাপগুলো কাছে গেলে তারা নিজেরাই পুড়ে যেতো।
এখন যেহেতু এটি গরম ছিল না, সেক্ষেত্রে বাতি এবং বাল্বের তারের মধ্যে দিয়ে পালাতে সক্ষম হয়েছে। স্ক্যানসেনের অন্য একটি সাপের সঙ্গে কিং কোবরার সঙ্গম করার চেষ্টা করার জন্য তাকে সেখানে রাখার পরে কিং কোবরা পালিয়ে যায়। মানুষ বাসরঘর থেকে পালিয়েছে শুনেছি তবে সাপও যে পালাতে পারে জানলাম এবার।
কর্মীরা এখন স্থগিত সিলিংয়ের একটি এলাকা ঘেরাও করে রেখেছে যেখানে সাপটি আছে, কিন্তু এটি আটকা পড়েনি। কর্মীরা বলেছেন যে তারা সাপটিকে পুনরুদ্ধার করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছেন। অনুসন্ধানের পর, এটি এখন টেরেরিয়ামের কাছে একটি জায়গায় পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
সুইডিশ টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, কাস্টমস অফিসের বিশেষ ক্যামেরা ও এক্স-রে যন্ত্রপাতির সাহায্যে সাপের অবস্থান জানা যায়। সাধারণত, সরঞ্জামগুলো মাদকদ্রব্য ট্র্যাক করার জন্য ব্যবহার করা হয়।
সামান্য একটি সাপের খোঁজে গত সাতদিন ধরে যে পরিমাণ অর্থ এবং কর্ম বিনিয়োগ করা হয়েছে, সেইসাথে মিডিয়া এবং সব ধরনের খবরে শিরোনাম হয়ে প্রচারিত হয়েছে যে শেষ পর্যন্ত আমি নিজেও এ বিষয়টি তুলে ধরতে বাধ্য হলাম। জীবজন্তু বা পশুপাখির ব্যাপারে কিছু ঘটলে এ জাতি এমনভাবে তাকে হাইলাইট করে যে মনে হয় জীবনে কখনও সুইডেনে কোনো অঘটন ঘটে না।
অথচ এ বছরে নানা ধরনের গোলাগুলি বা মারামারির কারণে সম্ভবত ৪৫ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তারপর উক্রাইন এবং রাশিয়ার যুদ্ধে কত মানুষ মরছে সেটা নিয়ে তেমন মাথা ব্যাথা খুব একটা দেখছিনে যদিও সবাই নিন্দা করছে তবে বাসররাতে সাপের পালানো ঘটনা সবার মুখে যা এক বিশাল ঘটনা না লিখলেই নয়। কী কারণে কিং কোবরা তার প্রিয় সঙ্গিনী ছেড়ে পালালো এ রহস্য আমার ভাবনায় থেকেই গেলো!
লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন থেকে, [email protected]
এমআরএম/জেআইএম





মন্তব্য
(০)