গভীর সমুদ্রের এক অণুজীবের তাপসহিষ্ণু নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী এনজাইমের বিবরণ দিয়েছেন জার্মানির ব্রেমেনের ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর মেরিন মাইক্রোবায়োলজির গবেষকেরা, যা একদিন উন্নত জৈব সার তৈরিতে পথ দেখাতে পারে, জানিয়েছে অ্যাগ্রোপেজেস। নেভেনা মাসলাচ, ত্রিস্তান ভাগনার ও সহকর্মীদের গবেষণাটি নেচার কমিউনিকেশনস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
বাতাসের প্রায় ৭৮ শতাংশ নাইট্রোজেন, কিন্তু নাইট্রোজেন গ্যাসের শক্ত ত্রিবন্ধনের কারণে উদ্ভিদ ও প্রাণী তা সরাসরি নিতে পারে না। কিছু অণুজীব নাইট্রোজিনেজ নামের এনজাইম দিয়ে এই বন্ধন ভেঙে অ্যামোনিয়া তৈরি করে। গবেষকেরা সমুদ্রতলের আগ্নেয় উৎসে বাস করা মেথানোক্যালডোকক্কাস ইনফার্নাস নামের আর্কিয়াকে গবেষণাগারে পালন করে ৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করাতে পেরেছেন।
এর নাইট্রোজিনেজ কেবল ৯০ ডিগ্রিতে ভাঙতে শুরু করে, কিছু অংশ ৯৮ ডিগ্রিতেও টিকে থাকে। ফ্রান্সের গ্রেনোবলে সিনক্রোট্রনের এক্স-রেতে দেখা গেছে, এটি এখন পর্যন্ত জানা সবচেয়ে সরল নাইট্রোজিনেজ, অথচ এতে মলিবডেনাম, ভ্যানাডিয়াম ও কেবল লোহাভিত্তিক তিন ধরনের বৈশিষ্ট্যই আছে, অর্থাৎ প্রাচীন নাইট্রোজিনেজ হয়তো এর মতোই ছিল। মলিবডেনামযুক্ত নাইট্রোজিনেজে আগে কখনো দেখা যায়নি এমন একটি অবস্থাও ধরা পড়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় সব ধরনের এনজাইম একই মৌলিক প্রক্রিয়ায় কাজ করে।
ভাগনারের প্রশ্ন, ফসল যদি একদিন সরাসরি বাতাস থেকে নাইট্রোজেন নিতে পারত? তাহলে প্রচুর জ্বালানি লাগা হেবার-বস্ প্রক্রিয়ার শিল্প সারের ওপর কৃষির নির্ভরতা কমত, যা গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের সঙ্গে যুক্ত এবং মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে পানিদূষণ ঘটায়। তবে গবেষকেরা বলছেন, আপাতত এটি জীববিজ্ঞানের এক অসাধারণ বিক্রিয়ার আরও স্পষ্ট আণবিক চিত্র।
ছবি: W.R. Normark, Dudley Foster / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: AgroPages





মন্তব্য
(০)