নীলফামারীতে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় সময়ের মধ্যেই আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যে, ১ লাখ ১৩ হাজার ২২০ হেক্টরের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মঙ্গলবার পর্যন্ত রোপণ হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ২০৫ হেক্টরে। জেলার কৃষিজমি ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৯৬ হেক্টর, বাকিটায় শাকসবজি ও মসলা; কৃষক পরিবার ৫ লাখ ২৮ হাজার ৪টি।
আগস্টে জেলার চাহিদা ছিল ইউরিয়া ৬,৩৭৯, টিএসপি ৫৮৮, ডিএপি ১,৮৬১ ও এমওপি ১,৯৬৮ মেট্রিক টন—শতভাগ সরবরাহ মিলেছে। সেপ্টেম্বরে ইউরিয়া ৩,১৫৬, টিএসপি ২২০, ডিএপি ২,০০৮ ও এমওপি ১,০৭৭ টনের চাহিদার বিপরীতেও পূর্ণ বরাদ্দ; বিতরণের পর মঙ্গলবার পর্যন্ত মজুত ইউরিয়া ১,৯১৬, টিএসপি ৮৯, ডিএপি ৭০০ ও এমওপি ৫৯০ টন। জেলায় ২০৬ জন ডিলার—সদরে ৪৪, সৈয়দপুরে ৩৪, ডোমারে ৩১, ডিমলায় ৩২, জলঢাকায় ৩৫ ও কিশোরগঞ্জে ৩০।
মঙ্গলবার দুপুরে সদরের পলাশবাড়ি বাজারের ডিলার মেসার্স পোদ্দার ব্রাদার্সে প্রায় এক ঘণ্টায় সার কিনতে কোনো কৃষককে দেখা যায়নি। স্বত্বাধিকারী নিশিত কুমার পোদ্দার জানান, সকাল থেকে পৌনে তিনটা পর্যন্ত ১০ জন কৃষক সার নিয়েছেন, সবার যৌক্তিক চাহিদা পূরণ হয়েছে; আগস্টে তিনি ইউরিয়া ১,৮২০, টিএসপি ৬৭, পটাশ ২২৩ ও ডিএপি ১৮৭ বস্তা এবং সেপ্টেম্বরে ইউরিয়া ৯২০, টিএসপি ২৩, পটাশ ১২৪ ও ডিএপি ২৩৮ বস্তা পেয়েছেন, কৃষকপ্রতি ইউরিয়া ২ বস্তা ও অন্য সার ১ বস্তা করে দিচ্ছেন।
তাঁর পর্যবেক্ষণ, আমনের জমিতে এখন প্রয়োজন না থাকলেও অজ্ঞতায় অনেক কৃষক চারা লাগানোর পরও টিএসপি চাইছেন; কোনো কৃষক ফেরত যাননি, তবে কৃষির নিবিড়তা বাড়লেও বরাদ্দ আগের মতোই থাকায় নিবিড়তা অনুযায়ী সুষম বরাদ্দ ও বণ্টন এখন সময়ের দাবি।
ইটাখোলা ইউনিয়নের কৃষক রমজান আলী (৫০) তিন বিঘায় আমন করেছেন; সময়মতো সার কিনে প্রয়োগ করতে পেরেছেন, হয়রানি হয়নি। রোপণের ২২ দিনের মাথায় টিএসপি দরকার হলেও বাজারে ‘বাংলা টিএসপি’ না মিললেও অন্য কোম্পানির টিএসপি পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি জানান।
বাসসের নীলফামারী প্রতিবেদন অবলম্বনে। সূত্র: বাসস


মন্তব্য
(০)