টিকা শুধু শিশুদের জন্য, এ ধারণা ঠিক নয়। বয়স বাড়লে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে, সঙ্গে আসে ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ, কিডনি রোগ বা ক্যানসার; স্টেরয়েড, ইমিউনোথেরাপি বা কেমোথেরাপির মতো ওষুধও প্রতিরোধক্ষমতা কমায়। পেশা, ভ্রমণ বা নার্সিং হোমে থাকার কারণেও নতুন জীবাণুর ঝুঁকি বাড়ে। তাই প্রাপ্তবয়স্কদেরও কিছু টিকা নেওয়া দরকার বলে প্রথম আলোয় লিখেছেন ডা. শাহনূর শারমিন।
ফ্লুর টিকা: দেশের আবহাওয়ায় সারা বছরই ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ থাকে, আর ফ্লু থেকে প্রাণঘাতী নিউমোনিয়াও হতে পারে। ভাইরাস ধরন বদলায় বলে টিকাটি প্রতিবছর একবার নিতে হয়। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী, অন্তঃসত্ত্বা নারী, দীর্ঘমেয়াদি রোগী, প্রতিরোধক্ষমতা কমায় এমন ওষুধ সেবনকারী এবং পেশাগত ঝুঁকিতে থাকা মানুষের বছরে একবার এ টিকা নেওয়া দরকার। টিকা নিলেও ফ্লু হতে পারে, তবে তীব্রতা ও জটিলতা কম হয়।
নিউমোনিয়ার টিকা: এটি স্ট্রেপটোকক্কাস নিউমোনি ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে, যা নিউমোনিয়া ও মস্তিষ্কের পর্দার প্রদাহ মেনিনজাইটিস ঘটাতে পারে। প্রতিবছর নিতে হয় না; টিকার ধরন ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী একটি ডোজ বা প্রতি পাঁচ বছরে একটি ডোজ লাগে। ৬৫ বছরের বেশি বয়সী এবং কম বয়সী দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের এ টিকা নেওয়া উচিত।
হেপাটাইটিস বি ও এ: হেপাটাইটিস বি দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ ঘটিয়ে পরে লিভার সিরোসিস বা ক্যানসারের কারণ হতে পারে। এর টিকা তিন ডোজে দেওয়া হয়: প্রথম ডোজের এক মাস পর দ্বিতীয়, ছয় মাস পর তৃতীয়। তিন ডোজের পর ৯৫ থেকে ১০০ শতাংশ মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। হেপাটাইটিস এ-র টিকা দুই ডোজের, প্রায় ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে কার্যকর।
এইচপিভি ও টিটেনাস: জরায়ুমুখের ক্যানসার ঠেকাতে কার্যকর এইচপিভি টিকা ১০ থেকে ১৪ বছরের কিশোরীদের দুই ডোজে দেওয়া হয়; ১৫ বছরের পর সাধারণত তিন ডোজ, চিকিৎসকের পরামর্শে ৪৫ বছর পর্যন্ত নেওয়া যায়। শৈশবে ইপিআইয়ের টিটেনাস টিকার পর প্রতি ১০ বছরে বুস্টার লাগতে পারে; টিটেনাস, ডিপথেরিয়া ও হুপিং কাশির টিডিপি টিকারও ১০ বছর পরপর বুস্টার নিতে হয়। হারপিস জোস্টার ও টাইফয়েডের টিকাও আছে।
এসব টিকায় সাধারণত হালকা জ্বর, গায়ে ব্যথা, ক্লান্তি বা টিকার জায়গায় ফোলা-ব্যথার বেশি সমস্যা হয় না। লেখকের মতে, টিকা শুধু নিজেকে নয়, আশপাশের মানুষকেও সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে; তাই সংশয় ঝেড়ে ফেলে প্রয়োজনীয় টিকাগুলো নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
ছবি: Bill Branson / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: প্রথম আলো



মন্তব্য
(০)