সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩০°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬৯%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

বসুন্ধরায় শখের ছাদ বাগানে মিটছে একটি পরিবারের সবজির চাহিদা

প্রায় পাঁচ বছর আগে শখের বশে নাজমুন নাহানের গড়া ছাদ বাগান থেকে ঢাকার বসুন্ধরার পরিবারটি প্রায় প্রতিদিনই তাজা সবজি পাচ্ছে বলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জাগো নিউজ জানায়।

বসুন্ধরায় শখের ছাদ বাগানে মিটছে একটি পরিবারের সবজির চাহিদা
শাকসবজি

ঢাকার বসুন্ধরা এলাকায় শখের বশে গড়ে তোলা একটি ছাদ বাগান একটি পরিবারের দৈনন্দিন সবজির চাহিদার বড় অংশ মেটাচ্ছে বলে ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাগো নিউজ জানায়। ওই এলাকায় ফ্ল্যাট কিনে স্বামী খান মোহাম্মদ আবু সাইদের সঙ্গে বসবাস করেন নাজমুন নাহান। প্রায় পাঁচ বছর আগে মায়ের অনুপ্রেরণায় তিনি ভবনের ছাদে বাগানটি শুরু করেন। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পরিবারটি প্রায় প্রতিদিনই ছাদের তাজা সবজি খাচ্ছিল, আর নিজেদের প্রয়োজনের বাড়তি অংশ প্রতিবেশী ও পরিচিতজনদের দিচ্ছিল।

প্রতিবেদনে বাগানটিকে রাজধানীর জীবনযাপনের চাপের প্রেক্ষাপটে দেখানো হয়। দ্রুত নগরায়নের ফলে গাছপালা ও সবুজের পরিমাণ দিন দিন কমছে; অন্যদিকে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ছে, আর খাবারে ভেজাল ও রাসায়নিকের ব্যবহার নিয়ে মানুষের দুশ্চিন্তা রয়েছে। এই বাস্তবতায় শহরবাসীর জন্য ছাদ বাগান একটি কার্যকর সমাধান হয়ে উঠেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়: অল্প জায়গায় একটি পরিবার তার দৈনন্দিন সবজির বড় অংশ ফলাতে পারে, আর এই কাজ মনে প্রশান্তি আনে, পরিবেশের উপকার করে এবং খরচও বাঁচায়।

ছাদের এক পাশে ফুল, অন্য পাশে সবজি


নাজমুন নাহান ছাদটিকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন। এক অংশে নানা ধরনের ফুল, অন্য অংশে শাকসবজি। পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি টমেটো, মরিচ, বেগুন, লাউ, লেবু, সজনে ও ঢ্যাঁড়শসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেন। পাশাপাশি আমড়াসহ কয়েকটি ফলের গাছও রয়েছে। তিনি মৌসুম ধরে চাষ করেন, ফলে বছরজুড়েই ছাদে কিছু না কিছু ফলন হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বাগান বাজারের ওপর পরিবারটির নির্ভরতা কমিয়েছে এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক ছাড়া উৎপাদিত তাজা খাবার নিশ্চিত করেছে। নিরাপদ খাদ্যের জোগানকেই বাগানটির সবচেয়ে বড় অবদান বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজারে পাওয়া অনেক শাকসবজি ও ফলমূলে অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারের অভিযোগ আছে, অথচ বাড়ির ছাদে গাছে কী দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত চাষির নিজের হাতে।

নাজমুন নাহান জাগো নিউজকে বলেন, 'ছাদ বাগানের সবজির স্বাদ অতুলনীয়, কারণ এগুলো জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত। বারো মাস মৌসুমভিত্তিক সবজি চাষের জন্য পাইপের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দিই। নিজেদের চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত সবজি প্রতিবেশী ও পরিচিতদের দিই। প্রথম দিকে চাষাবাদ নিয়ে মায়ের সঙ্গে আলোচনা করতাম। এখন ভিডিও ও কৃষিবিষয়ক ফেসবুক গ্রুপ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সমাধান জেনে নিই।'

রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট, পচা পাতা আর কেঁচো সার


জৈব সার হিসেবে নাজমুন নাহান ব্যবহার করেন রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট, পচা পাতা ও ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার। তাঁর ভাষায়, এ কারণে তাঁর উৎপাদিত সবজি সম্পূর্ণ বিষমুক্ত ও নিরাপদ। এভাবে সংসারের নিজস্ব বর্জ্য কাজে লাগিয়ে ছাদেই একটি ছোট চক্র তৈরি হয়: যে খোসা ও পাতা অন্যথায় ময়লার সঙ্গে ফেলে দেওয়া হতো, তা জৈব পদার্থ হিসেবে আবার টবে ফিরে যায়।

ভার্মি কম্পোস্ট হলো কেঁচোর সাহায্যে তৈরি কম্পোস্ট। এটি এমন এক পচন প্রক্রিয়ার ফল, যেখানে বিভিন্ন প্রজাতির কেঁচো, সাধারণত রেড উইগলার, হোয়াইট ওয়ার্ম ও অন্যান্য কেঁচো, সবজি বা খাবারের বর্জ্য এবং বিছানো উপকরণকে এমন এক মিশ্রণে পরিণত করে, যার মধ্যে থাকে কেঁচোর মল বা ভার্মিকাস্ট। ভার্মি কম্পোস্টে পানিতে দ্রবণীয় পুষ্টি উপাদান থাকে; বাগান ও জৈব কৃষিতে এটি পুষ্টিসমৃদ্ধ জৈব সার এবং মাটির গুণ বাড়ানোর উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রজাতি হলো রেড উইগলার, অর্থাৎ আইসেনিয়া ফেটিডা ও আইসেনিয়া আন্দ্রেই।

এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশের প্রকাশিত জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, কেঁচো খণ্ডযুক্ত দেহের প্রাণী, যারা আর্দ্র মাটিতে বাস করে। এরা মাটি গিলে জৈব পদার্থ খায় এবং গর্তের মুখে পেস্টের মতো মল ফেলে যায়। ওপরের মাটির সঙ্গে নিচের মাটি মিশিয়ে দেয় বলে এদের কখনো কখনো প্রাকৃতিক লাঙল বলা হয়, আর এরা মাটির গুণ বাড়ায়। বিশ্বে সাত হাজারের বেশি প্রজাতির কেঁচো আছে, কিন্তু বাংলাদেশে কেঁচো সবচেয়ে কম গবেষণা হওয়া প্রাণীগোষ্ঠীগুলোর একটি: এ পর্যন্ত তিনটি গোত্রের ৪২টি প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে, এবং দেশে মানসম্পন্ন কেঁচো সার তৈরিতে কয়েকটি প্রজাতি ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জ্ঞানকোষটি জানায়।

কেঁচো সার বা ভার্মি কম্পোস্ট, যা জৈব সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়; প্রতীকী ছবি, বসুন্ধরার বাগানের নয়। ছবি: মৌচুমী / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
কেঁচো সার বা ভার্মি কম্পোস্ট, যা জৈব সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়; প্রতীকী ছবি, বসুন্ধরার বাগানের নয়। ছবি: মৌচুমী / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

সবার ছাদ, পরিবারের অবসর


ফ্ল্যাটবাড়িতে ছাদ সবার, আর নাজমুন নাহান জানান, কাজ শুরুর আগে তিনি সবার অনুমতি নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, 'এই ভবনের সব ফ্ল্যাট মালিকদের ছাদ ব্যবহারের সুযোগ আছে। সবার অনুমতি নিয়েই আমি বাগান করেছি। অবসর সময়ে বিভিন্ন ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা ছাদে এসে বাগান দেখে প্রশংসা করেন, ছবি তোলেন ও সময় কাটান। মেহমান এলে তারাও এখানে সময় কাটাতে পছন্দ করেন। আমার বাগান দেখে অনেক আত্মীয়স্বজনও ছাদ বাগান শুরু করেছেন।'

ভারী টব আনা, মাটি সংগ্রহের মতো বড় কাজে সাহায্য করেন স্বামী খান মোহাম্মদ আবু সাইদ। পেশাগত ব্যস্ততার মধ্যেও সময় পেলে তিনি গাছের পরিচর্যা করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাছের যত্ন নেওয়া, পানি দেওয়া, নতুন পাতা ও ফল ধরতে দেখা নাজমুন নাহান ও তাঁর পরিবারের মনে প্রশান্তি এনে দেয়।

খান মোহাম্মদ আবু সাইদ জাগো নিউজকে বলেন, 'অবসর সময় কাজে লাগিয়ে গাছগুলোর যত্ন নিই। প্রতিদিন অন্তত একবার হলেও ছাদে আসার চেষ্টা করি। কোনো দিন আসতে না পারলে মনে হয় দিনটা ভালো কাটেনি। পরিশ্রম করে নিজের গাছের ফল ও সবজি খেতে পারার আনন্দ আলাদা। স্ত্রীকে বাগানের কাজে সহায়তা করতে ভালো লাগে। ছুটির দিনে পরিবার নিয়ে ছাদে আড্ডা দিই।'

তাঁর পরামর্শ: পরিকল্পনা, টব আর মজবুত ছাদ


নাজমুন নাহানের মতে, ছাদ বাগান করতে বিশেষ কোনো জমির প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন পরিকল্পনা ও নিয়মিত যত্ন। সঠিক টব বা ড্রাম বাছাই, ভালো মানের মাটি, জৈব সার এবং গাছের জন্য পর্যাপ্ত রোদ ও বাতাস নিশ্চিত করতে পারলে সহজেই সফল হওয়া যায়। তিনি বলেন, ছাদের ভার বহনের ক্ষমতা, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ও ছাদ ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। অল্প জায়গায় বেশি ফলনের জন্য উল্লম্ব বাগান বা ঝুলন্ত টব ব্যবহার করা যেতে পারে।

একই বিষয়গুলো এসেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) একটি প্রকল্পের নির্দেশিকায়, যে প্রকল্প ২০১৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রামে প্রদর্শনী ছাদ বাগান গড়ে তোলে। এফএওর তথ্য অনুযায়ী, ওই নির্দেশিকায় ভবনের ভার বহনক্ষমতা যাচাই, জায়গার ব্যবহার, গাছ ও জাত বাছাই, উপকরণ ও বীজ সংগ্রহ, মাটি প্রস্তুত এবং ফসল পঞ্জিকা মেনে চাষের মৌলিক তথ্য দেওয়া হয়েছিল।

ঢাকার ছাদ বাগানিদের নিয়ে জরিপকারী গবেষকেরা দেখেছেন, ছাদ নিয়ে দুশ্চিন্তা এখনো একটি বাধা। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অ্যানালস অব বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচার সাময়িকীতে প্রকাশিত উত্তরা ও মিরপুরের ৬৩ জন বাগানির ওপর এক গবেষণায় স্যাঁতসেঁতে ভাব ও ভার বহনক্ষমতা নিয়ে ভুল ধারণা দূর করতে ভবন নির্মাণ বিধি ও কাঠামো বিষয়ে নির্দেশিকা তৈরির সুপারিশ করা হয়; গবেষকদের মতে, এতে ঢাকা মহানগর এলাকায় ছাদ বাগানের আরও বিস্তার ঘটতে পারে। ওই গবেষণায় বাগানিরা মানসম্পন্ন বীজ ও চারা পাওয়ার অসুবিধা এবং যথাযথ প্রশিক্ষণ ও কারিগরি দিকনির্দেশনার অভাবকেও প্রধান সমস্যার মধ্যে উল্লেখ করেন।

এফএওর ওই প্রকল্প শহর এলাকায় কর্মরত ডিএইর মেট্রোপলিটন কৃষি কর্মকর্তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদেরও উপকারভোগীর তালিকায় রেখেছিল। জাত, পোকামাকড় বা সার নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে শহরের বাগানিরা অনুমানে কোনো পণ্য বা মাত্রা বেছে না নিয়ে এলাকার এই কৃষি কার্যালয়ের পরামর্শ নিতে পারেন।

বসুন্ধরার ছাদে যা ফলে


ছাদের সবজিগুলো বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচিত সবজির মধ্যে পড়ে। বাংলাপিডিয়া টমেটো, বেগুন ও লাউকে দেশের প্রধান শীতকালীন সবজি এবং ঢ্যাঁড়শকে গ্রীষ্মকালীন সবজির তালিকায় রেখেছে; বেগুন ও ঢ্যাঁড়শ দুই মৌসুমেই চাষ করা যায়। এ কারণেই মৌসুম ধরে চাষ করে একজন বাগানি সারা বছর ছাদ থেকে ফলন পেতে পারেন। জ্ঞানকোষটির সবজিবিষয়ক ভুক্তিতে বসতবাড়ির সবজি চাষের যে বর্ণনা আছে, তা এই বাগানের সঙ্গে মেলে: পরিবারগুলো মূলত নিজেদের খাওয়ার জন্য সবজি ফলায়, বাড়তিটা বিক্রি করে বা ভাগ করে নেয়, আর এ কাজে নারীরাই প্রধান ভূমিকা রাখেন। বাংলাপিডিয়া আরও জানায়, দেশে সবজির প্রাপ্যতা জনপ্রতি দৈনিক প্রস্তাবিত ২০০ গ্রামের মাত্র এক-পঞ্চমাংশের মতো।

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, টমেটো সোলানেসি গোত্রের উদ্ভিদ, যার আদি নিবাস ক্রান্তীয় আমেরিকা; এতে ভিটামিন এ ও সি, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস প্রচুর থাকে। সাধারণত নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ২৫ থেকে ৩০ দিন বয়সী চারা লাগানো হয় এবং ৮০ থেকে ৯০ দিনে ফসল তোলা যায়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) টমেটোর কয়েকটি জাত উদ্ভাবন করেছে; এর মধ্যে বারি টমেটো-৪, বারি টমেটো-৫, চৈতী, লালিমা এবং হাইব্রিড জাত অনুপমা গরম মৌসুমেও চাষ করা যায় বলে জ্ঞানকোষটি জানায়।

বেগুন (সোলানাম মেলোঞ্জেনা) ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিন এ ও সি-সমৃদ্ধ; সাধারণত অক্টোবর ও নভেম্বরে লাগানো হয় এবং ৯০ থেকে ১০০ দিনে তোলার উপযোগী হয়। বারির জাতের মধ্যে আছে উত্তরা, শুকতারা, তারাপুরী, নয়নতারা ও কাজলা। মরিচের আদি নিবাস মেক্সিকো; গ্রীষ্ম ও শীত দুই মৌসুমেই এর চাষ হয়, আর এটি ভিটামিন ও ফসফরাসের ভালো উৎস। ঢ্যাঁড়শ (আবেলমোসকাস এসকুলেন্টাস) গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমে চাষ হয়; এতে ভিটামিন এ, বি ও সি এবং লৌহ প্রচুর থাকে, আর এর সবুজ ফল ১৪ থেকে ১৮ সেন্টিমিটার লম্বা ও পাঁচটি শিরাযুক্ত হয়।

লাউ সাধারণত শীতকালীন ফসল, যাতে ক্যারোটিন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সি প্রচুর থাকে। সরাসরি বীজ বুনে অথবা ১৫ থেকে ২০ দিন বয়সী চারা রোপণ করে লাউ চাষ করা হয় এবং ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে ফসল তোলা যায়; বারি লাউ-১ এর একটি জাত, আর লাউয়ের পাতা ও ডগাও সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। বাংলাপিডিয়া জানায়, গ্রামবাংলায় বসতবাড়ির বাগানে বাঁশের মাচায় বা খড়ের চালে লাউ-কুমড়া চাষের চল বহু পুরোনো; ঢাকার ছাদে লাউয়ের লতা তাই নতুন পরিবেশে পুরোনো এক অভ্যাসেরই ধারাবাহিকতা।

ঢাকার মগবাজারের একটি কাঁচাবাজারে বিক্রির জন্য রাখা লাউ, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তোলা। ছবি: Salim Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
ঢাকার মগবাজারের একটি কাঁচাবাজারে বিক্রির জন্য রাখা লাউ, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তোলা। ছবি: Salim Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

লেবু (সাইট্রাস লিমন) ভারতীয় উৎসের একটি লেবুজাতীয় ফল। বাংলাদেশজুড়ে বসতবাড়ি ও বাগানে মূলত কলম ও কাটিং থেকে এর চাষ হয়, আর ভিটামিন সি-এর জন্য এটি সমাদৃত। বারি এলাচি ঘ্রাণের বড় আকারের লেবু বারি লেবু-১ এবং কাগজি জাতের বারি লেবু-২ ও বারি লেবু-৩ উদ্ভাবন করেছে।

সজনে হলো মরিঙ্গা অলিফেরা নামের গাছ। এটি স্বল্পায়ু, দ্রুত বর্ধনশীল ও খরাসহিষ্ণু গাছ, যার আদি নিবাস উত্তর ভারত, আর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর ব্যাপক ব্যবহার আছে। লম্বা, সরু, তিন কোনা ফলের কারণে ইংরেজিতে একে ড্রামস্টিক বলা হয়; এই ফল ২০ থেকে ৪৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। গাছটি ১০ থেকে ১২ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে, আর রোপণের প্রথম ছয় মাসের মধ্যেই ফুল আসতে শুরু করে।

বাংলাদেশে ফল ও ফুলসহ একটি সজনে গাছ। ছবি: Cottonseed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাংলাদেশে ফল ও ফুলসহ একটি সজনে গাছ। ছবি: Cottonseed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ঢাকার ছাদ বাগান নিয়ে গবেষণা যা বলছে


ঢাকায় ছাদ বাগান নতুন নয়। নগর উদ্যানতত্ত্ববিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপস্থাপিত এবং ২০০৪ সালে অ্যাক্টা হর্টিকালচারি সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়, শহরে বহু বছর ধরে নানা রূপে ছাদ বাগান চলে এলেও একে নগর কৃষির অংশ করতে সরকার, সামাজিক সংগঠন বা নাগরিকদের দিক থেকে সমন্বিত উদ্যোগ প্রায় ছিল না। গবেষক কে এম শরিফুল ইসলাম বাড়ির মালিক এবং সরকারি ও বাণিজ্যিক ভবনের বাসিন্দাদের ওপর জরিপ চালান, আর এনজিও, সিটি করপোরেশনের বিভাগ ও জমির মালিকদের নিয়ে আলোচনা করে এর প্রসারে কোন নীতি সহায়ক হতে পারে, তা খোঁজেন।

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে জার্নাল অব আরবান ম্যানেজমেন্টে প্রকাশিত মাস্তুরা সাফায়েত, মো. ফকরুল আরেফিন ও মো. মুসলেহ উদ্দিন হাসানের গবেষণা হয় মিরপুর ও মোহাম্মদপুরে। এতে দেখা যায়, ছাদকৃষি বাতাসের মান উন্নত করতে, বায়ুমণ্ডলে কার্বন কমাতে এবং বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনার খরচ কমাতে পারে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬০ জন ছাদ বাগান না করা মানুষের বেশির ভাগই এটি শুরু করতে আগ্রহী ছিলেন এবং ছাদের অন্তত অর্ধেক জায়গা এ কাজে দিতে চেয়েছিলেন।

এই চর্চার পরিসর মাপা হয় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা ইউনিভার্সিটি জার্নাল অব আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেসে প্রকাশিত এক গবেষণায়। নাজমুন নাহার, আসিব আহমেদ ও মো. শামীম হোসেনের হিসাবে শহরে ছাদ বাগান ছিল ২৫৭.৯৫ হেক্টরে, যা শহরের ৮০ হাজার ২২০ হেক্টর টানা ছাদের ০.৩২ শতাংশ; এটি নগরবাসীর তাজা সবজি ও ফলের চাহিদার প্রায় ০.৩ শতাংশ মেটাতে পারে। গবেষকদের মতে, এসব বাগানের বার্ষিক উৎপাদনের মূল্য প্রায় ৩৬২ মিলিয়ন টাকা, আর বাগানিরা নিজেদের উৎপাদনের প্রায় ৭৫ শতাংশ নিজেরাই খান। পারিবারিক পর্যায়ে ছাদ বাগান থেকে আসে সবজির প্রায় ৬ শতাংশ এবং ফলের প্রায় ১৮ শতাংশ।

ছাদ বাগান লাভজনক কি না, তা দেখা হয় ২০২৫ সালের জুনে জার্নাল অব দ্য বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটিতে প্রকাশিত গবেষণায়। সাদিকা দীপান্বিতা ও তাঁর সহকর্মীরা কলাবাগান, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, বনানী, ক্যান্টনমেন্ট ও উত্তরার ৬০ জন বাগানির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেন, ছাদে সবজি চাষ অর্থনৈতিকভাবে টেকসই, যার আয়-ব্যয়ের অনুপাত ১.৩২। বেশির ভাগ বাগানি বাগান থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কিছু আয় করেন, যদিও তাঁদের মোট আয়ের তুলনায় তা সামান্য। গবেষণায় খাদ্যের নিরাপত্তা ও পরিবেশের উন্নতিকে শক্তির দিক এবং মাটির নিম্নমান ও বাগানের সরঞ্জামের সীমিত প্রাপ্যতাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অ্যানালস অব বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচারে প্রকাশিত মুহাম্মদ জিয়াউল হক ও সহকর্মীদের গবেষণায় দেখা যায়, জরিপে অংশ নেওয়া ৬৩ জন বাগানির বেশির ভাগই বয়স্ক, স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী অবসরপ্রাপ্ত পেশাজীবী। তাঁদের অধিকাংশ নিজের বাড়ির ছাদে বাগান করেছেন, ছাদের ৪০ থেকে ৮০ শতাংশ জায়গা বাগানে ব্যবহার করেন এবং দিনে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় দেন। সব মিলিয়ে তাঁরা ৩২ ধরনের সবজি, ৪০ ধরনের ফল, ১১ ধরনের মসলা, ৪৮ ধরনের ফুল ও ১২ ধরনের ঔষধি গাছ লাগিয়েছেন। তথ্যের প্রধান উৎস ছিল বন্ধুবান্ধব, ফেসবুক ও কৃষি সম্প্রসারণকর্মীরা, যা মায়ের কাছে শেখার পর ভিডিও ও কৃষিবিষয়ক ফেসবুক গ্রুপ থেকে তথ্য নেওয়ার যে কথা নাজমুন নাহান বলেছেন, তার সঙ্গে মেলে। বাগানিরা পরিবারের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার, বাতাসের মানের উন্নতি এবং পরিবারের মানসিক স্বাস্থ্যকে সবচেয়ে বড় সুফল বলে মনে করেন; কেউ কেউ অবশ্য উদ্বিগ্ন ছিলেন যে বাগানের কারণে শিশুদের খেলার খোলা জায়গা কমে যাচ্ছে।

ঠান্ডা ছাদ, নির্মল বাতাস ও বৃষ্টির পানি


প্রতিবেদনে বলা হয়, ছাদের গাছপালা তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে, বাতাসে অক্সিজেন বাড়ায় ও কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে, ভবনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং বৃষ্টির পানি ধরে রেখে জলাবদ্ধতা কমাতে সহায়তা করে। ঢাকায় করা পরিমাপ তাপমাত্রা কমার দাবিটিকে সমর্থন করে। দ্বিতীয় ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রামের (এনএটিপি-২) অর্থায়নে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাভিত্তিক একটি মডেল ছাদ বাগান তৈরি করেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ইকোসিস্টেম সায়েন্স সাময়িকীতে তাঁরা জানান, বাগানটি ছাদের ওপরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি এবং নিচের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ১.৭৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমিয়েছে।

গবেষকদের মতে, এর ফলে গ্রীষ্মে ওপরতলার ঘর ঠান্ডা রাখতে বিদ্যুতের ব্যবহার কমতে পারে। খালি ছাদের তুলনায় বাগানে অক্সিজেনের হার বেশি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের হার কম পাওয়া যায়। তাঁদের সিদ্ধান্ত, ঢাকায় ছাদ বাগানের ঘনত্ব বাড়িয়ে নগরে ফসল উৎপাদন ও পরিবেশের ভারসাম্য কিছুটা অর্জন করা সম্ভব। গবেষণাপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, বাড়তে থাকা তাপমাত্রা ও বায়ুদূষণ কমানো এবং খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে ডিএই ২০১৮ সাল থেকে ঢাকায় ছাদ বাগান সম্প্রসারণে একটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

পানির প্রশ্নে ২০১৭ সালের জার্নাল অব আরবান ম্যানেজমেন্টের গবেষণা বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনার খরচ কমাকে ছাদকৃষির সামাজিক সুফলের মধ্যে গণ্য করেছে। ছাদ থেকে সরাসরি গড়িয়ে না পড়ে বৃষ্টির পানি ছাদ বাগানের মাটিতে আটকে থাকার যে কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার সঙ্গে এটি সংগতিপূর্ণ।

প্রকল্প ও হোল্ডিং করে ছাড়ের প্রতিশ্রুতি


রাজধানীতে ছাদ বাগানে সরকারি সহায়তার ইতিহাস অন্তত এক দশকের। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এফএও ডিএইর সঙ্গে 'খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে নগর উদ্যান ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি' শিরোনামের একটি প্রকল্প চালায়, যাতে এফএওর অবদান ছিল ২ লাখ ৯৯ হাজার মার্কিন ডলার। প্রকল্পটি ঢাকা ও চট্টগ্রামে ২৫০টি প্রদর্শনী ছাদ বাগান গড়ে তোলে, ৮০০ নগরবাসীকে ছাদ বাগানের প্রযুক্তিতে এবং ৪৫ জন স্থানীয় তরুণকে মালি হিসেবে প্রশিক্ষণ দেয়, নার্সারি মালিক, বীজ ব্যবসায়ী এবং সার ও সরঞ্জাম বিক্রেতাদের সঙ্গে পরামর্শ সভা করে, আর 'অক্সিজেন ব্যাংকিং' নামের একটি উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচিসহ স্কুল বাগান স্থাপন করে। এফএও জানায়, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ডিএই নগর উদ্যান ফসলের কার্যক্রমকে তার মূল কাজের অন্তর্ভুক্ত করতে শুরু করে।

ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা ফুড সিস্টেম প্রকল্পের আওতায় এফএও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি তথ্য সার্ভিসের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, ঢাকা শহরে প্রায় সাড়ে চার লাখ ছাদ, যার আয়তন প্রায় সাড়ে চার হাজার হেক্টর, অব্যবহৃত বা কম ব্যবহৃত পড়ে আছে, আর ডিএনসিসির ড্রোন জরিপে তার এলাকার মাত্র ২ শতাংশ ছাদে বাগান পাওয়া গেছে। নেদারল্যান্ডসের অর্থায়নে, স্থানীয় সরকার বিভাগের নেতৃত্বে এবং এফএও ও ভাগেনিঙেন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সহায়তায় চলা প্রকল্পটি স্থানীয় সংস্থা প্রশিকার সঙ্গে মিলে শহরে ২০টি প্রদর্শনী ছাদকৃষি প্লট গড়া এবং বস্তি এলাকার ৫৫০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ করছিল।

কর ছাড়ের বিষয়টি কয়েক বছর ধরে আলোচনায় আছে। দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস জানায়, ২০২০ সালের আগস্টে ডিএনসিসির মেয়র ছাদ বাগান করা নগরবাসীর জন্য হোল্ডিং করে ১০ শতাংশ ছাড়ের ঘোষণা দেন; পরিবেশ ও কৃষি মন্ত্রণালয়, নাগরিক সমাজ, নগর পরিকল্পনাবিদ ও পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের কর্মশালায় তিনি জানান, পরিকল্পিত এই ছাড় কার্যকর করতে, কোন পরিবার যোগ্য হবে তা নির্ধারণসহ, নির্দেশিকা তৈরিতে এফএও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে সহায়তা করছে।

দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের খবর অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৪ জুন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ঘোষণা দেন, দেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা এলাকায় ছাদ বাগান করা ভবনমালিকেরা হোল্ডিং করে ১০ শতাংশ ছাড় পাবেন, এবং এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে পরিপত্র জারি হবে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের তথ্যমতে, কোন ধরনের বাগান ছাড়ের যোগ্য হবে, তা পরিপত্রে নির্ধারণ করার কথা ছিল; মন্ত্রী বলেন, কয়েকটি টব রাখলেই চলবে না, মশার বংশবিস্তার ও পানিবাহিত রোগ ঠেকাতে বাগান নিয়মিত সুষ্ঠুভাবে পরিচর্যা করতে হবে। ঢাকা ট্রিবিউন জানায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ডিএনসিসি বলেছে, মন্ত্রণালয় সব সিটি করপোরেশনে পরিকল্পিত ছাদ বাগানের জন্য কর ছাড় অনুমোদন করেছে, এবং যোগ্যতা ও বাগানি বাছাইয়ের নীতিমালা তৈরি হলে নগরবাসী এই ছাড় পাবেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় এই ছাড় দেওয়া শুরু হয়েছে, এমন তথ্য যাচাই করা কোনো সূত্রে পাওয়া যায়নি, আর জাগো নিউজের প্রতিবেদনেও এর উল্লেখ ছিল না।

হোল্ডিং কর আদায় করে সিটি করপোরেশন, যার বর্তমান কাঠামো ২০১১ সালের ডিসেম্বর থেকে। বাংলাপিডিয়া জানায়, ১৯৮৩ সালের এক অধ্যাদেশে গঠিত ঢাকা সিটি করপোরেশনকে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) সংশোধন আইন ২০১১ অনুযায়ী ২০১১ সালের ৪ ডিসেম্বর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, এই দুই স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ভাগ করা হয়। জাগো নিউজের প্রতিবেদনটি শেষ হয় এই পর্যবেক্ষণে যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে ছাদ বাগান নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে, আর সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে একে আরও উৎসাহিত করা গেলে শহরের খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় এর ভূমিকা আরও বিস্তৃত হবে।

ছাদের ফসল নিরাপদ রাখা


রাসায়নিক কীটনাশক ছাড়া চাষ করলেই সবজি জীবাণুমুক্ত হয় না। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিএলওএস ওয়ান সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ছাদ ও মাটির বাগান থেকে কাঁচা সবজি, মাটি ও পানির ১৪৫টি নমুনা পরীক্ষা করে ৮৫টিতে ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মাটির বাগানে দূষণের হার (৭০.৮৩ শতাংশ) ছাদ বাগানের (৪৬.৫৭ শতাংশ) চেয়ে বেশি ছিল; শহরতলির গাজীপুরে উল্টো ছাদ বাগানেই দূষণ বেশি, ৯৩.৩৩ শতাংশ। পরীক্ষা করা ৫৪টি আইসোলেটের সবগুলোই অ্যাম্পিসিলিন প্রতিরোধী ছিল, আর ১৪.৮১ শতাংশ ছিল একাধিক ওষুধ প্রতিরোধী। খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে অণুজীব প্রতিরোধী জীবাণুর বিস্তার ঠেকাতে গবেষকেরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানান।

অণুজীবের দূষণ কমাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ২০১২ সালে 'নিরাপদ ফল ও সবজি উৎপাদনের পাঁচটি চাবিকাঠি' নামে যে নির্দেশিকা প্রকাশ করে, তার নিয়মগুলো খামারের মতো ছাদেও প্রযোজ্য:

  • ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা;
  • চাষের জায়গাকে প্রাণীর মলের দূষণ থেকে রক্ষা করা;
  • সার হিসেবে কেবল শোধিত মলজাত বর্জ্য, যেমন যথাযথভাবে প্রক্রিয়াজাত গোবর, ব্যবহার করা;
  • সেচের পানির ঝুঁকি যাচাই ও নিয়ন্ত্রণ করা;
  • ফসল তোলা ও সংরক্ষণের সরঞ্জাম পরিষ্কার ও শুকনো রাখা।

ডব্লিউএইচও বলছে, যথাযথভাবে শোধিত গোবর কার্যকর ও নিরাপদ সার, কিন্তু অশোধিত প্রাণিজ বর্জ্যের জীবাণু দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারে এবং তাজা ফসলকে দূষিত করতে পারে। নাজমুন নাহান যে রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট, পাতা ও কেঁচো সার ব্যবহার করেন, সেগুলো উদ্ভিজ্জ উপকরণ; কোনো বাগানি গোবর যোগ করলে বা সন্দেহজনক উৎসের পানি দিয়ে সেচ দিলে ঝুঁকি কীভাবে সামলাবেন, তা এলাকার কৃষি কার্যালয়ের কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন।

ছবি: AbuSayeed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ, বাংলাপিডিয়া, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), ঢাকা ট্রিবিউন, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, জার্নাল অব আরবান ম্যানেজমেন্ট, ঢাকা ইউনিভার্সিটি জার্নাল অব আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস, জার্নাল অব দ্য বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি, অ্যানালস অব বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচার, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ইকোসিস্টেম সায়েন্স, অ্যাক্টা হর্টিকালচারি, পিএলওএস ওয়ান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

শাকসবজি

সম্পর্কিত খবর

ছাদকৃষি

শীতের ছাদবাগান: কোন সবজি ও ফুল লাগাবেন, কেমন হবে টব আর মাটি

শীতের ছাদবাগানের প্রস্তুতি এখনই; ১২-১৫ ইঞ্চির টবে সবজি, ফুলের জন্য দোআঁশ মাটি, কম্পোস্ট ও কোকোপিটের মিশ্রণ, আর দিনে অন্তত ৫-৬ ঘণ্টা রোদ।

এই সময়১ নভেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
রান্নাবান্না

ঘরেই বানান মিষ্টি কুমড়ার পাই: উপকরণ ও প্রণালি

ময়দা, মাখন আর সেদ্ধ মিষ্টি কুমড়া, ডিম, দুধ ও দারচিনি-জায়ফলের পুর দিয়ে ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ৪০-৫০ মিনিট বেক করলেই তৈরি পাম্পকিন পাই।

বার্তা২৪১ নভেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

সৌরবিদ্যুতের পাতকুয়ায় সেচ, মীরসরাইয়ে চাষের আওতায় ২০ একর পতিত জমি

বিএডিসির বসানো সৌরবিদ্যুৎচালিত ছয়টি ডাগওয়েল বা পাতকুয়া থেকে বিদ্যুৎ বা ডিজেল ছাড়াই সেচের পানি পাচ্ছেন মীরসরাইয়ের পাহাড়ি এলাকার কৃষকেরা।

এগ্রিকেয়ার২৪১ নভেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)