১৮৯০ সালে কৃষিশুমারিতে প্রথমবার গণনা শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে সেচনির্ভর কৃষি বেড়েছে দশ গুণেরও বেশি—আর এখন সেই বিস্তার থেমে গেছে, বলছে ইউএসডিএর ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস।
দীর্ঘ এই বৃদ্ধি এসেছে দুই দিক থেকে। কেন্দ্রীয়, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকার খামার ও র্যাঞ্চে ভূ-উপরিস্থ পানি পৌঁছে দিতে অবকাঠামোয় বিনিয়োগ করেছে; অন্যদিকে নলকূপ খনন ও পাম্পিং প্রযুক্তির উন্নতি ভূগর্ভস্থ পানির পথ খুলে দিয়েছে। ১৯৯৭ সালের দিকে পানির সরবরাহসহ নানা সীমাবদ্ধতায় সেচের জমি বাড়া থেমে যায়।
সর্বশেষ হিসাব বলছে, এরপর তা উল্টো পথে হেঁটেছে। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সেচের আওতায় কৃষিজমি ছিল ৫ কোটি ৪৯ লাখ একর, যা ২০১৭ সালের সর্বোচ্চ ৫ কোটি ৮০ লাখ একরের চেয়ে কম এবং ১৯৯৭ সালের ৫ কোটি ৬৩ লাখ একরের চেয়েও কম।
আর প্রতি একরে যা দেওয়া হচ্ছে, তা কমছে আরও অনেক আগে থেকেই। পানি ব্যবহারের নিবিড়তা—প্রতি একরে প্রয়োগ করা পানির পরিমাণ, একর-ফুটে মাপা, যেখানে এক একর-ফুট মানে ৩,২৫,৮৫১ গ্যালন—১৯৬৯ সাল থেকে সাধারণভাবে কমেছে। সেচের প্রতি একরে গড় ব্যবহার ১৯৬৯ সালে ছিল ২ একর-ফুটের বেশি, ২০১৮ সালে তা নেমে দাঁড়ায় সর্বনিম্ন ১.৪৯ একর-ফুটে, পরে ২০২৩ সালে কিছুটা বেড়ে হয় ১.৫২।
ইআরএস গবেষক নিকোলাস পটারের মতে, এই হ্রাসের কারণ চাপযুক্ত সেচব্যবস্থা এবং জমিতে পানি প্রয়োগের পদ্ধতিতে অন্যান্য উন্নতি গ্রহণ।
দুটি প্রবণতা একসঙ্গে দেখাই আসল কথা। মার্কিন কৃষি এখন কিছুটা কম জমিতে সেচ দিচ্ছে, আর প্রতিটি একরে পানি দিচ্ছে আগের চেয়ে অনেক কম—সীমিত সম্পদ দিয়ে বেশি কাজ করার এই ধরনটি ভূগর্ভস্থ পানির চাপে থাকা যেকোনো দেশের কৃষকের চেনা।
চার্টটি ইআরএসের ‘ট্রেন্ডস ইন ইউ.এস. ইরিগেটেড অ্যাগ্রিকালচার: ইনক্রিজিং রেজিলিয়েন্স আন্ডার ওয়াটার সাপ্লাই স্কারসিটি’ প্রতিবেদনের তথ্য হালনাগাদ করেছে, যা প্রকাশিত হয়েছিল ২০২১ সালের ডিসেম্বরে।
সূত্র: ইউএসডিএ ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস





মন্তব্য
(০)