মালবাহী রেল নেটওয়ার্ক বেসরকারীকরণের ২৬ বছর পর তা ফের কিনে নেওয়ার পথে বাস্তব পদক্ষেপ নিল অস্ট্রেলিয়ার (Australia) পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া (Western Australia) রাজ্য সরকার। এবিসির খবরে জানা যায়, কুক লেবার সরকার এই সপ্তাহে পার্লামেন্টে একটি বিল এনেছে; পাস হলে নেটওয়ার্কটি সরকারি মালিকানায় ফেরানোর আইনি কাঠামো তৈরি হবে।
কৃষকদের কাছে নেটওয়ার্কটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রতিবছর লাখ লাখ টন শস্য ও খনিজ এর ৫,৫০০ কিলোমিটার লাইন ধরে জেরাল্ডটন, ফ্রিম্যান্টল, বানবারি, অ্যালবানি ও এসপারেন্স বন্দরে পৌঁছায়, যা রাজ্যের কৃষি ও খনি অঞ্চলকে যুক্ত করেছে। ২০০০ সালে একটি লিবারেল-ন্যাশনাল সরকার মূলত রেলব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান ঋণের কারণে পরিচালনা বিক্রি করে এবং মূল নেটওয়ার্ক ৪৯ বছরের ইজারায় দেয়; এখন এটি চালায় আর্ক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (Arc Infrastructure), যার মূল কোম্পানি ব্রুকফিল্ডের (Brookfield) সঙ্গে রাজ্যের বাণিজ্যিক আলোচনা চলছে।
সরকারের যুক্তি, সরকারি নিয়ন্ত্রণে আরও লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ ও নেটওয়ার্কের বেশি ব্যবহার সম্ভব হবে—আঞ্চলিক কর্মসংস্থান বাড়বে, কৃষকেরা ভালো সহায়তা পাবেন, আঞ্চলিক সড়কে ট্রাক কমবে। প্রধান চালিকাশক্তি ২০১৪ সালে বিতর্কিতভাবে বন্ধ হওয়া ৫০০ কিলোমিটারের বেশি টিয়ার-৩ লাইন আবার চালু করার দাবি। ব্রুস রকের কৃষক জেন ফুকসবিখলার (Jane Fuchsbichler) এবিসিকে বলেন, লাইন বন্ধ হওয়ায় সড়কে ট্রাক বেড়েছে, স্থানীয় সরকারের বোঝা বেড়েছে আর সড়কে মৃত্যুও বাড়ছে।
রাজ্যের বৃহত্তম শস্য ব্যবস্থাপক সিবিএইচ গ্রুপ (CBH Group) উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে—তাদের আশা, সরকারি ক্রয়ে অবকাঠামো লাফিয়ে বাড়তে থাকা উৎপাদনের সঙ্গে তাল রাখতে পারবে। গোল্ডফিল্ডসে কালগুর্লি-বোল্ডারের সুপার পিট সোনার খনির চারপাশে রেলপথ সরানো ও একটি আন্তঃমাধ্যম পরিবহনকেন্দ্র গড়ার এক দশকের পুরোনো পরিকল্পনার একমাত্র বাস্তব পথ হিসেবেও সরকারি অধিগ্রহণকে দেখা হচ্ছে। রেল, ট্রাম অ্যান্ড বাস ইউনিয়নও সরকারি মালিকানার পক্ষে।
বাধা হলো খরচ আর লাইনের হাল। টিয়ার-৩ লাইন চালু অবস্থায় নেই; কৃষকদের বর্ণনায়, লাইনে তিন মিটার পর্যন্ত উঁচু গাছ জন্মেছে আর স্লিপার মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়েছে; ২০২০ সালের একটি স্বাধীন প্রকৌশল প্রতিবেদনে লাইন সচল করার খরচ ধরা হয়েছিল কয়েক শ মিলিয়ন ডলার। ক্রয়মূল্যকে পরিবহনমন্ত্রী কেবল ‘উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ’ বলেছেন। পাস্টোরালিস্টস অ্যান্ড গ্রেজিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট টনি সিব্রুক (Tony Seabrook) বলেন, তিনি ‘শত শত কোটির’ অঙ্ক শুনেছেন এবং চুক্তিটি ‘অবিশ্বাস্যভাবে ব্যয়বহুল, সম্ভবত অসাধ্য’ হবে; ভেড়ার মাংস শিল্পের অভিজ্ঞতার পর সরকারের হাতে নিয়ন্ত্রণ যাওয়া নিয়েও তিনি সতর্ক। গত বছর ডেলয়েটকে দিয়ে করানো সুপার পিট পুনর্বিন্যাসের ব্যবসায়িক মূল্যায়ন প্রকাশ করা হয়নি।
রেল ফ্রেইট সিস্টেম বিল ২০২৬ পাস হওয়া কেবল আইনি ধাপ; ক্রয়টি অর্থনৈতিক ও আর্থিকভাবে দায়িত্বশীল, তা সরকারকে এখনো প্রমাণ করতে হবে। ডব্লিউএ ন্যাশনালসের নেতা শেন লাভ (Shane Love) ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েও স্বচ্ছতা চেয়েছেন, আর ছায়া পরিবহনমন্ত্রী স্টিভ মার্টিন (Steve Martin) বলেছেন, খরচ না জেনে তাঁর দল প্রস্তাব মূল্যায়ন করতে পারবে না। সরকার বলছে, লেনদেন হলে আর্কের গ্রাহক ও কর্মীদের ব্যাঘাত হবে সামান্য; ব্রুকফিল্ড মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
এবিসি রুরালের জন্য প্রতিবেদনটি লিখেছেন কেট ফরেস্টার (Kate Forrester)।
সূত্র: এবিসি রুরাল



মন্তব্য
(০)