যুগ যুগ ধরে অমানবিক পরিশ্রম। পানির নিচে ডুব দিয়ে প্রথমে কোদাল দিয়ে মাটি কোপানো, এর পর চাক মাটি ভাসমান নৌকায় মাথায় করে তোলা ওই পানির নিচ থেকেই। সবটাই পানিকেন্দ্রিক। আর শ্রমটা শুধু ডুব দেওয়াতে নয়।
কোদাল দিয়ে পানির নিচে মাটি কোপানো যেমন কঠিন, তেমনি আরো কঠিন সেটি ডুব দিয়ে আবার মাথায় তুলে নৌকায় রাখা। ঘটনাটি দেখেছিলাম কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায়।
২০০৮ সালের কোনো একদিন গিয়েছিলাম মনোহরগঞ্জে সেখানকার জলাবদ্ধতার ওপর কাজ করতে। গিয়ে দেখলাম এক ভয়াবহ দৃশ্য। মানুষ ডুব দিচ্ছে। আধো-ডুব বা পুরো ডুব দিয়ে কোদাল দিয়ে মাটি কুপিয়ে পানির নিচেই প্রথমে চাক মাটি রাখছে। তারপর সেই চাক মাটি আবার ডুব দিয়ে মাথায় তুলে পানির ওপরে ভাসমান ডিঙি নৌকায় তুলছে। সে পরিশ্রমের কষ্ট এবং ভাষা আমার জানা নেই। শুধু চোখে দেখেছিলাম কী নির্মম পরিশ্রম।
এই মাটি নতুন ঘর-বাড়ি তৈরিতে, রাস্তাঘাট নির্মাণে, এ ছাড়াও আরও বেশ কিছু কাজে লাগে। একজন ‘মাটি-কাটা’ শ্রমিক বলছিলেন সকাল আটটা থেকে নেমে ৭০০ ডুব দিয়ে মাটি তুলে আনতে হয়। বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম তার কথা শুনে। আবার তাদেরই ভাষ্য, এ কাজ না করেও কোনো গতি নেই। মাটি কেটেই যে নিজেদের জীবন বাঁচায় এই নিরুপায় মানুষগুলো।





মন্তব্য
(০)