ভেনিস। ইতালির মোহনীয় সৌন্দর্যের এক শহর। এই শহরটি রোমান্টিক শহর হিসেবেও খ্যাত। ঐতিহাসিক নগরী ভেনিসে পানির ওপর ভেসে থাকা দৃষ্টিনন্দন প্রাসাদ, তার গা ঘেঁষে একে-বেঁকে বয়ে চলা স্বচ্ছ লেকের জন্য এর খ্যাতি ভুবনজোড়া। ভেনিসের মতো নান্দনিক শহর পৃথিবীতে খুব কমই আছে। অপূর্ব সুন্দর এই শহরটি সারা পৃথিবীর পর্যটকদের প্রিয় একটি শহর। শহরটির শিল্প সাহিত্য, বিশেষ করে স্থাপত্যশিল্প দেখে যে কারো মন জুড়িয়ে যায়। প্রতিটি বাড়িই যেন একেকটি নান্দনিক স্থাপত্য, রঙ-বেরঙের কারুকার্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে জলের মধ্যে। ইতিহাস থেকে জানা যায়- জলদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পেতে ভাসমান এই শহরটি গড়ে উঠেছিল। পরে ধীরে ধীরে মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে আর সমৃদ্ধ হয়ে উঠতে থাকে শহরটি।
ঐতিহ্য অনুযায়ী ভেনিসে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে সঙ্গী একমাত্র ছোট ডিঙি নৌকা। ভেনিসে বসবাস করা প্রতিটি পরিবারের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা হলো এই নৌকা। বাড়ির ঘাটেই বাঁধা থাকে নিজস্ব নৌকা অথবা স্পিড বোট। ভেনিসের জলযানের একটি আকর্ষণীয় রোমান্টিক জলযান হলো “গণ্ডোলা”। সুন্দর এই যানটি যে কারও দৃষ্টি কেড়ে নেয়। একটু পরপরই দেখার মতো কিছু না কিছু না চোখে পড়বে, হতে পারে কোনো প্রাচীন চার্চ, কোনো মিউজিয়াম বা কোনো প্রদর্শনী। আর একটু পরপর মুখোশ, হ্যাট বা নানা রঙের কাচের জিনিসের দোকান তো আছেই।
রোমান্টিক শহরটি নবদম্পতিদের হানিমুনের জন্য দারুণ জনপ্রিয় একটি জায়গা। তাই এই শহরকে “সিটি অব লাভ” বলেও ডাকা হয়। মাকড়শার জালের মত পুরো ভেনিস জুড়ে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য খাল। মুখোশের শহর হিসেবে সারা বিশ্বে দারুণ খ্যাতি আছে ভেনিস নগরীর। প্রতিবছর ভেনিসে মুখোশের কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হয়। এই কার্নিভাল উপলক্ষে অসাধারণ কারুকার্য খচিত, শৈল্পিক রুচির সমন্বয়ে তৈরি হয় চমৎকার সব মুখোশ। ভেনিস গেলে পর্যটকরা রঙ বেরঙের এই মুখোশগুলো কিনে থাকেন। ভেনিসের লিডো দ্বীপ পর্যটকদের জন্য আরেকটি চমৎকার স্থান। এটিকে বলা হয় ভেনিসের সোনালি দ্বীপ।
ভাসমান শহর ভেনিস সামুদ্রিক খাবারের জন্য পর্যটকদের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয়। যারা সামুদ্রিক খাবারপ্রেমীদের জন্য এক স্বর্গরাজ্যের নাম ভেনিস।





মন্তব্য
(০)