বাংলাদেশের মাঠে-ঘাটে ও পরিত্যক্ত জমিতে ছড়িয়ে থাকা বিন্না ঘাসকে ব্যাপক হারে ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই ঘাস কোন কোন প্রকল্পে ব্যবহার করা যায় তা পর্যালোচনার জন্য সোমবার একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ব্যবহারের একটি গাইডলাইন তৈরিরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিন্না ঘাসের ইংরেজি নাম ভেটিভার। গ্রামাঞ্চলে কোথাও কোথাও একে বেন্না ঘাস, খসখস কিংবা ছন নামেও ডাকা হয়। বহুবর্ষজীবী এই গুল্মজাতীয় ঘাস লম্বা সরু পাতা নিয়ে ঘন ঝোপের মতো বেড়ে ওঠে এবং সাধারণত দেড় থেকে তিন মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়।
এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য শিকড়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম, যিনি প্রায় দুই দশক ধরে এই ঘাস নিয়ে গবেষণা করছেন, বলছেন, "এই ঘাসের শেকড়গুলো অত্যন্ত লম্বা ও শক্তিশালী হয়। শেকড় দুই থেকে তিন মিটার কখনো কখনো চার মিটার পর্যন্ত মাটির ভেতর ভেদ করতে পারে।"
সেই শিকড়ই প্রকৌশল কাজে ব্যবহার হয়। "এই ঘাসের লম্বা মূল বা শেকড় খুব দ্রুত মাটির গভীরে ঢুকে, মাটিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রাখে। যে কারণে প্রকৌশল বিদ্যায় এই ঘাস ব্যবহার করে রাস্তা ঘাট, পাহাড় ধ্বস, নদীর ভাঙনও রক্ষা করা হয়," বলছিলেন অধ্যাপক ইসলাম। বিভিন্ন দেশে পাহাড়ের ক্ষয়রোধ ও ধস ঠেকাতে পার্শ্বঢালে এই ঘাস লাগানো হয়। সরকারের গঠিত কমিটিতেও তাকে যুক্ত করা হয়েছে।
খাল খননের কর্মসূচির সঙ্গেই বিষয়টি জড়িয়ে গেছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বর্তমান সরকার দেশজুড়ে খাল খননের কার্যক্রম শুরু করেছে, আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন বৃষ্টির সময় এই খালগুলো ভরাট হয়ে যাবে। বাঁধ রক্ষা ও খাল ভরাট রোধে বিন্না ঘাসই সাশ্রয়ী ও টেকসই বিকল্প হতে পারে বলে তাদের মত।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং পাহাড়ধস ঠেকানোর কাজেও বৈজ্ঞানিকভাবে এই ঘাস ব্যবহারের কথা বলছেন তারা।
উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এই ঘাসের শিকড় ও অন্যান্য অংশ দামি সুগন্ধি তৈরিসহ নানা কাজে ব্যবহার হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রিন্সিপাল এক্সপেরিমেন্টাল অফিসার মোহাম্মদ আব্দুর রহিম বলেন, "এই ঘাস দেখতে সাধারণ হলেও এর ক্ষমতা অসাধারণ।"
সূত্র: বিবিসি বাংলা





মন্তব্য
(০)