মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া ১২ টন ইউরিয়া সার, রসুন ও পেঁয়াজসহ একটি বোট আটক করেছে কোস্ট গার্ড। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে সেন্টমার্টিনের ছেঁড়া দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বে গভীর সমুদ্রে অভিযান চালিয়ে বোটটি আটক করা হয়; এ সময় এক রোহিঙ্গা নাগরিকসহ ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। শনিবার বিকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, রাত ১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড স্টেশন সেন্টমার্টিনের সদস্যরা বিশেষ অভিযানে নামেন। গভীর সমুদ্রে একটি সন্দেহজনক বোটের গতিবিধি নজরে এলে থামার সংকেত দেওয়া হয়; বোটটি সংকেত অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে সেটি আটক করা হয়।
বোটে তল্লাশি চালিয়ে ২৪০ বস্তায় ১২ হাজার কেজি ইউরিয়া সার, ১৯০ বস্তায় ৩ হাজার ৮০০ কেজি রসুন এবং ৯০ বস্তায় ৪ হাজার ৫০০ কেজি পেঁয়াজ পাওয়া যায়। কোস্ট গার্ডের হিসাবে জব্দ পণ্যের আনুমানিক মূল্য ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
কক্সবাজারের টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন উপকূল দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তপথে অবৈধ পণ্য পরিবহনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত; নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের বিস্তৃত জলসীমা ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্র পণ্য পাচারের চেষ্টা করে। স্থল ও নদীপথে নজরদারি বাড়ায় চোরাকারবারিরা সমুদ্রপথ বেছে নিচ্ছে কি না, তা-ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ইউরিয়াসহ কৃষি উপকরণ দেশের বাইরে পাচারের চেষ্টা হলে তা অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—বিশেষ করে এখন, যখন আমনের ভরা মৌসুমে দেশের কয়েকটি জেলায় কৃষকেরা ইউরিয়ার জন্য ডিলারের দোকানে লাইন দিচ্ছেন। তবে এ চালানের সঙ্গে কারা জড়িত এবং সার কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা তদন্তের পর স্পষ্ট হবে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, চোরাচালান প্রতিরোধে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও জোরদার করা হবে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে; জব্দ পণ্য ও বোট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াধীন। প্রতিবেদনটি বাংলা ট্রিবিউনের টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধির।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন



মন্তব্য
(০)