ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিকে ভূগর্ভস্থ পানিতে বিষাক্ত শিল্প দূষক হেক্সাভ্যালেন্ট ক্রোমিয়ামের দূষণের মধ্যে ১০০ জনের বেশি বাসিন্দার চর্মরোগ ও অ্যালার্জি ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে ডাউন টু আর্থ। নাসিক পৌর করপোরেশন (এনএমসি) ২৪৮ জনকে পরীক্ষা করে ১০৯ জনের শরীরে চর্মরোগ বা অ্যালার্জি পেয়েছে।
আম্বাদ শিল্প এলাকার দত্তনগরের বাসিন্দারা প্রায় এক মাস ধরে নলকূপ থেকে হলুদ পানি আসার অভিযোগ করছিলেন। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ড্যামস, রিভারস অ্যান্ড পিপল (এসএএনডিআরপি)-এর করানো স্বাধীন পরীক্ষাগার বিশ্লেষণে লিটারে ৫০.৩ মিলিগ্রাম হেক্সাভ্যালেন্ট ক্রোমিয়াম এবং ৫০.৫ মিলিগ্রাম মোট ক্রোমিয়াম পাওয়া গেছে। ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস খাবার পানিতে মোট ক্রোমিয়ামের সর্বোচ্চ সীমা ঠিক করেছে লিটারে ০.০৫ মিলিগ্রাম; অর্থাৎ পাওয়া মাত্রা সীমার ১,০০০ গুণের বেশি। ৮ অক্টোবর মহারাষ্ট্র দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (এমপিসিবি) বিশ্লেষণে নলকূপ ও কুয়ার দুটি নমুনায় লিটারে ৪৫ মিলিগ্রাম, অর্থাৎ সীমার প্রায় ৯০০ গুণ ক্রোমিয়াম মিলেছে।
এলাকার ১৭টি ইলেকট্রোপ্লেটিং কারখানা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে এমপিসিবি। কর্তৃপক্ষ আক্রান্ত এলাকার ১৭টি নলকূপের মধ্যে দৃশ্যমান হলুদ ও গন্ধহীন পানির আটটি বন্ধ করেছে, যদিও অন্যগুলোও দূষিত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। বাসিন্দাদের ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার নিষিদ্ধ করে ট্যাংকারে পানি দেওয়া হচ্ছে। দত্তনগরে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের বাস; প্রায় ৫০০ মিটার এলাকাজুড়ে তদন্ত চলছে।
আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা (আইএআরসি) হেক্সাভ্যালেন্ট ক্রোমিয়ামকে মানুষের জন্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করেছে; ঝুঁকি নির্ভর করে মাত্রা, সময়কাল ও সংস্পর্শের পথের ওপর। সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রশান্ত শেটে (Prashant Shete) জানান, বেসরকারি হাসপাতাল, এনএমসি হাসপাতাল ও নাসিক মেডিকেল কলেজের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বিনা মূল্যের শিবিরে বাসিন্দাদের পরীক্ষা করছেন। ১৭ অক্টোবরের শিবিরে পারদসহ অন্য দূষক খুঁজতে রক্ত ও প্রস্রাবের নমুনা নেওয়া হবে।
শেটে বলেন, এ পর্যন্ত পাওয়া রোগগুলো মৃদু ধরনের, আর যাঁরা সাময়িকভাবে এলাকা ছেড়ে ফিরে এসেছেন তাঁদের কেউ কেউ সেরে উঠেছেন। তাঁর ভাষায়, সমস্যাটা যে পানিতেই, তা স্পষ্ট। প্রতিবেদনটি করেছেন হিমাংশু নিতনাওয়ারে।
ছবি: Hi-Res Images of Chemical Elements / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)