ক্যানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, Ray Flickner (রে ফ্লিকনার) ও Ryan Flickner (রায়ান ফ্লিকনার) তাঁদের কাউন্টির গড় খামারের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ কম পানি ব্যবহার করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাসের মাউন্ডরিজে ভুট্টা, সয়াবিন ও গমের ১,০০০ একরের এই খামারে বাবা-ছেলে যেকোনো সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও সহযোগীদের সঙ্গে ডজনখানেকের বেশি গবেষণা-পরীক্ষা চালান, আর তার বেশির ভাগের কেন্দ্রে পানি। শুকনো ২০২৪ মৌসুমে প্রতি ইঞ্চি সেচের পানিতে তাঁরা পেয়েছেন প্রায় ২৬ বুশেল—সে বছরের স্থানীয় গড়ের চেয়ে প্রায় ১০ বুশেল বেশি।
ভিত গড়া হয় ২০০১ সালে, যখন পরিবারটি এলাকায় প্রথম Netafim (নেটাফিম)-এর ভূগর্ভস্থ ড্রিপ সেচ (এসডিআই) বসায়: মাটির ১৮ ইঞ্চি নিচে পোঁতা ড্রিপ টেপ পানি—আর ফসলের দরকারমতো ইনজেক্ট করা ইউএএন-এর মতো সার—সরাসরি শিকড় অঞ্চলে পৌঁছে দেয়। চাষের পাশাপাশি প্রায় ৩৫ বছর কৃষি-অর্থায়নে কাজ করা রে বলেন, "ব্যয়বহুল উদ্যোগ ছিল, কিন্তু শ্রম সাশ্রয় আর পানির দক্ষ ব্যবহারে তা উশুল হয়ে গেছে।" নিউম্যাটিক থেকে রেডিও নিয়ন্ত্রণে বদলানো ব্যবস্থাটি বাড়ি থেকেই জোন ও সময় ধরে চালানো হয়। তাঁর হিসাবে, তাঁদের কাউন্টিতেই এখন সম্ভবত ক্যানসাসের সবচেয়ে বেশি ভূগর্ভস্থ ড্রিপের জমি।
ড্রিপ তাঁদের চাষপদ্ধতিও বদলে দিয়েছে। প্রতি ৬০ ইঞ্চিতে টেপ আর ৩০ ইঞ্চি সারিতে ভুট্টা—তাই স্ট্রিপ-টিলের স্ট্রিপগুলো রাখা হয় টেপ থেকে ১৫ ইঞ্চি দূরে, যাতে প্রতিটি গাছ তার পানি থেকে সমান দূরত্বে থাকে। ২০০০-এর দশকের গোড়ায় এলাকায় প্রথম স্ট্রিপ-টিল শুরু করা কৃষকদের মধ্যেও ছিলেন ফ্লিকনাররা; ভুট্টার নাড়ায় নো-টিলে গম আর গমের নাড়ায় ডাবল-ক্রপ সয়াবিন বোনেন তাঁরা, মূলত অঙ্কুরোদ্গমের জন্য বসন্তের আর্দ্রতা ধরে রাখতে। রে বলেন, "আমাদের এমন প্রতিবেশী আছেন যাঁরা এখনো প্রচলিত চাষ করেন, আর ফসল গজানো নিয়ে তাঁদের সমস্যা হয়।"
এসডিআই-এর একটাই দুর্বলতা—বপনের সময় মাটি শুকনো থাকলে এটি ফসল গজাতে পারে না—তাই ড্রিপ সেচের ৬০০ একরে চাষচক্র গমের বদলে আবরণ ফসলের ওপর ভর করে: সেপ্টেম্বরের শেষে বোনা সেরিয়াল রাই ও শালগমের মিশ্রণের মধ্যে সয়াবিন লাগানো হয়, শুকনো বছরে বপনের প্রায় এক মাস আগে আবরণ ফসল শেষ করে দেওয়া হয়। "দুই বছরে আমরা তিনটি নগদ ফসল ফলাচ্ছি," রে বলেন। এ বছর খামারটি তার ৩৩ ইঞ্চি গড় বৃষ্টিপাতের চেয়ে ১৩ ইঞ্চি পিছিয়ে।
খামারের বাকি ৪০ শতাংশে দুজনে নতুন হাতিয়ার পরখ করেন। ২০১৯ সালে তাঁরা একটি পিভটে নেটাফিমের প্রিসিশন মোবাইল ড্রিপ ইরিগেশন বসান—নজল দিয়ে ছিটানোর বদলে ড্রিপ লাইনে পানি মাটিতে নামে। ক্যানসাসে প্রথম 360 RAIN (থ্রি-সিক্সটি রেইন) চালানো কৃষকও তাঁরা—তিন চাকার এই স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র গাছের গোড়ায় পানি ও পুষ্টি দেয়, সেন্টার পিভটের ৪০ শতাংশ পানিতে চলার জন্য নকশা করা, ৩,০০০ ফুট পাইপ বহন করে এবং কম ক্ষমতার কুয়ার জন্য উপযোগী। গাছের কাণ্ডে লাগানো Phytech (ফাইটেক) সেন্সর আর প্রতি চক্করে ৩০০ পর্যন্ত মাটির আর্দ্রতা মাপা এআই-চালিত Autonomous Pivot (অটোনোমাস পিভট) তাঁদের বলে দেয় কখন পানি দিতে হবে, কখন থামতে হবে।
"সেচ মহলে দীর্ঘদিন ধারণা ছিল, পানি বেশি দেওয়া যায় না," রে বলেন। "কিন্তু আমরা দেখলাম, সেচের পরিমাণ কমিয়েও ফলন ধরে রাখা যায় আর মুনাফা বাড়ানো যায়।" নিজেকে "এক ব্যাংকারের ছেলে" বলা রায়ান খামারের 'ওয়াটার ডিউটি'—উৎপাদিত বুশেলকে প্রয়োগ করা পানির ইঞ্চি দিয়ে ভাগ—হিসাব রাখেন, আর এখনই ভাবছেন, থ্রি-সিক্সটি রেইন দিয়ে ডেইরির লেগুনের গোবরপানি পাম্প করা বা চলতে চলতে আবরণ ফসলের বীজ বোনা যায় কি না।
সূত্র: Precision Farming Dealer


মন্তব্য
(০)