বাংলাদেশে খাবারের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করার বিধান রেখে বিধিমালা জারি করেছে সরকার। এই বিধিমালা অনুযায়ী সড়ক বা ফুটপাতের ওপর গড়ে ওঠা খাবারের দোকান ও ছোট রেস্টুরেন্ট থেকে শুরু করে খাদ্য আমদানিকারক ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান — সবাইকেই নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ থেকে নিবন্ধন ও লাইসেন্স নিতে হবে।
দেশে রাস্তাঘাটে হাজার হাজার অস্থায়ী বা ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান আছে এবং এর অনেকগুলো ফুটপাতেই চুলা বসিয়ে রান্না করে খাবার বিক্রি করে। চায়ের দোকান থেকে ভ্রাম্যমাণ ভ্যানে ফাস্ট ফুডের দোকান — এদের সঠিক কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সবশেষ হিসেবে দেশে খাদ্য পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠান প্রায় সাড়ে চার লাখ, যার মধ্যে হোটেল-রেস্তোরাঁ ও চা-স্টলও রয়েছে।
ঝুঁকির প্রমাণ গবেষণাতেই আছে। বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) ২০২৪ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় ঢাকায় বিক্রি হওয়া জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুডে উদ্বেগজনক মাত্রায় ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ছোলামুড়ি, চটপটি, আখের রস, শরবত, মিশ্র সালাদ ও স্যান্ডউইচের মতো খাবারে ডায়রিয়ার জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া মিলেছে উচ্চমাত্রায়। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫০টি স্থান থেকে সংগ্রহ করা ৪৫০টি নমুনার প্রতিটিতেই ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত হয়েছিল।
নতুন বিধিমালাকে ইতিবাচক বলছেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম। "খুবই ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ হয়েছে এটি। আমরা হয়তো একদিনেই সব পরিবর্তন করতে পারবো না। তবে পর্যায়ক্রমে স্ট্রিট ফুডের দোকানগুলোও লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে তদারকির আওতায় আসবে," বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তিনি।
তবে সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড অ্যান্ড রিসার্চ ল্যাবরেটরির প্রধান বিজ্ঞানী ড. লতিফুল বারী বলছেন, টং দোকান বলে পরিচিত এসব দোকানের উপকরণ থেকে শুরু করে রেসিপি — সব কিছু নিয়েই প্রশ্ন আছে। "বিধিমালাটি হওয়ায় এগুলো এখন একটা কাঠামোর ভেতর এলো। যদিও এগুলোর খাদ্য নিরাপদ কি না তা যাচাইয়ের সক্ষমতা সরকারের নেই," বলেন তিনি।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আপত্তিও এসেছে। বাংলাদেশ রেস্তোঁরা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাসান বলছেন, বিধিমালাটি একতরফাভাবে করা হয়েছে এবং এতে শুধু লাইসেন্স বাণিজ্য বাড়বে। "এখানে অথরিটির ক্ষমতা বেড়েছে। কিন্তু বাস্তবায়ন কীভাবে হবে তার কোনো নির্দেশনা নেই," বলেন তিনি।
কৃষি ও খাদ্য শৃঙ্খলের দিক থেকে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ খামার থেকে পাত পর্যন্ত নিরাপত্তার শেষ ধাপটিই এই দোকানগুলো। ইমরান হাসানের ভাষায়, "ফুড সেফটি একটি বিশাল চেইন। কোন ধাপে কীভাবে নিশ্চিত হবে তার কোনো ভিশনও এতে নেই।"
সূত্র: বিবিসি বাংলা





মন্তব্য
(০)