বাংলাদেশে উৎপাদিত সফট শেল বা নরম খোলসের কাঁকড়ার চাহিদা আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমশ বাড়ছে বলে জানাচ্ছেন চাষি ও কৃষি কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া ছাড়াও ইউরোপের অনেক দেশে রপ্তানি বাড়ছে, আর এর প্রধান যোগানদাতা সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলা।
রপ্তানির অঙ্ক দ্রুত বাড়ছে। সরকারি হিসেবে বৃহত্তর খুলনা অঞ্চল থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬৪৪ মেট্রিক টন নরম খোলসের কাঁকড়া রপ্তানি হয়েছিল, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,১৬৬ মেট্রিক টনে। সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জি এম সেলিম বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, গত অর্থবছরে তার জেলা থেকেই প্রায় সাড়ে সাতশ মেট্রিক টন রপ্তানি হয়েছে।
দেশের ভেতরেও বাজার তৈরি হচ্ছে। "সাধারণত কাঁকড়ার চেয়ে খোলস নরম হওয়ায় এটি খেতে সুবিধা। সে কারণে দেশের মধ্যেও এর বাজার বড় হচ্ছে," বলছিলেন জি এম সেলিম।
চাষিদের আগ্রহের কারণ ব্যবসায়িক। কাঁকড়া চাষি ও সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদা ছাড়াও রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম এবং মুনাফা দ্রুত আসার সুযোগ থাকায় অনেকে এখন চিংড়ির ঘেরের লোনা পানিতেই নরম খোলসের কাঁকড়া চাষ শুরু করছেন।
বাংলাদেশে কাঁকড়া চাষ হয় দুইভাবে। একটি ফ্যাটেনিং বা মোটাতাজাকরণ — ছোট কাঁকড়া সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট নিয়মে প্রতিপালনের পর ওজন বাড়লে বিক্রি। অন্যটি নরম খোলসের কাঁকড়া — বাক্সে খোলস পাল্টানোর পর যখন খোলস খুব নরম থাকে তখনই সংগ্রহ করে রপ্তানির জন্য প্রক্রিয়াজাত করা।
পদ্ধতিটি শ্রমনিবিড়। সুন্দরবনের নদী-খাল থেকে ছোট বা মাঝারি আকারের কাঁকড়া সংগ্রহের পর প্রতিটিকে অগভীর লোনা পানিতে ভাসমান ছোট প্লাস্টিকের বাক্স বা খাঁচায় আলাদাভাবে রাখা হয় এবং ছোট মাছ বা শামুক খেতে দেওয়া হয়। খোলস বদলানো শুরু হলে নতুন খোলস শক্ত হওয়ার আগেই কাঁকড়া তুলে পরিষ্কার বা ঠান্ডা পানিতে রেখে গ্রেডিং ও হিমায়িত করে রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা হয়।
উৎপাদনের হিসাব কৃষি তথ্য সার্ভিসের ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে: "নরম খোলসের কাঁকড়া চাষে প্রতি তিন ঘণ্টা পর পর দিনে রাতে পর্যবেক্ষণ করে নরম এবং মৃত কাঁকড়াগুলোকে দ্রুত তুলে ফেলতে হবে। প্রতি দুই মাসে প্রতি একর পুকুর থেকে ২৫০০-২৬০০ কেজি নরম খোলসের কাঁকড়া উৎপাদন করা সম্ভব।" খামারি ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশাল উপকূলীয় এলাকায় উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই চাষ বহুগুণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা





মন্তব্য
(০)