কৃষি-খাদ্যব্যবস্থার রূপান্তরের কেন্দ্রে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) রাখতে হবে—তবে শর্ত একটাই, উদ্ভাবন যেন বিদ্যমান বৈষম্য বাড়ানোর বদলে কমায়। হাংঝুতে ১১তম এপেক খাদ্য নিরাপত্তা মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এ কথা বলেছেন এফএওর মহাপরিচালক কু ডংইউ।
প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও ডিজিটাল কৃষি নিয়ে এক অধিবেশনে তিনি বলেন, “বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও এআই যেন ত্রিমুখী বৈষম্য—ডিজিটাল বৈষম্য, গ্রামীণ বৈষম্য ও লিঙ্গবৈষম্য—না বাড়ায়; বরং তা কমাতে সাহায্য করে।”
অঞ্চলটির অগ্রগতির চিত্র মিশ্র। ২০২৫ সালে এশিয়ায় অপুষ্টির হার ২০১৫ সালের তুলনায় ২৫ শতাংশ কম ছিল; তবু এশিয়ায় প্রায় ২৯ কোটি ২০ লাখ মানুষ এখনো ক্ষুধার মুখে এবং জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে পারে না। মহাপরিচালক বলেন, “খাদ্য নিরাপত্তা মানে শুধু যথেষ্ট খাবার উৎপাদন নয়—সঠিক খাবার উৎপাদন করা, তা সবার নাগালে ও সাধ্যের মধ্যে রাখা, এবং কাজটি টেকসইভাবে করা।”
প্রযুক্তির জন্য তিনি একটি সহজ মাপকাঠি দেন। তাঁর যুক্তি, ডিজিটাল কৃষির প্রকৃত সাফল্য অ্যালগরিদম কতটা জটিল তা দিয়ে মাপা যায় না; মাপা যায় উদ্ভাবন মানুষের জন্য কী করল তা দিয়ে—কৃষক কম সম্পদে বেশি উৎপাদন করতে পারছেন কি না, পরিবার সাধ্যের দামে স্বাস্থ্যকর খাবার পাচ্ছে কি না, গ্রামীণ জনগোষ্ঠী জলবায়ুর ধাক্কা সামলাতে পারছে কি না, এবং প্রাকৃতিক সম্পদ নিঃশেষ না করে কৃষি এগোতে পারছে কি না।
এআই প্রসঙ্গে কু বলেন, এটিকে ‘ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার’ হিসেবে ব্যবহার করতে হবে, যা বিপুল তথ্যকে কাজে লাগার সিদ্ধান্তে রূপ দেয়—আবহাওয়ার পূর্বাভাস, পোকা ও রোগের আগাম সতর্কবার্তা, সেচ ও উপকরণের সর্বোত্তম ব্যবহার, সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো এবং চাহিদা-জোগানের মিল ঘটানো। তাঁর সতর্কবার্তাটি স্মরণীয়: “আমরা এআই কাজে লাগাতে পারি, কিন্তু এআই খেতে পারি না।”
‘স্মার্ট’ কৃষির নিজস্ব ব্যাখ্যাও দেন তিনি—এস মানে বিজ্ঞাননির্ভর, এম মানে মেশিন লার্নিং, এ মানে এআই, আর মানে সহনশীলতা এবং টি মানে কৃষি-খাদ্যব্যবস্থার রূপান্তর। ডিজিটাল প্রযুক্তির পাশাপাশি জৈবপ্রযুক্তি, নিখুঁত কৃষি ও স্মার্ট যন্ত্রপাতির কথাও বলেন তিনি, এবং জোর দেন—এসবের সুফল গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে উন্নত জীবিকা, পুষ্টি ও সহনশীলতা হিসেবেই পৌঁছাতে হবে।
প্রযুক্তির বাইরে মহাপরিচালক আহ্বান জানান উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনা, স্থানীয় খাদ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করা, খাদ্য নিরাপত্তা-মান উন্নত করা এবং পুষ্টিকর ও সাশ্রয়ী খাবারের সুযোগ বাড়ানোর; সেই সঙ্গে অবকাঠামো, ডিজিটাল সংযোগ, শক্তিশালী মূল্যশৃঙ্খল এবং নারী ও তরুণদের জন্য বাড়তি সুযোগের মাধ্যমে গ্রামীণ পুনরুজ্জীবনের। উদ্ভাবনকে আঞ্চলিক জনপণ্য হিসেবে দেখার কথাও বলেন তিনি, যাতে অর্থনীতিগুলো তথ্য, জ্ঞান, প্রযুক্তি, মান ও উত্তম চর্চা ভাগ করে নিয়ে সমাধানগুলো দ্রুত বড় পরিসরে নিতে পারে।
এই বক্তব্যের আগের দিনই খাদ্য নিরাপত্তা, টেকসই কৃষি উন্নয়ন, ডিজিটাল কৃষি এবং দক্ষিণ-দক্ষিণ ও ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে হুনান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে এফএও।
সূত্র: এফএও নিউজরুম





মন্তব্য
(০)