সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৮৯%বাতাস কিমি/ঘ

শখের বাগানি রকিবুল পাচ্ছেন জাতীয় পরিবেশ পুরস্কার

শহরের ছাদ, বারান্দা, অফিস কিংবা ঘরের কোণে কোণে বাগান গড়ে তোলাই তার শখ। ইট-কংক্রিটের নগরে এক চিলতে সবুজ ফিরিয়ে আনতে গত এক দশক ধরে নিরলস কাজ করে চলেছেন তিনি। সেই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের 'বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫' এ বৃক্ষ গবেষণা, সংরক্ষণ ও উদ্ভাবন শাখায় জাত

পরিবেশ

শহরের ছাদ, বারান্দা, অফিস কিংবা ঘরের কোণে কোণে বাগান গড়ে তোলাই তার শখ। ইট-কংক্রিটের নগরে এক চিলতে সবুজ ফিরিয়ে আনতে গত এক দশক ধরে নিরলস কাজ করে চলেছেন তিনি। সেই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের 'বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫' এ বৃক্ষ গবেষণা, সংরক্ষণ ও উদ্ভাবন শাখায় জাতীয় পরিবেশ পুরস্কার পাচ্ছেন 'গার্ডেনিং বাংলাদেশ' এর স্বত্বাধিকারী মো. রকিবুল আমিন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

কুষ্টিয়ায় বেড়ে ওঠা রকিবুলের প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার শুরু শৈশবেই। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় নিজের বাড়ির আঙিনায় গড়ে তুলেছিলেন গোলাপসহ বিভিন্ন ফুলের বাগান। সেই বাগান দেখতে আশপাশের মানুষও আসতেন। কিন্তু প্রকৃতির সঙ্গে তার সম্পর্ক নতুন মাত্রা পায় ২০০১ সালে ঢাকায় এসে। ঢাকা কলেজে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর তিনি উপলব্ধি করেন, শহরে গাছের চেয়ে কংক্রিটের উপস্থিতিই বেশি।

সেই উপলব্ধিই তাকে ভাবতে শেখায়- নগরে প্রকৃতিকে ফিরিয়ে আনা যায়, তাহলে শহরও কিছুটা প্রাণ ফিরে পাবে। এরপর ধীরে ধীরে ফুলের সাজসজ্জা, ল্যান্ডস্কেপ ডিজাইন, টেরারিয়াম, পেলুডারিয়াম ও ইনডোর গার্ডেনিংকে কেন্দ্র করে নতুন ধরনের উদ্যোগ নেন তিনি।

রাকিবুল ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন 'গার্ডেনিং বাংলাদেশ' নামে একটি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক, রিসোর্ট, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, পোশাক কারখানা, আবাসন প্রকল্প, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ইকোপার্ক, লেক এবং ব্যক্তিগত বাড়িতে সবুজায়নের কাজ করছে। এখন পর্যন্ত শতাধিক ছোট- বড় ল্যান্ডস্কেপ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে গার্ডেনিং বাংলাদেশ।

রকিবুল আমিন এখন 'জিরো সয়েল' ধারণা নিয়ে কাজ করছেন। তার মতে, কোনো খোলা মাটি অনাবৃত রাখা উচিত নয়। ঘাস, লতা কিংবা অন্য কোনো উদ্ভিদ দিয়ে প্রতিটি ফাঁকা জায়গা ঢেকে দেওয়া সম্ভব। এতে যেমন নগর সবুজ হবে, তেমনি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা যাবে।

রকিবুল এখন 'গার্ডেন মিশন' বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছেন। তার লক্ষ্য, সারা দেশে নগর সবুজায়নকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করা। একই সঙ্গে তিনি পলিথিনের আগ্রাসন কমাতে এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন জনপ্রিয় করতে কাজ করতে চান।

রকিবুল আমিন বলেন, আমি চাই মানুষ প্রতিদিন অন্তত একবার গাছের কাছে যাক। একটি গাছ শুধু অক্সিজেন দেয় না, মানুষের মনও ভালো রাখে। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ বাংলাদেশ রেখে যেতে পারলেই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হবে।

দীর্ঘদিনের সেই সবুজ অভিযাত্রার স্বীকৃতি হিসেবেই এবার যুক্ত হলো জাতীয় পরিবেশ পদক। রকিবুলের বলেন, এই পুরস্কার আরও বড় দায়িত্ব নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।

প্রসঙ্গত, এবার বৃক্ষরোপণে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় পুরস্কারের জন্য ৭ শ্রেণিতে মোট ২১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করেছে সরকার। গত ১৫ জুন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বন-২ শাখার প্রজ্ঞাপনে পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, 'ক' শ্রেণিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রথম হয়েছে নাটোরের টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট। দ্বিতীয় হয়েছে নাটোরের কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্টের বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (বাউয়েট) এবং তৃতীয় খুলনার ডুমুরিয়া কলেজ।

'খ' শ্রেণিতে ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদ, ক্লাব ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রথম চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর কোরিয়ান ইপিজেড এবং দ্বিতীয় খাগড়াছড়ির বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সেক্টর সদর দপ্তর।

ব্যক্তিগত পর্যায়ে বৃক্ষরোপণের 'গ' শ্রেণিতে প্রথম চাঁপাইনবাবগঞ্জের মো. শফিকুল ইসলাম, দ্বিতীয় নড়াইলের মো. জাহাঙ্গীর কবির এবং যৌথভাবে তৃতীয় হয়েছেন ঢাকার মো. শাহাবাজ হোসেন খান ও সুনামগঞ্জের মোছা. ইসমাতুনেছা।

ব্যক্তিমালিকানাধীন নার্সারির 'ঘ' শ্রেণিতে প্রথম স্থান পেয়েছে ঢাকার সাভারের ফয়সাল নার্সারি, দ্বিতীয় হয়েছে বগুড়ার সাথী ফ্লাওয়ার অ্যান্ড নার্সারি এবং তৃতীয় হয়েছে সাভারের ডিপ্লোমা কৃষিবিদ নার্সারি।

ছাদবাগানের 'ঙ' শ্রেণিতে প্রথম হয়েছেন রাজশাহীর শারমিন আক্তার, দ্বিতীয় হয়েছেন ঢাকার আসফিয়া সাবিনা এবং তৃতীয় হয়েছেন শেরপুর পৌরসভার প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা।

বন বিভাগ কর্তৃক সৃজিত বাগানের 'চ' শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেছে পটুয়াখালীর উপকূলীয় বন বিভাগ, দ্বিতীয় হয়েছে যশোরের সামাজিক বন বিভাগ এবং তৃতীয় হয়েছে ময়মনসিংহ বন বিভাগ।

বৃক্ষ সম্পর্কিত গবেষণা, সংরক্ষণ ও উদ্ভাবনের বিশেষ 'ছ' শ্রেণিতে প্রথম হয়েছেন খাগড়াছড়ির পিটাছড়া বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ উদ্যোগের স্বত্বাধিকারী মাহফুজ আহমেদ রাসেল। এই বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছেন ঢাকার মো. রকিবুল আমিন এবং তৃতীয় হয়েছেন কুমিল্লার অধ্যাপক মোহাম্মদ এনামুল হক খান।

এনএইচ/এমএএইচ/

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় যে ১০ সাপ, যেগুলো বিষধর

সাপ মানেই সেটি বিষধর- এমন ধারণা আমাদের অনেকের মধ্যে রয়েছে। বাড়ির উঠান, ঝোপঝাড়, কৃষিজমি কিংবা জলাশয়ের পাশে সাপের দেখা গেলে আতঙ্কিত হয় আমরা। অনেকে সাপটি চেনার আগেই সেটিকে মেরে ফেলে। অথচ বাংলাদেশে নিয়মিত দেখা যায় এমন সাপের একটি বড় অংশই বিষধর নয়।

জাগো নিউজ ২৪১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬৮ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সঙ্গী হারালে একাকী জীবন, বংশবৃদ্ধি থমকে হারিয়ে যাচ্ছে শকুন

একসময় ভাগাড়ে তাকালেই দেখা মিলতো শকুনের। মৃত প্রাণী খেয়ে জীবন ধারণ করে বলে ‌'প্রকৃতির ঝাড়ুদার' বলা হয় এই প্রাণীকে। তবে দিন দিন কমছে শকুনের সংখ্যা। বলতে গেলে বিলুপ্তির পথে প্রাণীটি।

জাগো নিউজ ২৪১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬৫ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()