সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৫°বৃষ্টির সম্ভাবনাআর্দ্রতা ৯৬%বাতাস কিমি/ঘবৃষ্টি ০.৩ মিমি

শহরের পরিবেশ রক্ষায় ছাদবাগানের গুরুত্ব

একটা সময় গ্রামের মতো শহরেও দেখা মিলত বিভিন্ন ধরনের গাছপালা। ছায়াঘেরা পথ, পাখির ডাক, আর চারপাশে সবুজের আধিপত্য। তবে বর্তমানে দিন দিন গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, উন্নয়নের নামে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে কাটা হচ্ছে গাছ। এতে আজ শহর ক্লান্ত ধোঁয়ায় ভারী বাতাস, চারদিকে ইট-পাথরের দেয়াল, আর প্রতিদিনের দমবন্ধ করা যান্ত্

ছাদকৃষি

একটা সময় গ্রামের মতো শহরেও দেখা মিলত বিভিন্ন ধরনের গাছপালা। ছায়াঘেরা পথ, পাখির ডাক, আর চারপাশে সবুজের আধিপত্য। তবে বর্তমানে দিন দিন গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, উন্নয়নের নামে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে কাটা হচ্ছে গাছ। এতে আজ শহর ক্লান্ত ধোঁয়ায় ভারী বাতাস, চারদিকে ইট-পাথরের দেয়াল, আর প্রতিদিনের দমবন্ধ করা যান্ত্রিকতা। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

প্রকৃতি যেন শহর ছেড়ে দূরে কোথাও হারিয়ে গেছে। তবে সেই প্রকৃতিকে ফিরিয়ে আনার আশাটুকু এখনো বেঁচে আছে, আমরা চাইলেই বাড়ির ছাদবাগানের মাধ্যমেই এই শহরকে সবুজ করতে পারি। ছাদবাগান আজ শুধু শখ নয়, এটি শহরকে বাঁচিয়ে রাখার এক নীরব বিপ্লব।

যখন আমরা শহরের একঘেয়েমি, তাপ, দূষণ আর কৃত্রিম জীবনের ক্লান্তিতে হাপিয়ে উঠি, তখন ছাদবাগান হয়ে ওঠে বাঁচার অক্সিজেন। একটি ছোট্ট টবের মাটি থেকে গজিয়ে ওঠা গাছ মানে শুধু পাতা নয়- ওখানে ফুটে ওঠে একটা শ্বাস নেওয়ার অধিকার, একটা জীবন্ত পৃথিবীর আশা।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আজকের এই ফিচারের মাধ্যমে আমরা জানবো শহরের পরিবেশ রক্ষায় ছাদ বাগানের গুরুত্ব এবং কীভাবে এই ছোট উদ্যোগ আমাদের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে-

শহরের ফুসফুস হয়ে ওঠেআমরা এমন এক শহরে চলাফেরা করি, যেখানে গাড়ির ধোঁয়া, কারখানার বিষাক্ত গ্যাস আর ধুলার প্রাচুর্যে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। গাছ এই দূষণ শোষণ করে ও বাতাসকে পরিশুদ্ধ করে। শহরের প্রতিটি ছাদ যদি হয়ে ওঠে একটি সবুজ বাগান, তাহলে এই ছোট ছোট ফুসফুসগুলো মিলে একটা বড় প্রশ্বাস তৈরি করতে পারে। ছাদবাগান মানেই শহরের বুকে নির্মল বাতাসের জন্ম দেওয়া।

গরম কমায়, শান্তি বাড়ায়শহরের কংক্রিট ছাদগুলো রোদের তাপে উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এতে ঘরের তাপমাত্রাও অনেক বেড়ে যায়। যার ফলে বাড়ে বিদ্যুৎ বিল, কমে আরাম। ছাদবাগান ছাদকে সোজাসুজি সূর্যের আলো থেকে রক্ষা করে, ফলে ঘর অনেকটাই ঠান্ডা থাকে। এটি পরিবেশবান্ধব এক প্রাকৃতিক এসির মতো কাজ করে-নির্বিঘ্নে, খরচ ছাড়াই।

মানসিক প্রশান্তির ঘরবর্তমানে আমাদের জীবনে সবচেয়ে বড় অভাব হলো মানসিক প্রশান্তি। কাজের চাপ, যান্ত্রিকতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা- সব মিলিয়ে আমরা ক্লান্ত। ছাদবাগান সেই ক্লান্তির মাঝে স্বস্তির ছায়া দেয়। গাছের সঙ্গে সময় কাটানো, নিজ হাতে মাটি খুঁড়ে বীজ বোনা, কুঁড়ি ফোটা দেখা- এসব যেন এক ধরনের থেরাপি। মন ভালো রাখতে ছাদ বাগানের বিকল্প আর কিছু নেই।

নিরাপদ খাদ্যের উৎসআজকাল বাজার থেকে কেনা শাকসবজিতে ভরসা রাখা কঠিন। কোথায় কী কী কীটনাশক বা কেমিক্যাল ব্যবহৃত হয়েছে, তার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। বাজারে ওঠা প্রতিটা ফলমূল ফরমালিনের সাহায্যে পাকানো, তাই সেটাও খাইতে ভয় করে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর। কিন্তু ছাদবাগানে আপনি নিজেই চাষ করছেন, জানেন কী দিচ্ছেন গাছে। ফলে এটি হয় স্বাস্থ্যকর ও বিষমুক্ত। পরিবারের জন্য এটি একটি নিরাপদ খাদ্যসূত্র হয়ে ওঠে।

শহরের সৌন্দর্য বাড়ায়ছাদবাগান শুধু পরিবেশ রক্ষা করে না, সে শহরের রূপকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত। ছাদের উপর সাজানো ফুলের টব, ফলমূল বা লাউয়ের লতা, মৌমাছির গুনগুন, প্রজাপতির ডানা সব মিলে এক অপূর্ব নান্দনিকতা সৃষ্টি করে। বহুতল ভবনের উপরে দাঁড়িয়ে কেউ যখন দেখে, একটির পর একটি ছাদে রঙিন ফুল আর সবজির সারি, তখন সে শহরকে নতুন চোখে দেখে একটু ভালোবাসার চোখে, একটু আশার চোখে।

বৃষ্টির পানি ধরে রাখেবৃষ্টির সময় শহরে জলাবদ্ধতা একটি বড় সমস্যা। ছাদবাগান বৃষ্টির পানি শোষণ করে রাখতে সাহায্য করে এবং তা ধীরে ধীরে নিষ্কাশনে যায়। এতে করে ড্রেনেজে চাপ কমে ও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নত হয়। এভাবে ছাদবাগান শুধু সৌন্দর্যই নয়, বরং অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের একটি ছোট কিন্তু কার্যকর উপায়।

পারিবারিক বন্ধন গড়ে তোলেএকটি গাছের যত্ন নেওয়া মানে একটি সম্পর্ক তৈরি করা। যখন মা-বাবা, সন্তান সবাই মিলে গাছ লাগায়, পানি দেয়, ফল দেখে আনন্দ পায়-তখন পারিবারিক সম্পর্ক আরও গভীর হয়। মোবাইলের স্ক্রিন ছেড়ে বাস্তব জীবনে এসে একসঙ্গে কিছু করার অনুভূতি পরিবারে ভালোবাসা ও সংযোগ বাড়ায়।

শিশুদের শেখার ক্ষেত্রশিশুরা এখন প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন। তারা জানে না গাছ কেমন করে বড় হয়, কোন পাতায় কী গন্ধ, কীভাবে ফুল ফল হয়। ছাদবাগান তাদের শেখার বাস্তব ক্লাসরুম হতে পারে। এখানে তারা শিখবে ধৈর্য, যত্ন, দায়িত্ববোধ। প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা গড়ে উঠবে সেই ছোট্ট বাগান থেকেই।

পরিবেশ সচেতন নাগরিক গড়ে তোলেছাদবাগান করার মধ্য দিয়ে একজন মানুষ পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে। তিনি গাছের প্রতি যত্নবান হন, কম বর্জ্য তৈরি করতে চেষ্টা করেন, প্রাকৃতিক জীবনের গুরুত্ব বুঝতে শেখেন। এই ছোট উদ্যোগ একজনকে রূপ দেয় এক পরিবেশবান্ধব নাগরিকে, যিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

ছাদকৃষি

সম্পর্কিত খবর

ছাদকৃষি

বাড়ছে ছাদকৃষির পরিধি, মানসম্মত কৃষি উপকরণ নিয়ে চ্যালেঞ্জ

দেশে কৃষির বৈচিত্রে‍্যর পাশাপাশি বাড়ছে ছাদকৃষির পরিধিও। এতে বাড়ছে বীজ, চারা ও নানা কৃষি উপকরণের চাহিদা। সেই চাহিদা পূরণে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্র। তবে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ মানসম্মত উপকরণ নিশ্চিত করা।

শাইখ সিরাজ১৯ আগস্ট ২০২৬১ মিনিটের ভিডিও
ছাদকৃষি

শহরের সীমিত জায়গাতেও পরিকল্পিত চাষাবাদ

শহরের সীমিত জায়গাতেও পরিকল্পিত চাষাবাদে সম্ভব নিরাপদ ও টাটকা সবজির জোগান| মিরপুরের শাহিন সুলতানা মিনি তার ছাদকে পরিণত করেছেন এমনই এক সবুজ ছাদকৃষিতে|

শাইখ সিরাজ৩০ জুলাই ২০২৬১ মিনিটের ভিডিও
ছাদকৃষি

বৃক্ষমেলায় ছাদকৃষি উপযোগী চারা ও সরঞ্জাম বিক্রি বেড়েছে

ছাদকৃষির প্রসার ও ভিনদেশি নানা প্রজাতির ফলের চারায় জমে উঠেছে এবারের জাতীয় বৃক্ষমেলা| তবে চড়া দামে কেনা চারার মান নিয়ে রয়েছে ক্রেতাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া| তারা বলছেন, নার্সারিগুলো চারা উৎপাদনে মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন|

শাইখ সিরাজ২৫ জুলাই ২০২৬১ মিনিটের ভিডিও

মন্তব্য

()