গত ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়েছে তৃতীয় ক্ষুদ্র মৎস্য সম্মেলন। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ কোটি মানুষ যে খাতের ওপর নির্ভরশীল, তার অগ্রাধিকার ঠিক করতে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন মৎস্যজীবী, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও গবেষকেরা।
শেষ দিনের মন্ত্রী পর্যায়ের অধিবেশনে এফএওর মহাপরিচালক কু ডংইউ জানান, বিশ্বের মোট মাছ আহরণের অন্তত ৪০ শতাংশ আসে ক্ষুদ্র মৎস্য খাত থেকে, আর আহরণ-মৎস্যের মূল্যশৃঙ্খলে বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মসংস্থানও এখানেই।
তিনি বলেন, “বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা, জীবিকা, দারিদ্র্য বিমোচন ও টেকসই উন্নয়নের জন্য ক্ষুদ্র মৎস্য খাত অপরিহার্য। সামুদ্রিক ও অভ্যন্তরীণ—দুই ধরনের ক্ষুদ্র মৎস্যই বহু পরিবার ও গোটা সমাজকে পুষ্টিকর খাবার জোগায়, যা প্রায়ই তাদের পরিচয়, স্থানীয় ঐতিহ্য ও জীবনধারার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে।”
ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, কেপ ভার্দে ও মাদাগাস্কারের মন্ত্রীদের উদ্দেশে কু বলেন, ২০১৪ সালে গৃহীত ‘টেকসই ক্ষুদ্র মৎস্য নিশ্চিত করার স্বেচ্ছামূলক নির্দেশিকা’ এখনো প্রধান হাতিয়ার। তাঁর ভাষায়, এর কার্যকর বাস্তবায়ন “সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে টেকসই সম্পদ ব্যবস্থাপনাকে যুক্ত করে, যাতে খাতটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায্য এবং পরিবেশগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে টেকসই হয়।”
সম্মেলনে নির্দেশিকা আরও এগিয়ে নেওয়া এবং জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা হয়। ভূমধ্যসাগর ও কৃষ্ণসাগরের দেশগুলো—যেখানে টেকসইতার চাপ সবচেয়ে বেশি—একটি আঞ্চলিক কর্মপরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে, আর সাতটি দেশ অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় জাতীয় কর্মপরিকল্পনা চালু করেছে।
তবু কাজ বাকি অনেক। উপকূলীয় মৎস্যজীবী জনগোষ্ঠীকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে পরিবেশের অবনতি, মাছ ধরার ধরন বদল, প্রজননক্ষেত্র নষ্ট হওয়া, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, জীববৈচিত্র্য হ্রাস, দূষণ ও জলবায়ুর পরিবর্তন—এবং একই পানি ও উপকূল নিয়ে অন্য অর্থনৈতিক খাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতা।
সম্মেলনটি আয়োজন করে এফএও, খাদ্য সার্বভৌমত্বের আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা কমিটির মৎস্য কর্মদল, সুইডবায়ো এবং ইন্টারন্যাশনাল কালেকটিভ ইন সাপোর্ট অব ফিশওয়ার্কার্স। অর্থায়ন করেছে সুইডেন, নরওয়ে, জার্মানি ও এফএও (ইএএফ নানসেন কর্মসূচিসহ), ইউরোপীয় ইউনিয়নের ফিশ৪এসিপি কর্মসূচি এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক সিনক্রোনিসিটি আর্থ, টার্নিং টাইডস ও ব্লু ভেঞ্চার্স।
মৎস্য কমিটির ৩৭তম অধিবেশনের ঠিক আগে সম্মেলনটি রাখা হয়েছিল ইচ্ছাকৃতভাবে, যাতে ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীদের বক্তব্য এফএওর পরিচালনা পর্ষদের সামনে পৌঁছায়। এমন আলোচনায় ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীদের কণ্ঠ সাধারণত কম শোনা যায়, অথচ তাঁরাই নিজেদের বাস্তুতন্ত্রের রক্ষক এবং তাঁদের প্রথাগত জ্ঞান সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: এফএও নিউজরুম





মন্তব্য
(০)