সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৮৯%বাতাস কিমি/ঘ

রক্তাক্ত জলপ্রপাত ও পাহাড়ি ‘রক্ত ফল’ নিয়ে হঠাৎ আলোচনার ঝড়

চারিদিক বরফে আচ্ছাদিত। তার মাঝে ঝরে পড়ছে লাল রক্ত। গাঢ় লাল রঙের সেই রক্ত যেন বরফাবৃত পাহাড়ের বুক চিরে বের হচ্ছে। নাম ব্লাড ফলস। অর্থ রক্তের ঝরনা। অ্যান্টার্কটিকার সাদা বরফের মাঝে অবস্থিত এই রক্তের ঝরনা! হঠাৎ করে দেখে যে কেউ ভয় পেতে পারে। বিশাল বরফে মোড়ানো পাহাড় থেকে ঝরনা দিয়ে পানির বদলে পড়ছে লাল রক্

ফল

চারিদিক বরফে আচ্ছাদিত। তার মাঝে ঝরে পড়ছে লাল রক্ত। গাঢ় লাল রঙের সেই রক্ত যেন বরফাবৃত পাহাড়ের বুক চিরে বের হচ্ছে। নাম ব্লাড ফলস। অর্থ রক্তের ঝরনা। অ্যান্টার্কটিকার সাদা বরফের মাঝে অবস্থিত এই রক্তের ঝরনা! হঠাৎ করে দেখে যে কেউ ভয় পেতে পারে। বিশাল বরফে মোড়ানো পাহাড় থেকে ঝরনা দিয়ে পানির বদলে পড়ছে লাল রক্ত।

অবাক করা বিষয় হলো হিমাঙ্কের নিচে যেখানে সবকিছু জমে যাওয়ার কথা সেখানে লাল রক্তের মতো পানির ধারা প্রবহমান! যুগ যুগ ধরে এখানে উপস্থিত টেলর হিমবাহ থেকে রক্তের ঝরনা বয়ে চলেছে। পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার ভিক্টোরিয়া ল্যান্ডে অবস্থিত এই উপত্যকা প্রথম সামনে আসে ১৯১১ সালে। ১৯১১ সালে অস্ট্রেলিয়ান ভূতাত্ত্বিক গ্রিফিথ টেলর প্রথম খুঁজে পেয়েছিলেন এই রক্ত ঝরনাটি। এটি মূলত আয়রন অক্সাইড মিশ্রিত লবণাক্ত পানির উপত্যকা যা পূর্ব অ্যান্টার্কটিকার টমাস গ্লেসিয়া থেকে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রিটিশ অভিযাত্রী টমাস এবং তার সহকর্মীরা এই লাল রংটিকে শৈবাল হিসাবে বিবেচনা করেছিলেন। কিন্তু পরে জানা যায় সেখানে এমন কোনো লাল শৈবাল ছিল না। বরং প্রচুর পরিমাণে লোহা জমেই এই গাঢ় লাল রং তৈরি হয়েছে।

গবেষণা মতে এই লাল রঙের পানির উৎস মূলত অতিরিক্ত লবণ আর খনিজ লোহার মিশ্রণ যা বাতাসের সঙ্গে বিক্রিয়া করে লাল রং ধারণ করে। লোহায় মরিচা ধরলে যেমন লাল রং হয়ে যায়, ঠিক একইভাবে এই পানি লাল রং ধারণ করে। আয়রনযুক্ত লোনা পানি যখন বাতাসের সঙ্গে মিশে তখন বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে আয়রন বিক্রিয়া করে পানির রং লাল হয়ে যায়। জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির পদার্থবিজ্ঞানী কেন লেভি বলেছেন, 'আমি মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে গবেষণা করে দেখেছি, এতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লোহার টুকরো রয়েছে। এমনকি এতে লোহা ছাড়াও বিভিন্ন উপাদান রয়েছে। এছাড়াও হিমবাহের নিচে রয়েছে ফেরিক হাইড্রোক্সাইড। তাদের সঙ্গে বসবাস করে অণুজীব। সেই সব কিছু বিক্রিয়ার কারণেই কারণে লাল রঙের ফোয়ারা তৈরি হয়েছে।'

বিজ্ঞানীদের মতে লাল রঙের মাধ্যমে বোঝা যায় যে এই হিমবাহের নিচে জীবনের বিকাশ ঘটছে। এই হিমবাহের পানি লবণাক্ত, যা একটি অতি প্রাচীন বাস্তুতন্ত্রের অংশ বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এমন প্রতিকূল পরিবেশ যেখানে অক্সিজেন প্রায় নেই, সূর্যের আলো পৌঁছায় না, বরফে ঢাকা থাকায় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের অনেক নিচে থাকে সবসময়, সেখানেও রয়েছে প্রাণের সন্ধান। জায়গাটি বিরল সাবগ্লাসিয়াল ইকোসিস্টেমের ব্যাকটেরিয়ার আবাসস্থল। এই ব্যাকটেরিয়া এমন জায়গায় বেঁচে থাকে, যেখানে অক্সিজেন নেই।

এ বিষয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখেছেন, রক্তবর্ণের জলপ্রপাতে লোহার পাশাপাশি সিলিকন, ক্যালসিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম ও সোডিয়ামের কণা রয়েছে। প্রায় ২০ লাখ বছর আগে ওই অঞ্চলে বিশালাকার একটি হ্রদ ছিল। পরবর্তীকালে যা হিমবাহের নিচে চাপা পড়ে যায়। আলাস্কা ফেয়ারব্যাংক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে, এই রক্ত ঝরনা প্রবাহিত হচ্ছে প্রায় ১৫ লাখ বছর ধরে যা আসলেই বিস্ময়কর। পর্যটক এবং বিজ্ঞানীরা এই রক্ত ঝরনা দেখার জন্য ভিড় জমান উপত্যকায়। যদিও উপত্যকায় পৌঁছানোর রাস্তা খুবই দুর্গম। তবুও অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের জন্য আকর্ষণীয় অ্যান্টার্কটিকার সাদা বরফে ঢাকা এই রহস্যঘেরা রক্তের ঝরনাটি।

বর্তমানে আমাদের দেশে পাহাড়ি 'রক্ত ফল' নিয়ে হঠাৎ আলোচনার ঝড় চলছে। দূর থেকে মনে হতে পারে আঙুর ঝুলছে। আসলে তা নয়। এটি বুনো ফল। নাম 'রক্ত ফল'। ইংরেজিতে ব্লাড ফ্রুট। ফলটি পাহাড়িদের কাছে ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। চলতি মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি ৪০০ টাকার বেশি দরেও বিক্রি হয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজারে। কেন 'রক্ত ফল' আলোচনায়, ভেতরে উজ্জ্বল লাল রং অনেকটা রক্তের মতো তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হয়েছে।

এ ফলের মধ্যে আছে ভিটামিন সি, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-যা শরীরের জন্য উপকারী। কম ক্যালোরি, তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক বলে অনেকে প্রচার করছেন। চাকমারা বলে রসকো, ত্রিপুরারা তাইথাক। অন্য সম্প্রদায়েরও রয়েছে নিজস্ব সম্বোধন। কয়েক বছর ধরে বাড়ছে ফলটির চাহিদা। বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রাকৃতিক বনে ও বনের কাছের অনেক গ্রামে এ ফলের দেখা মেলে। পাশাপাশি ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং ত্রিপুরায় এ ফল পাওয়া যায়।

তবে এ ফলের বিষয়ে বাংলাদেশের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে নথিবদ্ধ কোনো তথ্য নেই বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দেখতে মনকাড়া এ ফলের স্বাদ টক ও মিষ্টির মিশেল। ভারতের পরিবেশ, বিজ্ঞান ও প্রকৃতি নিয়ে কাজ করা ডাউন টু আর্থ সাময়িকীর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রক্ত ফল মূলত প্রাকৃতিক বনে উৎপন্ন হয়। বনাঞ্চল কমে যাওয়ায় এ ফল দুর্লভ হয়ে পড়েছে। কারেন্ট সায়েন্স সাময়িকীর এক নিবন্ধে এ ফলের জাত চাষের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা সম্ভব বলে মত দেওয়া হয়।

২০১৮ সাল থেকে ফলটি রক্ষার জন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে। এর মধ্যে আন্দামানের জন্য সেখানকার সেন্ট্রাল আইল্যান্ড কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইসিএআর), উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য অঞ্চলের জন্য আইসিএআর গবেষণা কমপ্লেক্স ও ত্রিপুরায় কৃষি কলেজ গবেষণার কাজ করছে। শুধু সুস্বাদু ও 'পুষ্টিগুণের' মধ্যেই এই ফল সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন শিল্পে রং হিসেবে এ ফল কাজে লাগানো সম্ভব। ফলটি কাঁচা অবস্থায় সবুজ ও পাকলে লাল। খোসা ও বিচির মাঝখানের মাংসল অংশটা লাল রক্ত রঙের রসে ভরা। এ জন্যই এ ফলের এমন নাম। বছরে একবার ফুল হয়। ফল পাওয়া যায় এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের কৃষকদের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে এ ফল চাষ করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। 'রক্ত ফলে' থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ফাইবার বেশি থাকায় হজম ভালো হয়, কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক। ত্বক উজ্জ্বল ও হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করতে পারে। 'রক্ত ফলের' ফ্যাট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদযন্ত্রের জন্য সহায়ক।

সতর্কতা: বেশি খেলে পেট খারাপ বা ডায়রিয়া হতে পারে। লাল ড্রাগন ফল খেলে প্রস্রাব বা পায়খানার রং লালচে হতে পারে এটা স্বাভাবিক, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। যাদের অ্যালার্জি আছে, তারা সাবধানে খাবেন।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

এআই দিয়ে স্ট্রবেরির জাত উদ্ভাবন: জাপানের Culta এখন বিশ্ববাজারের দিকে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ফলের জাত উদ্ভাবন করে চুক্তিবদ্ধ চাষির মাধ্যমে ব্র্যান্ডেড ফল বিক্রি করা জাপানি স্টার্টআপ Culta অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে আলোচনা চালাচ্ছে; ২০৩২ সালের মধ্যে তাদের লক্ষ্য ৩ হাজার কোটি ইয়েন (১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার) আয়।

এজিফান্ডনিউজ ২৪১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
ফল

গৃহবন্দি সময় কাটে ফেসবুক-ইউটিউবে, ড্রাগন চাষে সফল ইব্রাহীম

করোনাকালে গৃহবন্দি ছিলেন মাগুরার মো. ইব্রাহীম। কাজের ব্যস্ততা ছিল না। অবসর কাটাতে ফেসবুক ও ইউটিউবে ঘুরে বেড়াতেন। একদিন ড্রাগন ফল চাষের একটি ভিডিও তার নজরে আসে। এরপর একের পর এক ভিডিও দেখতে থাকেন। ধীরে ধীরে ড্রাগন চাষের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। একসময় অনলাইনে দেখা সেই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে শুরু করেন চাষ

জাগো নিউজ ২৪১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
ফল

জ্যাম-জেলি নয়, এবার পেয়ারা দিয়ে বানান টক-মিষ্টি তরকারি

আমাদের দেশে পেয়ারা সাধারণত পাকা ফল হিসেবেই বেশি খাওয়া হয়। পাকা পেয়ারা কেটে খাওয়া, জ্যাম, জেলি কিংবা বিভিন্ন মিষ্টি পদে ব্যবহার-এসবই বেশ পরিচিত। কিন্তু পেয়ারা যে শুধু ফল হিসেবে খাওয়ার জন্য নয়, তা জানলে অনেকেই অবাক হতে পারেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাঁচা বা আধাপাকা পেয়ারা দিয়ে নানা ধরনের রান্না করার চল

জাগো নিউজ ২৪১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()