জীবাশ্ম জ্বালানির নির্গমনে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন দ্রুততর হওয়ায় পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিবেশব্যবস্থা 'টিপিং পয়েন্টে'র দিকে এগোচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন জার্মানির পট্সডাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইম্প্যাক্ট রিসার্চের পরিচালক ও জলবায়ু বিজ্ঞানী ইয়োহান রকস্ট্রম। মঙ্গলবার সাসটেইনেবিলিটি ইউরোপ কনফারেন্সে বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রকস্ট্রমের ভাষ্য, বিশ্বজুড়ে প্রবাল প্রাচীর এবং আমাজনের চিরহরিৎ বনের যে ক্ষতি হয়েছে, তা অনিয়ন্ত্রণযোগ্য ও অপূরণীয় হয়ে ওঠার একেবারে কাছে পৌঁছে গেছে। আটলান্টিক মহাসাগরের স্রোতব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ, বিশেষ করে ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে উষ্ণ পানি বয়ে পশ্চিম ইউরোপের জলবায়ু সহনীয় রাখা প্রধান স্রোতও ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে।
আগামী ৯ নভেম্বর শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘের কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলনের আগে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন। তাঁর মতে, সর্বশেষ বিজ্ঞান বলছে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বিশ্বের গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির সীমা পেরিয়ে যাবে, আর তাতে চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ও তীব্রতা বাড়ছে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশে রকস্ট্রমের পরামর্শ, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রকৃতি সংরক্ষণকে আলাদা বিষয় না ভেবে একটি সমন্বিত এজেন্ডা হিসেবে দেখতে হবে। কার্বন নির্গমন কমানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও সুপেয় পানির আধার পুনর্গঠনে বড় বিনিয়োগ করা উচিত।
পেট্রোল ও ডিজেলে ভর্তুকি অব্যাহত রাখারও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর মতে, জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি বৈদ্যুতিক যানবাহনের বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, আর প্রচলিত জ্বালানির গাড়ি পর্যায়ক্রমে বন্ধের নিয়ম শিথিল করতে যে করপোরেট লবিং চলছে, তা উদ্বেগজনক।
প্রতিবেদনটি একাত্তর টিভির পরিবেশ বিভাগের।
ছবি: Frankie Fouganthin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: একাত্তর টিভি





মন্তব্য
(০)